‘শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’   – Ctgnews
ctgnew

‘শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’  

চমেক শিশু ওয়ার্ডের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে শিশুটির খোজখবর নিচ্ছেন ওসি আলমগীর।

জালালউদ্দিন সাগর :: পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ- দুর্নীতির অভিযোগ নিত্য দিনের। অভিযোগ রয়েছে স্বজনপ্রীতি ও সুবিধা ভোগের । জায়গা দখল থেকে শুরু করে মাছের ঘের দখল-এ সব অভিযোগ শত বছরের পুরোনো। কনেস্টেবল থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার (এসপি)- সবার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ । সে অভিযোগ থেকে বাদ যান না পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা (আইজি) ইন্সপেক্টর অব জেনারেলও ।

তবে মাঝেমাঝে সব ছাড়িয়ে কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠেন সবার মধ্যে একক-অনন্য। হয়ে ওঠেন মানবিকতা আর মহানুভবতার অন্যরকম এক দৃষ্টান্ত ।

তেমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর। গত বছর (২০১৬) ডিসেম্বর মাসে আকবর শাহ থানাতে ওসি হিসেবে যোগদান করেন তিনি । এর আগে নগরীর পতেঙ্গা থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তা । নগরীর কর্ণেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ড্রেন থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় এক নবজাতকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি।

শুধু তাই নয় কর্তব্যের বাইরে গিয়ে নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোসহ ঐ নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা করে চলেছেন সিএমপির এই পুলিশ কর্মকর্তা । খোঁজ খবর নিচ্ছেন দিন-রাত সব সময়।
গত সোমবার  (২০ জানুয়ারি) রাতে কর্ণেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ড্রেনে এক নবজাতককে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন যুবক । পরে আকবর শাহ থানার ওসিকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন তাঁরা।

ওসি আলমগীর তাৎক্ষনিকভাবে টহলরত পুলিশকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন । নিজেও ছুটে আসেন সেখানে। প্রথমে একে খান এলাকার আল আমিন হাসপাতাল পরে আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ইনকিউবেটর খালি না থাকার কারণে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নাম্বার ওয়ার্ডে । ঐ রাতে নিজে উপস্থিত থেকে শিশুটিকে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনকিউবেটর) এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদ্য প্রসব হওয়া ফুটফুটে একটি শিশু ড্রেনের মধ্যে মৃত্যুর সাথে লড়ছিলো। শিশুটি কোথায় থেকে এসেছে, কে ফেলেছে, কেনো ফেলেছে-ততসব ভাবার সময় তখন ছিলো না । তখন মনে হয়েছিলো এই শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে হয়তো আমি নিজের কাছেই হেরে যাবো-মরে যাবো।

তিনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নিজের মুত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছে থেকে উপলদ্ধি করেছি আমি । উপলদ্ধি করেছি একজন সন্তান যখন মৃত্যু পথযাত্রী হয় ঠিক তখন একজন বাবার বুকে আঘাত করা ত্রিসুলটা কতটা বিষাক্ত আর যন্ত্রণার হয়।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আকবর শাহ থানায় বসে কথা হয় ওসি আলমগীরের সঙ্গে। পাথরে মোড়ানো বুকের ভেতর থেকে গুমড়ে উঠে কান্নার শব্দ । হয়তো বুকের ভেতরটা শক্ত বলে আছড়ে পড়েনা চোখের জল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর জন্য লাইফ কেয়ার সেন্ট্রারে নাম লিখান ১৭ বছর বয়সী লিপি বেগম নামে এক নারী। সে সময় ঐ নারীর সাথে দুইজন পুরুষ ও আরও একজন মহিলা ছিলেন।

কম্পিউটারে নাম রেজিস্ট্রেশনের পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তাকে লবি তে অপেক্ষা করতে বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত আল্ট্রাসনোগ্রাফির এসিস্ট্যান্ট ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোনো এক ফাকে লিপি বেগম প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে এ প্রবেশ করে। এবং টয়লেটের ভেতরেই বাচ্চা প্রসব করে সেটিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে ফেলে দেন।

লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্রে জানা যায়, অনেক ডাকা ডাকির পর টয়লেট থেকে বেড়িয়ে লিপি কেগম জানান, তার রক্তপাত হচ্ছে। তাড়াতাড়ি তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার পর লিপি আক্তারের পেটে কোনো বাচ্চা নেই বলে রিপোর্ট দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম কে পাশা।

ওসি আলমগীর জানান রাত নয় টার দিকে টহলরত পুলিশ লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের ড্রেন থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করার সময় কোনো এক ফাকে শিশুটির গর্ভধারিণীসহ পালিয়ে যায় সঙ্গে থাকা সঙ্গীরাও।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আলমগীর বলেন, আমাদের প্রথম কাজ ছিলো শিশুটিকে বাঁচানো। তাই আমরা করেছি। সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে শিশুটি এখন ভালো আছে।

তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টয়লেটে শিশু প্রসব করা এবং ভেন্টিলেটর দিয়ে শিশুটিকে বাইরে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হলেও এর কিছুই জানেন না লাইফ কেয়ার ডায়াগনোস্টিক কাট্টলী শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল মজিদ। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুঠোফোনে তিনি জানান, আমার এইখানে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার পিপিএম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ছাড়াও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পুলিশ অনেক কাজ করে এটি তারই একটি উদাহরণ।

আকবর শাহ থানার ওসি ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশের অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে।

——-

হাকিম 

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

50 queries in 1.209 seconds.