মূর্তিটি গান্ধীর ‘বিকৃত’ প্রতিকৃতি! – Ctgnews
ctgnew

মূর্তিটি গান্ধীর ‘বিকৃত’ প্রতিকৃতি!

সিটিজিনিউজ ডেস্ক    ::   রামকিঙ্কর বেইজের তৈরি মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তি সরানোয় উদ্যোগী হল ভারতের অাসাম সরকার। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, মূর্তিটি অবিকল গান্ধীর মতো নয়। বরং তা তার ‘বিকৃত’ প্রতিকৃতি।তবে এই ঘটনায় প্রবল সমালোচনার মুখে রাজ্য সরকার। অাসামসহ দেশের শিল্পীমহলের অনেকেই একে ‘অপরাধমূলক’ কাজের সামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গুয়াহাটির সারানিয়া পাহাড়ের গান্ধী মণ্ডপে ওই মূর্তিটি রয়েছে।১৯৬৮-এ রাজ্য সরকারের অনুরোধে ওই মূর্তি গড়ার কাজে হাত দেন রামকিঙ্কর বেইজ। তবে তা তিনি শেষ করেননি। রামকিঙ্করের ছাত্ররাই তার কাজ শেষ করেন। ১৯৭০-তে ২ অক্টোবর, গান্ধীজয়ন্তীতে ওই মূর্তির আনু্ষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুরাম মেধি।

সোমবার কামরূপ জেলা আধিকারিকদের একটি বৈঠকে ওই গান্ধীমূর্তিটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে জায়গায় গান্ধীর অন্য একটি মূর্তি বসানো হবে। তবে ওই মূর্তিটি যে রামকিঙ্কর বেইজেরই তৈরি তা জানেন না বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকেরা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গুয়াহাটি (পূর্ব) কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূর্তিটা দেখেছেন! কোনও ভাবেই মহাত্মা গান্ধী বলে মনে হয় না। হাত-পাগুলো অসমান। মুখটা বিকৃত, চশমাও। সে জন্যই ওই মূর্তি সরিয়ে তার জায়গায় আমরা অন্য মূর্তি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূর্তিটি যে রামকিঙ্কর বেইজের গড়া তা জানেন না বলে জানালেন বিধায়ক। তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করেন, এটি রামকিঙ্করের তৈরি। তবে আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশিষ্টজনদের একাংশ। বিশ্বভারতীর কার্যনির্বাহী ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক স্বপন দত্ত বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সমকালীন ভারতীয় শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ। আমি এটাও বলব, রামকিঙ্করের মতো শিল্পী আর আসবেন না। আর মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিটি যে অবিকল তার মতোই দেখতে হবে এটাও তো মানা যায় না। শিল্পের মানে তো অবিকল প্রতিকৃতি গড়া নয়। তাতে শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা থাকে।অধ্যাপক দত্তের মতোই ক্ষোভের সুর শোনা গেল স্বাধীনতা সংগ্রামী কৃষ্ণনাথ শর্মার গলায়। তিনি একে দেশদ্রোহিতার সমান বলে মনে করেন। তার মতে, এটা শুধু রামকিঙ্করের মতো মহান শিল্পীর অপমান নয়, মহাত্মাকেও অসম্মান করা।

মূর্তি বিকৃতির অভিযোগে রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অসমের বিশিষ্ট শিল্পী নোনি বরপূজারি। তিনি বলেন, আমি যত দূর জানি, নতুন মূর্তির জন্য এর মধ্যেই অর্ডার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এটা শকিং! আর যে বিকৃতির অভিযোগ উঠছে তাতে তো সরকার দায়ী।

গোড়ার দিকে ওই মূর্তিতে সাদা রং করা হত। এর পর স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, গান্ধীজয়ন্তী ও শহিদ দিবস— বছরে চার বার ওই মূর্তিতে প্লাস্টিক পেন্ট করা হয়। ফলে যদি ওই মূর্তিতে বিকৃতি ঘটে তার জন্য সরকারই দায়ী। শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মাণিক বরার আক্ষেপ, দেশের হাতেগোণা কয়েকটি রাজ্যেই রামকিঙ্কর বেইজের মতো কিংবদন্তি শিল্পীর গড়া মূর্তি রয়েছে। আমি একে ক্রিমিনাল অ্যাক্টই বলব।

সিটিজিনিউজ/এসএ

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

48 queries in 0.921 seconds.