খাতুনগঞ্জ ডুবেছে পানিতে, ছাই হলো আগুনে – Ctgnews
ctgnew

খাতুনগঞ্জ ডুবেছে পানিতে, ছাই হলো আগুনে

আবু আজাদ :: ‘জোয়ারের পানিতে ডুবে আবার ভেসে উঠার আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, কিন্তু আগুন আমার সেই আশাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এখন আমি কিসের আশায় বাঁচবো?’- আগুনে সর্বশান্ত হয়ে এভাবেই নিজের দুঃখের কথা জানাচ্ছিলেন খাতুনগঞ্জের জিলানী রাইচমিলের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন আহমেদ।

এ আর্তনাদ শুধু নাসির উদ্দিনের নয়, এ কান্না চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের শত শত ব্যবসায়ীর। গত তিন মাসে দুর্দশা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়াছে না চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে শতকোটি টাকার ক্ষতির পর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজারের একাংশ।

গেল শনিবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত তিনটার দিকে চালপট্টির পুরাতন রাস্তা এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনটি রাইচ মিল, চারটি চালের আড়ত, পাঁচটি মুদির দোকান, একটি টিভি ফ্রিজ মেরামতের দোকান ও একটি চায়ের দোকানসহ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান। আগুনে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন ১৬ ব্যবসায়ী। এছাড়া আগুন থেকে বাঁচতে দুই তলা থেকে লাফ দিলে মুসলিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিকট অতীতে চাক্তাই খাতুনগঞ্জে এ ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এতে নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাক্তাইয়ের নিকটবর্তী লামার বাজার ফায়ার স্টেশনে একাধিকবার ফোন করার পরেও তারা সময় মতো আসেনি। শুরুতে পদক্ষেপ নেয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম সিটিজিনিউজকে বলেন, ‘চালপট্টি থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে ফায়ার স্টেশন। খবর দেয়ার পর তারা যথাসময়ে এলেও কাজ শুরু করতে পারেনি। তাদের গাড়িতে পানি ছিল না, যাও আমরা পানির ব্যবস্থা করলাম দেখা গেল তাদের পানি তোলার যন্ত্রটি নষ্ট। ঘণ্টাখানেক পরে আগ্রাবাদ ও নন্দনকানন ফায়ার সার্ভিস থেকে গাড়ি এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।’

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুণ্ড সিটিজিনিউজকে বলেন, ‘এটি ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতপ্রসূত অভিযোগ, এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আমরা অগ্নিকাণ্ড শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করে দিই। পাম্প চালু হতে দেরি হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না। আমাদের গাড়িতে এমনিতেই ৪ হাজার ৬ শত লিটার পানি সবসময় মজুদ থাকে।’

চট্টগ্রাম রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্ত দাশগুপ্ত সিটিজিনিউজকে বলেন, আড়ত ও চালের মিলে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার বস্তা চাল ছিলো। এমনিতে নানা কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এ ঘটনায় তার ওপর আরও প্রভাব পড়বে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘গত জুলাই মাসে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে প্রায় তিনশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তার মধ্যে চাক্তাইয়ে ক্ষতি হয় শতকোটি টাকারও বেশি। ফলে ব্যবসায়ীদের রয়েছে মূলধন সংকট। অনেক ব্যবসায়ী গত মাসের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে শুরু করতে ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করেছেন। চাক্তাইয়ের আগুনে সেই ক্ষতিতে নতুন মাত্রা যোগ হলো। একের পর এক বিপর্যয়ে ব্যবসায়িরা এখন প্রায় দিশেহারা।’

সিটিজিনিউজ/এজেড

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

52 queries in 2.230 seconds.