মেধাবীরাই চাকরি থেকে বঞ্চিত ! – Ctgnews
ctgnew

মেধাবীরাই চাকরি থেকে বঞ্চিত !

স্নাতকোত্তর শেষ করে সালাউদ্দিন নামে এক তরুণ চট্টগ্রামের  একটি মেসে অবস্থান করছেন ৪ বছর ধরে। দিনভর চাকরির বইতে চোখ বুলান, সন্ধ্যার পর যান টিউশনিতে। রাতের খাবারটা যেদিন টিউশনির বাসায় সেরে আসেন, সেদিনের টাকাটা বেচে যায়। মাস শেষে যা মাইনে পান তা দিয়ে নিজের পেট চলে। এই তরুণ বলেন, টিউশনি করে চলি বলে পরিবারের কাছে হাত পাততে হয় না। তবুও কষ্ট লাগে যখন বাবা-মায়ের মুখের দিক তাকাই।

বয়স তো কম হলো না। আর কতো পড়বো। চাকরি আর কতো দূর। গল্পগুলো তরুণদের হতাশার চিত্র বলে দেয়। তবে সব তরুণদের চিত্র যে এক রকম তা কিন্তু নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনই। খোদ সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর এই থেকেই তৈরী হয় হতাশা।  সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ (সিডার) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

যাঁর ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’ যত বেশি, তাঁর চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তত কম। যাঁরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর যাঁরা অনার্স-মাস্টার্স পাস করেছেন, তাঁদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আরও একটা লক্ষণীয় তথ্য হলো, কম শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্বের হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে; কিন্তু বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার খুব দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুররো’র (বিবিএস) এক জরিপে দেখা যায়, দেশে বেকারত্বের হার আগের চেয়ে কমেছে। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৩ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। এরপরেও বেকারত্বের সংখ্যা ২৬ লাখ রয়ে গেছে।

উচ্চ শিক্ষিতদের ১২ ভাগের বেশি বেকার রয়ে গেছে। বিবিএস’র শ্রমশক্তি জরিপের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ১০ দশমিক ৪ ভাগ বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞানুযায়ী যারা সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা কর্মে নিয়োজিত থাকবেন তারা বেকার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। আর মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে সপ্তাহে এক ঘণ্টাও কাজ করতে পারেন না এমন বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ।

জীবন যুদ্ধে লড়লে গিয়ে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। চাকরির বাজারে বড় প্রতিযোগিতা, চাহিদার তুলনায় কম যোগান, দুর্নীতি, পারিবারিক কোলাহল ইত্যাদি নানা সামাজিক কারণে তরুণদের মধ্যে হতাশা বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বেকার তরুণরা দুটি কারণে হতাশ।

প্রথমত ভবিষ্যত্ গড়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহেদা বলেন, তরুণদের বেকারত্ব তাদের বিপদে ও কুপথে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, মেধাহীনরা দুর্নীতি, দলীয়করণ, অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি হাতিয়ে নিচ্ছে। একারণে মেধাবীরা আরো বেশি হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। আর এমন পরিস্থিতি অনেক শিক্ষিত তরুণকেও অপকর্মে লিপ্ত করে।

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

52 queries in 0.795 seconds.