বনকন্যা ড.শাহীন আক্তার – Ctgnews
ctgnew

বনকন্যা ড.শাহীন আক্তার

সাফি-উল হাকিম : সাগর বুকে বিপদের বন্ধু হয়ে অবিরাম ছুটে চলা মৎসকন্যার মতন প্রকৃতির বুকে চিরসবুজ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবিরাম ছুটে চলেছেন বনকন্যা ড. শাহীন আক্তার। যার হাত ধরে বন বিষয়ক একমাত্র জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) অর্থনৈতিক ও গবেষণায় নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। দেশি-বিদেশি সাইন্টিফিক জার্নালে প্রকাশিত ২৫টি গবেষণা প্রবন্ধ গবেষণা ক্ষেত্রকে করেছে আরোও পরিশিলীত ও প্রাচুর্য।

৩০ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কর্মকর্তা, বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সর্বশেষ মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা (বনজ সম্পদ উইং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তিতে পরিচালক পদের রাজমুকুটি পড়িয়ে দেওয়া হয় কর্মবীর মানুষটির মাথায়।

উচ্চকণ্ঠের অধিকারী এই নারী গবেষক একাধারে নারীমুক্তি অগ্রগতি ও প্রগতির আন্দোলনের মহীয়সী হয়ে এখন সহকর্মী শুভাকাঙক্ষীদের কাছে বেগম রোকেয়ার উত্তরসূরি হয়ে উঠেছেন।

মঙ্গলবার(১৬ মে ২০১৭ইং) বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), চট্টগ্রাম এর পরিচালকের কক্ষে সিটিজিনিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারটির বিশেষ অংশ পাঠকের কাছে তুলে ধরা হল।

ইতিমধ্যে ড. শাহীন আক্তানের নেতৃত্বে বিএফআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘সহজ পদ্ধিতিতে বনজ বৃক্ষ প্রজাতির চারা উৎপাদন’, ‘কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ ও বাঁশ ঝাড় ব্যবস্থাপনা’, ‘ওষধি গাছের চাষ পদ্ধতি’, ‘গাছের রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনা’, ‘কাঠ,বাঁশ ও ছন সংরক্ষণ পদ্ধতি’, ‘হাওড়ের হিজল, তমাল ও ভ্রাটিগ্রাস নার্সারী ও প্লান্টেশন মেথড’ ইত্যাদি

বিএফআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত এসক পদ্ধতি সম্পর্কে ড. শাহীন আক্তার বলেন, ‘এলজিইডি এর সাথে বিএফআরআই এর সমঝোতা চুক্তির আওতায় এরূপ পর্যায় ক্রমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী কৃষকগণকে প্রশিক্ষিত করে প্রকল্পের আওতাধীন হাওড় অঞ্চলের মোট ১,১৪,২৪০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে বিএফআরআই এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সমূহ সম্প্রসারিত করা হবে। এতে করে হাওড় অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদেও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মরত সরকারের অন্যান্য বিভাগসমূহও একইভাবে বিএফআরআই এর প্রযুক্তি সমূহ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালাতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বনগবেষণা ইনস্টিটিউট সব রকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর আউটার স্টেডিয়ামে ২০দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই বনগবেষক। বৃক্ষমেলা সম্পর্কে বলেন, এবারের বৃক্ষ মেলায় ৭০লাখ টাকার গাছের চারা বিক্রী হয়েছে। এই মেলায় একটি শ্বেত চন্দনের চারা বিক্রী হয়েছে এক লাখ টাকায়।

এবারের মেলায় গত ২০দিনে প্রায় ৭০লাখ টাকার বিভিন্ন ফসল,বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি হয়েছে।তিনি আরো বলেন, “বাহাদুর নার্সারীর একটি শ্বেত চন্দন গাছের চারা বিক্রি হয়েছে এক লাখ টাকা মুল্যে। এ ছাড়া বাহাদুর নার্সারী মেলায় ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতীর গাছের চারা বিক্রি করেছে।” ওই মেলায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন নগরীর ডিসি হিলের বাহাদুর নার্সারী। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে কসমো নার্সারী এবং চন্দনগর বনফুল নার্সারী। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ নার্সারী।

উদ্ভিদরাজির কারণেই টিকে আছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এই ধারণাকে মনে প্রাণে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন এই গবেষক। গবেষণার কাজ চালাতে ছুটে গেছেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চল।

ওই সব এলাকার গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছেন ওই সব বনাঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হাজারীখিল, যেখানে দেখা মিলেছে ১২৩ প্রজাতির পাখি। রঙ-বেরঙের এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন প্রায় কাঠময়ূর ও মথুরা। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম পেঁচাও।

বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে চিরসবুজ এই বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবে বৈচিত্র্যময়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক গবেষণায় পাখির এসব প্রজাতির সন্ধান পায় ড. শাহীন আক্তারের নেতৃত্বে থাকা গবেষক দল।

এ অভয়ারণ্যে নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে শীতকালে যোগ দেয় পরিযায়ী পাখির দল। এদের বিচরণে চিরসবুজ বন পরিণত হয় পাখিরই আলাদা এক রাজ্যে। বনের খাদ্যশৃঙ্খলে স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখা, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বীজের বিস্তারে এ পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন পাখি বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের বিপন্নপ্রায় পাখিরও নিরাপদ আবাসস্থল হবে এ অভয়ারণ্য।

শাহীন আক্তার বলেন, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার যেসব প্রাকৃতিক বনভূমিকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের ‘হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।’ ফটিকছড়ি উপজেলার রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চলে প্রায় ১১৮ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমিকে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেয় সরকার। এখানকার উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে বানর, হনুমান, মায়া হরিণ, বুনো ছাগল, চিতা বিড়াল ও মেছো বাঘ। মিশ্র চিরসবুজ বনসমৃদ্ধ এ অভয়ারণ্যের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, কড়ই, মেহগনি ও চুন্দুল। বিখ্যাত রাঙ্গাপানি চা বাগান এ অভয়ারণ্যের পাশেই অবস্থিত। মূলত এখানকার উদ্ভিদরাজির কারণেই টিকে আছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বিচিত্র এসব পাখি। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি চিরসবুজ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই প্রকৃতির অকৃত্রিম বন্ধু পাখির জন্য সব অভয়াশ্রম নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান তারা।

ডা. শাহীন আক্তার বন গবেষক হলেও পাখির প্রতি তার রয়েছে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। গাছ-পাখি একে অপরের পরিপূরক জানিয়ে এই গবেষক বলেন, ‘হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পাখির জন্য খুবই সমৃদ্ধ একটি বন। এখানে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। কিন্তু রয়েছে বিচিত্র আর বিপন্ন প্রজাতির পাখি। পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে বনের পাখি। ক্রমাগত বনভূমি উজাড় করার ফলে আবাসস্থল হারাচ্ছে পাখি। ফলে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বেশকিছু পাখি এখন বিপন্ন। এতে ভারসাম্য বিঘিœত হচ্ছে বনের প্রতিবেশ ব্যবস্থায়। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বড় পরিবর্তন এসেছে অতিথি পাখির জীবনধারায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে শাহীন আক্তার বলেন, সম্প্রতি পাখিগুলো শীতকালে প্রজননক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়া উষ্ণ দেশগুলোয় ভ্রমণ করতে যাচ্ছে আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক আগেই। ‘হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। সম্প্রতি আমাদের পরিচালিত একটি গবেষণাকর্মের আলোকে বিরল ও বিপন্নপ্রায় প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদেশী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থলও গড়ে তোলা হবে এ অভয়ারণ্যে। এছাড়া ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও পাখিপ্রেমী মানুষের এ অভয়ারণ্যের পাখি-সম্পর্কিত তথ্য জানার পাশাপাশি পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি হবে।
হাজারীখিল অভয়ারণ্যের আরো যেসব পাখির দেখা মেলে তার মধ্যে রয়েছে— খুদে কাঠঠোকরা, বড় বসন্তবাউড়ি, নীলকান্ত, বেঘবৌ, ছোট বসন্তবাউড়ি, তিত মাছরাঙা, সাদা বুক মাছরাঙা, মেঘ হও মাছরাঙা, সবুজ সুইচোরা, খয়েরি মাথা সুইচোরা, নীল লেজ সুইচোরা, বড় কানাকুকা, বউ কথা কও, কোকিল, সবুজ কোকিল, সুরেলা কোকিল, তোতা, টিয়া, আবাবিল, নাক কাটি, লক্ষ্মীপেঁচা, খুরলে পেঁচা, ডোরা কালি পেঁচা, কালো পেঁচা, জালালি কবুতর, তিলা ঘুঘু, রাম ঘুঘু, ধলা ঘুঘু, ছোট হরিয়াল, কমলা বুক হরিয়াল, হলুদ পা হরিয়াল, ডাহুক, বনমোরগ, জয়াড কাঠঠোকরা, বর্মি কাঠঠোকরা, সবুজ কাঠঠোকরা, সোনালি কাঠঠোকরা, মেটে টুপি কাঠঠোকরা। আরো আছে— জলপিপি, হট্টিটি, মেটে মাথা হট্টিটি, বেশরা, তিলা ঈগল, ভুবন চিল, শঙ্খ চিল, ছোট মাছ মুরাল, ছোট বাজ, পানকৌড়ি, গো-বক, সাদা বক, মাইজলা বক, কানি বক, ওয়াক, শামুক খোল, ধূসর বুক টুনি, সাধারণ বন টুনি, পাতা বুলবুল, সবুজ বুলবুল, তাত শালিক, ঝুঁটি শালিক, গোবরে শালিক, কাঠশালিক, পাতিকাক, দাঁড়কাক, কুটুম পাখি, সবুজ হাঁড়িচাছা, ফিঙ্গে, কেশরাজ, ভীমরাজ, ছোট ফিঙে, হলদে পাখি, ফটিকজল, লাটোরা, আলতাপরী, লেজ নাচানি, বাদামি কসাই, বড় কাবাশি, চামচ কসাই, মেটে পিঠ কসাই, সিপাহী বুলবুল, কালো বুলবুল, ধূসর বুলবুল, কালো মাথা বুলবুল, শ্যামা, কালোঘর রাজন, দোয়েল, ফুটফুটি চটক, নীল শিলাদামা, শিলাদামা, লাল বুক চটক, মেটে মাথা ছোট চটক, নীলকান্তমণি চটক, এশীয় খয়েরি চটক, লেজ চেরা পাখি, টুনটুনি, সাত ভায়লা, সাদা মুকুট পাঙ্গা, পাঙ্গা, কালচে ফটক, ম্যাকারিন, বেগুনি বুক মৌটুসি, নীল টুনি, মৌচাটুনি, সিঁদুরে লাল মৌটুসি, বাধা টুনি, দাগি সাঁতারে, লাল ফুলঝুরি, তিত পাখি, চড়ুই পাখি, বাবুই, মাঠ চড়াই, তিলা মুনিয়া, বন খঞ্জন, সাদা খঞ্জন, ধূসর খঞ্জন ও হলদে মাথা খঞ্জন।

সংক্ষেপে বিএফআরআই এর পরিচিতি:
পূর্বের নাম: ফরেস্ট প্রোডাক্টস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (এফ আর এল) ।

বর্তমান নাম: বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ।

স্থাপিত : ১৯৫৫ খ্রি.
অবস্থান:সদর দপ্তর চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় অবস্থিত।

আয়তন: ১১০০ হেক্টর (প্রধান কার্যালয় ২৮ হেক্টর ও ২১ টি ফিল্ড স্টেশন ১০৭২ হেক্টর) ।

বিভাগ সমূহ :বন ব্যবস্থাপনা উইংয়ের অধীনে ১১টি বিভাগ, বনজ সম্পদ উইংয়ের অধীনে ০৬টি বিভাগ ও সাধারণ সেবা বিভাগ ২টি, মোট ১৯টি বিভাগ নিয়ে আছে বিএফআরআই গঠিত।

ফিল্ড স্টেশন: ২১ টি ফিল্ড স্টেশন, ১০৭২ হেক্টর ।

গবেষণা বিভাগ সমূহ
বন ব্যবস্থাপনা উইং, বনজ সম্পদ উইং,বন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, বন রসায়ন বিভাগ, বন অর্থনীতি বিভাগ, মন্ড ও কাগজ বিভাগ ,বন ইনভেন্টরী বিভাগ, কাষ্ঠ শুষ্কিকরণ ও শক্তি নিরূপণ বিভাগ , বন রক্ষণ বিভাগ (বন্যপ্রাণী শাখাসহ), কাষ্ঠ যোজনা বিভাগ, ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগ, কাষ্ঠ সংরক্ষণ বিভাগ, গৌণ বনজ সম্পদ বিভাগ, কাষ্ঠ কারিগরী ও প্রকৌশল বিভাগ, প্লান্টেশান ট্রায়াল ইউনিট বিভাগ, বীজ বাগান বিভাগ, সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগ, সাধারণ সেবা বিভাগ সমূহ, সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ, মেরামত প্রকৌশল বিভাগ, ঊন গবেষণার উল্লেখযোগ্য সুযোগসুবিধা সমূহঃ

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফল বিতরণ বা সম্প্রসারনের নিমিত্তে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সব সুযোগ-সুবিধা ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান সকলের জন্য উম্মুক্ত।

কতিপয় সুযোগ-সুবিধাঃ

লাইব্রেরি :  বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এর লাইব্রেরী বন বিষয়ক একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। এখানে ১২,০০০ এর অধিক বই, বুলেটিন এবং মনোগ্রাফ রয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত ভাবে ১২ টি স্থানীয় ও ৭৯টি আন্তর্জাতিক জার্নাল/সাময়িকী পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ ও বিনিময় করা হয়।

হারবেরিয়ামঃ
বিএফআরআই হারবেরিয়ামে এ পর্যন্ত প্রায় ২১০০০টি উদ্ভিদ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জাইলেরিয়ামঃ
বিএফআরআই জাইলেরিয়ামে অদ্যাবধি ৬০০ স্থানীয় ও ১৯০০ বিদেশী কাঠের নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আরবোরেটামঃ
বিএফআরআই আরবোরেটামে এ পর্যন্ত ৬০টি দেশী এবং ২০ টি বিদেশী বৃক্ষ প্রজাতি এবং ১০টি বেত প্রজাতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অনেকগুলো ঔষধি (বীরুৎ , গুল্ম ও বৃক্ষ) প্রজাতি দ্বারা আরবোরেটাম সমৃদ্ধ।

বন কীট পতঙ্গ ও ছত্রাকের সংগ্রহ শালাঃ
দুই হাজার ছত্রাক ও ৬০০০ কীট পতঙ্গের নমুনা যথাক্রমে ছত্রাক সংগ্রহ শালা ও কীট পতঙ্গ মিউজিয়ামে সংগ্রহ করা হয়েছে।

বন তাত্তিবক মিউজিয়ামঃ
বিএফআরআই মিউজিয়ামে কাঠের বিভিন্ন প্রকার ব্যবহার এবং গুরম্নত্বপূর্ণ গবেষণা কাজ সমূহ প্রদর্শিত হয়।

ব্যাম্বুসেটামঃ
বিএফআরআই ক্যাম্পাসে দেশের একমাত্র ব্যাম্বুসেটাম রয়েছে। এখানে ২৮ প্রজাতির বাঁশ সংরক্ষিত আছে।

——–
এইচএম

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

49 queries in 1.307 seconds.