কুল চাষে ভাগ্য বদল – Ctgnews
ctgnew

কুল চাষে ভাগ্য বদল

বাউকুল বাগানে সুজন চাকমা

চাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি :: মিষ্টি স্বাদে টসটসে বাউকুলের চাষ এখন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জুড়ে। এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় সাজেকের অর্ধ-শতাধিক আদিবাসী পরিবারের ভাগ্য বদলে গেছে বাইকুল চাষে।

 

পাহাড়ের উঁচু নিচু জমিতে এবছর ব্যাপকহারে বাউকুল উৎপাদন হয়েছে।

এসব চাষীদের সার্বক্ষনিক দেখভাল করছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট ও পাহাড়ী কৃষি গবেষনা খাগড়াছড়ির কেন্দ্র ।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইহাট ডিপু পাড়ার সুজন চাকমার বাউকুল বাগানে গিয়ে দেখা গেছে ৫থেকে ১০ফুট উঁচু গাছে ঝুলছে পরিপুষ্ট বাউকুল। সবুজ-হালকা বাদামী রংয়ের এসব বাউকুলের ভারে ডাল মাটি ছুঁই ছুঁই।

সুজন চাকমার ৮০শতাংশ জায়গাজুড়ে ১৮৫টি বাউকুল গাছ রয়েছে। সবক’টি গাছেই ফলন এসেছে। বড় আকারের এই বাউকুল’র একেকটির ওজন ৩০থেকে ৫০গ্রাম। স্বাদেও বেশ মিষ্টি।

শুধু সুজন চাকমা নন, সাজকের ডিপু পাড়া, গুচ্ছ গ্রাম নোয়াপাড়া, গোলকাকমা ছড়া, মাচালং এ্যাগোজ্যাছড়ি এলাকায় তাঁর মতো আরও অর্ধ-শতাধিক বাউকুলচাষী উৎপাদন রয়েছেন। এ বছর এই এলাকায় বাউকুলের ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এই মৌসুমে একেকজন চাষী পঞ্চাশ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বাউকুল বিক্রি করেছেন।

সুজন চাকমা সিটিজিনিউজকে জানান, ২০১৪সালে খাগড়াছড়ির এক নার্সারী থেকে পঞ্চগড়ের বাউকুলবীজ নিয়ে আসেন। বলেন, ‘৮০শতাংশ জায়গায় আমি ১৮৫টি চাড়া রোপন করি। ২০১৫সাল থেকে বাগানে ফল আসা শুরু হয়। প্রথম বছরেই বাগান থেকে ২৫থেকে ৩০হাজার টাকার মত বাউকুল বিক্রি করেছি। আর এই বাগান করতে প্রথমে আমার ১৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে’।

ইতোমধ্যে মাত্র অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে আয় হয়েছে ১লাখ ৭হাজার টাকা। প্রতি কেজি বাউকুল প্রথমে ৮০টাকা ও এখন ৬০টাকা করে বিক্রি করেছি।

খাগড়াছড়ির বাউকুল চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, রাজধানী ঢাকাতেও যাচ্ছে । সুজন চাকমার মত ডিপু পাড়ার শান্তিময় চাকমা, মিলন কার্বারী, খোকন চাকমা তাদের বাউকুল চাষে অভূতপূর্বক সাফল্য হয়েছে।

কম পুজিতে লাভ বেশি হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। বেশি লাভের আশায় জুম চাষ বাদ দিয়ে বাউকুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে পাহাড়ি সাজেক অঞ্চলের সাধারন কৃষকরা।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা সিটিজিনিউজকে বলেন, সাজেকে কয়েক বছর ধরে বাউকুল ফলছে। প্রতিবছর ফলন বেড়েই চলছে। এলাকায় মিশ্র ফলজ বাগানেরও প্রয়োজন রয়েছে সরকারি সাহায্য পেলে কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, উপজেলার ৫-৬ একর জমিতে বাউকুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাজেকে ৩-৪একর জমিতে কৃষকেরা আমাদের কৃষি পরামর্শ ক্রমে এই চাষ করে। উপজেলার সাজেকেই প্রথম বাউকুল চাষ শুরু হয় এবং সেখানের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন বেশী হচ্ছে।

হাকিম

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

47 queries in 1.221 seconds.