সবায় ভোট চায়, দায়িত্ব নেয়না কেউ! – Ctgnews
ctgnew

সবায় ভোট চায়, দায়িত্ব নেয়না কেউ!

হাটহাজারী প্রতিনিধি :: হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলীর উত্তর হাজী পাড়াবাসী যুগ যুগ ধরে রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে সরকার আসে সরকার যায় এ এলাকাবাসীর ভাগ্যর কোনো ধরণের পারিবর্তন হয়নি।

প্রশানিকভাবে এলাকাটি হাটহাজারী উপজেলাধীন হলেও স্থানীয় জন প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ড। সংসদীয় এলাকা হাটহাজারীর পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের এলাকা। তবে ত্রি-মুখি শাষন ব্যবস্থার কারণে এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তর সূত্রে জানায়।

এলাকার জন প্রতিনিধিরা ভোট আসলেই শুধুমাত্র এলাকাটিতে ভোট চাইতে গেলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেখা যায় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জানা যায়, এলাকটিতে রয়েছে স্বাধীনতার বহু বছর আগের ঐতিহ্যবাহী শৈলবালা স্কুল, নন্দীর হাট জামে মসজিদ, লোকনাথ সেবাশ্রমসহ বিভিন্ন এতিহ্যবাহী ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রদিতিন শত শত শিক্ষার্থী বৃষ্টি, কাঁদা মাটি পার হয়ে গিয়ে লেখা পড়া করতে হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। সারা বছরেই রাস্তায় কাঁদা মাটি জমে থাকেন। যার কারণে এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দূর্ভোগ  পোহাতে হয়।

নগরীর মধ্যে এমনকি এলাকা রয়েছে এলাকাটি নামে সিটি কর্পোরশনের এলাকা হলেও রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখে মনে হবে দেশের বিচ্ছিন্ন কোনো অঞ্চল। যেখানে কোনো জনপ্রতিনিধি রয়েছে বলে এলাকাটির বাস্তব চিত্র দেখলে কেউ মনে করবে না। যুগ যুগ ধরে যেমন উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে লোকজন, তেমন শিক্ষা সংস্কৃতির থেকে বঞ্চিত এলাকার লোকজন।

এলাকটিতে যে সামান্য হাটা চলার যে রাস্তা ঘাট হয়েছে তাও এলাকার যুবকেরা সেচ্ছায় নির্মাণ করেছে। রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের জন্য কেউ এ যাবত এক মুঠো বালিও দেয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।‘ভোট আসার আগে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির যেনো কোন শেষ নেই। ভোটে জয়লাভ করতে পারলে উত্তর হাজী পাড়া সড়কের উন্নয়নের কাজ করবে এমন প্রতিশ্রতিও ছিল সবার। অথচ সড়কের অবস্থা দেখলে যে কেউ বলবে এটি সিটি কর্পোরেশন এলাকা নয়, কোন অজপাড়া। এই সড়কের কোন উন্নয়নই হয়নি।

আমাদের কি দেখার কেউ নেই, আমরা কি সারাজীবন অবহেলিত থাকবে?’-হতাশার সাথে এমন আক্ষেপের কথা জানাল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হাটহাজারী এলাকার উত্তর ফতেয়াবাদের উত্তর হাজী পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইমাম শরীফ।

অক্সিজেন হাটাহাজারী মহাসড়কের নন্দীরহাট এলাকার পশ্চিমে শৈলবালা স্কুল সড়ক সংলগ্ন উত্তর হাজী পাড়া সড়কটির অবস্থান। ভূমি জরিপের রেকর্ড অনুযায়ী রাম ঠাকুর দামের দক্ষিণে এ সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৮০ ফুট ও প্রস্থ গড়ে ৯ ফুট। প্রতিদিন হাজার হাজার জনসাধারণ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। অথচ সড়কটির চেহারাই বলে দেয় এটি যেনো কোন অজপাড়ার রাস্তা। এ সড়কটির সরকারী কিংবা বেসরকারীভাবে কোন উন্নয়নই হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২০০শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজারের বেশী জন সাধারণ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। বর্ষাকালে জনদুর্ভোগের যেনো শেষ নেই। রাতের অন্ধকারে চলাচলে সহায়ক নেই কোন সড়কবাতি। অবহেলিত এই সড়কের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে জন প্রতিনিধিগণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও বাস্তবে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা মিলে সড়কের বেহাল দশা। পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালীরা সড়কের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখলে নিয়ে গেছে। এরপরও যে পরিমাণ জায়গা বর্তমান রয়েছে তা বরাবরই চলাচল অনুপযোগী। কাঁচা  মাটির তৈরি এ সড়ক সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। কাদা মাটিতে ভরপুর থাকায় জনসাধারণের চলাচলে মারাত্বক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। কথা হয় এই এলাকার শাহা আলম, মো. ইমাম শরীফ, শরীফুল্লাহ দুলাল, মো. জলিলসহ অনেকের সাথে।

তারা জানান, এ সড়কের উন্নয়নে কয়েকজন স্থানীয় কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা এসে সড়কটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে সড়ক উন্নয়নে বিন্দু পরিমাণ বালি কিংবা একটি ইটও জোটেনি। অন্তত এইবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী সড়কটি উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন বলে আশায় বুক বেঁধে আছেন তাঁরা।
স্কুল ছাত্র মো. জাহেদ জানান, দুর্ভোগতো লেগেই আছে। বর্ষাকালে এ সড়ক যেন আমাদের কাছে একটি বিষফোঁড়া। সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পরিমাণ কাদায় ভরে যায়। অনেক সময় স্কুলে যেতে গিয়ে পিছলে পড়ে যেতে হয়েছে। আমাদের কি দেখার কেউ নেই?’

গত ২০১৬ সালের ২০ মার্চ নগরীর ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরীকে এলাকাবাসী  লিখিতভাবে গণস্বাক্ষর করে সমস্যার কথা উল্লেøখ করে জানিয়ে ছিলেন। এলাকাবাসী লিখিতভাবে জানানোর পর স্থানীয় কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের সাথে আলাপ করে জরুরী বরাদ্দ দিয়ে এলাকাটিতে কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। আশ্বাসের এক বছরের বেশী সময় পার হলে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তায়ন হয়নি এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ কে বার বার মুঠো ফোনে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিব করেন নি।

সিটিজিনিউজ/এএনইউ/এজেড

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

49 queries in 0.877 seconds.