বিদেশের বড় বড় শপিং মলে সাদিয়ার তৈরি বুটিক – Ctgnews
ctgnew

বিদেশের বড় বড় শপিং মলে সাদিয়ার তৈরি বুটিক

রেজাউল করিম : নিজে কিছু করার স্বপ্ন। ইচ্ছে, অধ্যাবসায় আর কাজের প্রতি একাগ্রতা। এই গুণাবলী যার ভেতর থাকে তার সাফল্য সুনিশ্চিত- এমনই উদাহারণ চট্টগ্রামে ইসরাত সাদিয়া চৌধুরী। বুটিকের পোশাক বানিয়ে দেশ ছাড়িয়ে খ্যাতি ছড়িয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সাদিয়ার তৈরি ও ডিজাইন করা পোশাক বিক্রি হয় অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় শপিং মলে। পোশাক যায় জাপান, ইউএসএ মধ্যপ্রাচ্যেও।

সাদিয়া শুরু করেছিলেন নিজের বাসা থেকে মাত্র একজন কর্মী সাথে নিয়ে। এখন চট্টগ্রাম ইপিজেডে তার নিজের ফ্যাক্টরী। কর্মী সংখ্যা ১৫ জন। মাত্র তিন বছর আগেও লোকসান গুনে বুটিকের ব্যবসা শুরু করলেও এখন প্রতিমাসে কর্মীদের বেতনই দেন দেড় লাখ টাকা। এর পরও প্রতিমাসে মুনাফা থাকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। ইসরাত সাদিয়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একজন সফল বুটিক ডিজাইনার ও ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে মাত্র তিন বছর সময়ে।

ইসরাত সাদিয়া চৌধুরী। চট্টগ্রামের বড় শিল্পপতি বাবার আদুরে কন্যা সন্তান। পড়া লেখা করেছেন চট্টগ্রামের স্কলাস্টিকা স্কুলে। এর পর ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে শেষ করেছেন এসিসিএ কোর্স। ইংরেজী মাধ্যমের এই মেধাবী ছাত্রীর হয়তো কোন কর্পোরেট হাউজ কিংবা ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা হওয়ারই কথা ছিলো। কিন্তু চাকুরি কিংবা বাবার ব্যবসা কোনটাই আকর্ষন করেনি সাদিয়াকে।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ইসরাত সাদিয়া চৌধুরী বলেন, আমি সব সময় নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি। নিজের পায়ে নিজেই দাড়ানোর স্বপ্ন আর নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর তীব্র আকাঙ্খা থেকেই আমি শুণ্য থেকে শুরু করেছি। সাদিয়া বলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলে এসিসিএ করতে করতে করতেই পোষাক ডিজাইন এবং বুটিকসের ব্যবসার বিষয়টি মাথায় আসে। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে শুধুমাত্র একজন কর্মী নিয়ে ঘরে বসেই পোষাকে এম্ব্রয়ডারী ডিজাইনের কাজ শুরু করি। এই সময় ছোটখাটো অর্ডারের কিছু কাজ পেলেও বাণিজ্যিকভাবে ততোটা সাড়া ছিলো না। সাদিয়া জানান, ২০১৫ সালে ফেসবুকে ‘সাদিয়া’স এম্ব্রয়ডারী কালেকশান’ নামের একটি পেইজ খুলে আমার তৈরি পোষাক বাণিজ্যিকভাবে উপস্থাপন ও বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করি। পেইজ চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই আমার পোষাকের ব্যাতিক্রমী ডিজাইন এবং সৃষ্টিশীলতার জন্য দেশের অভ্যান্তরে এবং দেশের বাইরে থেকেও ব্যাপক অর্ডার আসতে শুরু করে।

জনপ্রিয়তা এবং গ্রাহক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি ফ্লোর নিয়ে কারখানা চালু করেন সাদিয়া। প্রথমে ৪/৫ জন কর্মী নিয়ে এই কারখানা চালু হলেও বর্তমানে সাদিয়ার কারখানায় কাজ করেন ১২ থেকে ১৫ জন কর্মী। ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অর্ডার সরবরাহের পাশাপাশি সাদিয়ার তৈরি করা পোশাক সরবরাহ হয় জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউএসএসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি শপিং মলে সাদিয়ার তৈরি বুটিক ও এম্ব্রয়ডারী করা পোষাক বিক্রি হচ্ছে গত দুই বছর ধরে। জাপান, অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশী এবং স্থানীয়দের মধ্যেও সাদিয়ার তৈরি করা পোষাকের জনপ্রিয়তা রয়েছে। চট্টগ্রামে বসে পোষাক তৈরি করে রীতিমত বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছেন ইসরাত সাদিয়া। সাদিয়ার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পোষাকের ক্রেতা দেশের বাইরের।

জাপানে সাদিয়ার পোশাক ক্রেতা নাদিয়া জানান, সাদিয়ার তৈরি পোষাকের ডিজাইনে ব্যাতিক্রম সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। এ ছাড়া যেসব পোশাক বা ডিজাইন পাকিস্তান থেকে আমদানি করলে প্রতিটি পোশাকের মুল্য পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, সাদিয়া সেই একই পোষাক নিজের কারখানায় তৈরি করে দিতে পারেন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।

একই রকম মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাদিয়ার পোষাক ক্রেতা সারাহ। সারাহ জানান, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসেও সাদিয়ার বুটিকের পোশাক ও এম্ব্রয়ডারীর উপর আস্থা রাখি। সাদিয়ার তৈরি পোষাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

নিজের সৃষ্টিশীলতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারনে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ইর্ষনীয় সাফল্য অর্জনকারী ইসরাত সাদিয়া বলেন আমি প্রতি মাসে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করি প্রায় দেড় লাখ টাকা। এর পরও প্রতিমাসে আমার সর্বনিম্ম ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হই। এ ছাড়া বিভিন্ন গার্মেন্টস-এর বিদেশে সরবরাহকৃত পোষাকে ছোট ছোট এম্ব্রয়ডারী ও বুটিকের কাজ করেও বড় অংকের আয় হয়। গার্মেন্টস-এর অর্ডারের ক্ষেত্রে ১০ হাজার পিসের উর্ধ্বে ৫০ হাজার পিস পর্যন্ত পোশাকে অর্ডার নিয়ে থাকি।

ব্রাইডাল ড্রেস তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিমাসে ১টি’র বেশি অর্ডার নেই না। ব্রাইডাল প্রতিটি পোশাকের দাম হয় সর্বনি¤œ ৩০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সাদিয়া বলেন সব সাফল্যের জন্য পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় প্রয়োজন। আমি যখন ব্যবসা শুরু করি তখন প্রথম তিন মাস আমি লোকসান দিয়েছি। কোন লাভ না হওয়ায় নিজের পুঁজি থেকেই কর্মীদের বেতন দিয়েছি। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। আমি জানি পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। আমার অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর বাবা মায়ের অনুপ্রেরণায় আমি এখন পুরোপুরি নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

সাদিয়া বলেন আমার আরও বহুদুর যাওয়ার স্বপ্ন। আমি মাত্র শুরু করেছি। আমি আমার একটা ব্র্যান্ড তৈরি করতে চাই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। বড় শো রুম করতে চাই। আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও দৃঢ় মনোবলে কাজ করে যেতে চাই।

——-

এইচএম 

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

47 queries in 0.705 seconds.