প্যারিসের ডেনিম মেলায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর চট্টগ্রামের গ্র্যাজুয়েট দারিমারা – Ctgnews
ctgnew

প্যারিসের ডেনিম মেলায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর চট্টগ্রামের গ্র্যাজুয়েট দারিমারা

সাফি-উল হাকিম ::  গ্র্যাজুয়েট দারিমা,মাহজেবিন,তানজিল স্বপ্ন দেখেন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বাণিজ্যমেলায় তাদের তৈরি পোশাক পৌঁছবে একদিন। ‘ডেনিম বাই পিভি’ নামে এই বাণিজ্য মেলাকে সর্বোচ্চমানের মেলা হিসেবেই গণ্য করা হয়। যেখানে বিশ্বের ৮৫টি নামি ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। যে মেলায় বাংলাদেশ থেকে এবারই প্রথমবারের মতো দেশের সর্ববৃহৎ জিন্স উৎপাদনকারী চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ অংশ নেয়।

সস্তা পণ্যের উৎপাদক হিসেবেই চেনা বাংলাদেশের দুর্নাম ঘুচাতে যেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রেতার সামনে নিজেদের পণ্য উপস্থাপন করা হয়। চিটাগাং বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি (সিবিআইএফটি)’র এ বছর প্রথম ব্যাচের ২৬ জন শিক্ষার্থী মধ্যে প্রথম হয়েছেন দারিমা ফাইরুজ স্বর্ণা। প্রথম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন তার বন্ধু হুমায়রা মাহজেবিন, তানজিল আহমদও। বিশ্বের বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ড, রিটেইল শপ, ডিজাইন হাউস, বায়ার এসব নিয়েই তাদের কাজ।

চট্টগ্রাম ক্লাবে ১৫ এপ্রিল ( শনিবার) ২০১৭ দারিমা ফায়রুজ স্বর্ণা ও হুমায়রা মাহজেবিনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন সিটিজিনিউজের প্রতিবেদক ।

দেশের সর্ববৃহৎ জিন্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপে এখন তারা ইন্টার্নিং করছেন। দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জিন্সের সর্বোচ্চ গুণগতমানের পণ্যসামগ্রী নিয়ে পড়াশুনা করে নিজেদের সবসময় ব্যস্ত রাখেন।
কেউ চাইলেই ফ্যাশন ডিজাইনের উপর ডিগ্রী নিতে পারে না, তার জন্য কঠিন সাধনা ও চর্চার বিষয় রয়েছে। থাকতে হবে ইস্পাত কঠিন মনোবল। যার প্রথম ধাপ শেষ করেছেন তারা। একসময় তাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে সবাই। বাংলাদেশকে সস্তা পণ্যের উৎপাদক হিসেবে চিনবে না। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রেতার সামনে নিজেদের পণ্য উপস্থাপন করবে এই স্বপ্নই স্বর্ণা, মেহজাবীন, তানজিলের চোখে।

গত শনিবার (১৫ এপ্রিল) ২০১৭  নগরীর চট্টগ্রাম ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউটের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী । অনুষ্ঠানে কোর্স সম্পন্নকারী ২৬ শিক্ষার্থীদের উৎসমুখর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় (পাসিং আউট) জানানো হয়। দেয়া হয় গ্র্যাজুয়েট স্মারক। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এপারেল ম্যানুফ্যাকচার এন্ড টেকনোলজি (এএমটি)-র শিক্ষার্থী রয়েছেন ১৪ জন। বাকীরা ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি (এফডিটি) বিভাগের। ২৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে এএমটিতে ২ জন এবং এফডিটি’তে ৪ মহিলা শিক্ষার্থী রয়েছেন।

২০১৩ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর সফলভাবে চার বছরের অনার্স সম্পন্ন করা এই শিক্ষার্থীগণ মাস্টার্স করতে চাইলে ঢাকায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)- তে ভর্তির সুযোগ পাবেন। সিবিআইএফটি’র গভর্নিং বডির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আমাদের অনেক স্বপ্নের ফসল। আর প্রথম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটগণ হলেন এই প্রতিষ্ঠানের এক একজন এম্বেসেডর।

বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সিবিআইএফটি’র গভর্নিং বডির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান,বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুজাফ্ফর ইউ সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানেতিন ঘন্টা ব্যাপী চিটাগাং ক্লাব অডিটরিয়ামে সিবিআইএফটি’র শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিদায় অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম ক্লাবের বলরুমে বসে সিটিজিনিউজের এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় গ্র্যাজুয়েট স্বর্ণা, মেহজাবীন, তানজিলের সাথে। এসময় তারা তাদের স্বপ্নের কথা জানান। ফ্যাশন নিয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবনের কথা জানান। সর্বপরি ফ্যাশন ডিজাইনে যে জ্ঞান তারা অর্জন করেছেন তা কিভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায় সে গল্পই ছিল পুরো সাক্ষাৎকার জুড়ে।

দারিমা ফাইরুজ স্বর্ণা :

ক্যান্টেনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন দারিমা ফাইরুজ স্বর্ণা। এইচ এসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে বাবার কথামত ভর্তি হন এপারেল ম্যানুফ্যাকচার এন্ড টেকনোলজি (এএমটি)-র চারবছরের অনার্স কোর্সে।
‘বাংলাদেশের মধ্যে ডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা একে বারেই নতুন। একটা সময় যে ডিজাইন, ফ্যাশন নিয়ে গল্প শুনতাম এখন সে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশুনা করছি ভাবতেও অবাক লাগে।’ জানান দারিমা ফাইরুজ স্বর্ণা। বলেন ‘পাড়া প্রতিবেশি, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে অনেকেই বলতো এটা আবার কেমন পড়াশুনা। একসময় হতাশা কাজ করতে থাকে। পরে পড়ালেখায় মনোযোগ দিলে ফ্যাশন ডিজাইনকে আপন করে নেই। এখন ভাবতেই ভালো লাগে।’
ইচ্ছে আছে বিশ্বের বৃহৎ ডেনিম মেলায় অংশ নিয়ে নিজের তৈরি পোশাক উপস্থাপন করে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে পরিচয় করিয়ে দেব। ইচ্ছের প্রসঙ্গ উঠতেই এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন দারিমা ফাইরুজ। ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে আরও বেশি পড়াশুনা করার ইচ্ছে রয়েছে তার। দুই মাস হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ জিন্স উৎপাদনকারী চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপে ইন্টার্র্নি করেছেন।
হুমায়রা মাহজেবিন :

ইস্পাহানী কলেজ থেকে এইচ এসসি শেষ করে মায়ের কথামত ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি (এফডিটি) বিভাগের ভর্তি হন। এবছর গ্র্যাজুয়েটদের স্বারক তার হাতেও উঠেছে। স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশি খাদি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। খাদি কাপড়ে নতুন নতুন আইডিয়া এনে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রথম দিকে ক্লাস করতে একটু খারাপ লাগতো। পরে টিচারদের অনুপ্রেরণায় আস্তে আস্তে পড়াশুনায় মনোযোগ দেই । একটি সময় ডিজাইন- ফ্যাশন নিয়ে পড়ালেখার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই। তবে প্রাক্টিক্যাল ক্লাসটা আমাদের একটু কম হয়েছে। কিছু টুলস কম থাকায় এই সমস্যা। অবশ্যই এখন জুনিয়রা সে জায়গাটিতে অভাববোধ করবে না। হুমায়রাও ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপে ইন্টার্র্নি করেছেন।

তানজিল আহমেদ :

গাছ থেকে তুলা সংগ্রহের পর সুতা তৈরি পরিশেষে মানুষের শরীরে কাপড় জড়িয়ে দেওয়ার কাজটিতে তানজিল আহমেদ ভালোই রপ্ত করেছেন। স্বপ্ন দেখেন এপারেল স্পেসিয়ালিস্ট হওয়ার। দশম শ্রেণিতে পড়াশুনার সময় পাঠ্য বইয়ে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে প্যাসেজ পড়ে এই বিষয়ের উপর পড়ার আগ্রহ হয়। তখন থেকেই ভাবতে থাকেন কিভাবে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ালেখা করা যায়। এপারেল ম্যানুফ্যাকচার এন্ড টেকনোলজি (এএমটি)-র চারবছরের অনার্স কোর্স শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েট স্মারক হাতে পাওয়ার পর নিজেকে সেই ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আবিষ্কার করেন। ফ্যাশন নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার ।

———
জেইউএস

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

52 queries in 0.962 seconds.