‘বন্দরনগরীর ভাঙা সড়কে নাগরিক বিড়ম্বনা’ – Ctgnews
ctgnew

‘বন্দরনগরীর ভাঙা সড়কে নাগরিক বিড়ম্বনা’

বায়েজিদ থেকে অক্সিজেন সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন । ছবি : সিটিজিনিউজ

আবু আজাদ  :: সড়কে বিশাল গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে গর্ত রূপ নিয়েছে ছোটখাটো নালার। গর্তের গভীরতা কতটুকু, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। পানিতে একাকার চারপাশ। অনেকটা অনুমানের ওপর ভর করে চালকেরা গাড়ি নামিয়ে দিচ্ছেন সেই গর্তে। কখনো গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম, কখনো আটকে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

এ চিত্র নগরীর মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন সড়কের। রোববার সরেজমিনে এই দৃশ্য দেখা যায়। ভাঙা সড়কের যন্ত্রণায় এখন চালক-যাত্রীদের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন নয়, সড়কের এই বেহাল দশা পুরো চট্টগ্রাম নগরী জুড়ে। প্রায় প্রতিটি ভাঙা সড়ক আর যানজট ভোগাচ্ছে যাত্রীদের।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী নগরীতে ১১০০ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এই ১১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৩০ কিলোমিটার রাস্তা এবারের বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, ডিটি রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, সিডিএ এভিনিউ রোড, আরাকান রোড, হাটহাজারি রোড, বায়েজিদ বোস্তামী রোড, কাপাসগোলা রোড, খাজা রোড, মিয়াখান রোড ও হালিশহর রোড।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর নয়াবাজার থেকে ফইল্যাতলি বাজার পর্যন্ত সড়কের উপর বেশি গর্তের স্থানে খুঁটি বসানো হয়েছে। যাতে পানির মধ্যে গাড়ি চালকরা ওদিকে না যায়। পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের শান্তিবাগ থেকে বেপারিপাড়া পর্যন্ত এবং মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত রোডটির অবস্থা বেশি করুণ।

এছাড়া ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার রোড, চকবাজার ধুনিরপুল, হালিশহর রোডের নয়াবাজার থেকে ফইল্যাতলি বাজার পর্যন্ত, স্ট্র্যান্ড রোডসহ প্রায় সব রোডেই গর্ত রয়েছে। এক মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। প্রতিদিন এসব গর্তে আটকা পড়ছে গাড়ি। ঘটছে দুর্ঘটনাও।

সড়কগুলোতে বছরের পর বছর ধরে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও সিডিএর অপরিকল্পিত সমন্বয়হীন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের খোঁড়াখুঁড়ির ফলে দীর্ঘ দুর্ভোগের পাশাপাশি বৃষ্টিতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে এসব সড়কে। খানাখন্দে পড়ে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। প্রতিদিনই আহত হচ্ছেন অসংখ্য যাত্রী ও পথচারী।

নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘রাস্তাটা পার হতে বড়জোর এক মিনিট লাগে। এই গর্তের কারণে আধাঘণ্টার ওপর গাড়ীতেই বসে আছি। প্রায় দুই মাস ধরে এই অবস্থা চলছে। কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘প্রতিটি মোড়ে সড়ক ভেঙেছে। তারপরও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। আর এই বর্ষাতেও খোঁড়াখুঁড়ির যেন শেষ হচ্ছে না।’

রাস্তা খারাপ হওয়ার বিষয়ে জানিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর ইমাম বলেন, ‘বিটুমিনের রাস্তায় পানি জমার কারণে রাস্তা খারাপ হচ্ছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাস্তার উপরে পানি জমা বন্ধ না করলে রাস্তা ভাঙ্গার হার বন্ধ করা যাবে না।’

অধিক বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের কারণে নগরীতে সৃষ্টি জলাবদ্ধতায় রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বর্ষা শেষের দুই মাসের মধ্যে পুরো নগরীর দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখবে নগরবাসী। পাইপ লাইনে থাকা প্রকল্প ও সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পুরো নগরীর সব রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে। আর এখন পানি নামার জন্য রাস্তার পাশে নালা তৈরি করা হবে। এতে পানি জমে আর রাস্তাগুলো নষ্ট হবে না এবং অনেক রাস্তা উঁচু করা হবে।’

সিটিজিনিউজ/এজেড

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

53 queries in 1.219 seconds.