‘সৌদি কর্তৃপক্ষই হজ যাত্রায় জটিলতা তৈরি করে’ – Ctgnews
ctgnew

‘সৌদি কর্তৃপক্ষই হজ যাত্রায় জটিলতা তৈরি করে’

বোডিং পাস নেওয়ার পূর্বে ডিস্ট্রিবিউটর ডাইসের সামনে হজ যাত্রীদের লাইন।শুক্রবার (৪ আগস্ট) পৌনে ১০টায়  শাহ আমানত বিমান বন্দর থেকে তোলা। — আকমল হোসেন

সাফি-উল হাকিম :  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘হজ মৌসুমের অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয় তড়িঘড়ি করে নয়। পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়েও হজযাত্রীরা জটিলাতার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবার তার ব্যত্যয় ঘটেনি।  সৌদি কর্তৃপক্ষই এই জটিলতা তৈরি করে থাকেন।’

শুক্রবার চট্টগ্রাম-জেদ্দা হজ্জ ফ্লাইট  যাত্রা উপলক্ষ্যে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সম্মেলন কক্ষে হজ্জ ফ্লাইট উদ্বোধনের আগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র অনগ্রসর বিষয়ে দুর্ভোগের অভিযোগ তোলা হলে মন্ত্রী উপরোক্ত মন্ত্রব্য করেন।

চট্টগ্রাম-জেদ্দা হজ ফ্লাইট  যাত্রা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এসময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র সিও মোসাদ্দেক হোসেন, জিএম সৈয়দ আহমদ হোসেন কাজী, জিএমপিআরও শাকিল মিরাজ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র ডিস্ট্রিক ম্যানেজার ইমরুল কায়েসসহ ও ওসি এয়ারর্পোট উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী হজ ফ্লাইটে যাওয়া হজযাত্রীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। — আকমল হোসেন

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিসা জটিলতায় যাত্রী সঙ্কটের কারণে গতকাল শুক্রবারও একটি এবং আজ শনিবারের দুইটি নির্ধারিত ফ্লাইটবাতিল হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১৯টি ফ্লাইট বাতিল হলো। এদিকে, একের পর একহজ ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর ক্ষুব্ধ হজযাত্রীরা। রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তবে মন্ত্রী বিমানের টিকেট না দেওয়া এবং হজ ফ্লাইট বাতিলের কারণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দায়ি বিষয়টি হযযাত্রীদের দেওয়া ভুল তথ্য হতে পারে জানিয়ে বলেন, এর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একা দায়ি নয়। কিছু বিষয় সৌদি সরকার মেনে নিতে চায় না সে  কারণেই জটিলতা  তৈরি হয়। তার পরও দ্রুত ভিসা যাতে হয় তার জন্য সংস্থাটিকে ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ জানান। এসময় বিমান এয়ারলাইন্সকে ধন্যবাদ জানান।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদির জেদ্দার উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইট যাওয়ারকথা ছিল। কিন্তু অর্ধেক যাত্রীই ভিসা না পাওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। যাদের ভিসা আছে তাদের অন্য ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী পরিষদ। ভিসা জটিলতাও মোয়াল্লেম ফি বাড়ানোসহ নানা সমস্যার কারণে এ বছর ভোগান্তিতে পড়েছেন কমপক্ষে সাড়ে  ৭ হাজার হজযাত্রী।

এ জটিলতার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সৌদি সরকারেরপদ্ধতিগত জটিলতার কারণেই সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে, ভিসা জটিলতা ও মোয়াল্লেম ফি বাড়ানোসহ নানা সমস্যায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়াএয়ারলাইন্সের ১৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত সাড়ে ৭ হাজার হজ যাত্রী।

এদিকে, ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত ভিসা পেয়েছেন ৪৮হাজার যাত্রী। তাদের মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩৭ হাজার হজ যাত্রী।

হজ যাত্রীদের পুনরায় হজে যেতে অতিরিক্ত দুই হাজার সউদী রিয়েল দিতে হবে। বাংলাদেশসহ হজ এবং ওমরাপালনকারী সব দেশের ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজ পালনকারী হজ যাত্রীদের পুররায় এই অর্থ প্রদান করতে হবে।ভিসা আবেদন লজমেন্ট করার ক্ষেত্রে প্রতি এন্ট্রি ফি বাবদ দুই হাজার সউদী রিয়েল প্রদান করার নিয়ম সকল দেশেরহজ এবং ওমরা পালনকারীদের জন্য সউদী আরব এই বিধান ২০১৫ ও ২০১৬ থেকে কার্যকর করেছে।

বৃহস্পতিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার সহকারী সচিব এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এখবর জানানো হয়।

আতাপ ও হাব এর চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি মো: শাহ আলম বলেন, সউদী আরবের হজ এবং ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরকর্মকর্তদের সাথে এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দুই হাজার সউদী রিয়েল মওকুফ করার জন্য আবেদ নজানানো হয়েছিল।

কিন্তু সউদী কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে জানায় যে শুধু বাংলাদেশ নয় এই নিয়মহজ এবং ওমরা পালনকারী সব দেশের হাজীদের জন্য করা হয়েছে। এই অর্থ মওকুফ বা স্থগিত করার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশকেও পুনর্বার হজকারী প্রত্যেক হাজীকে এই দুই হাজার রিয়েল পরিশোধ করতে হবে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজে গেছেন এমন সংখ্যা ৭থেকে ৮ হাজার হতে পারে বলে একটি হজ এজেন্সীর কর্মকর্তা হেদায়েত ইসলাম রাজু জানান।

এদিকে, ধর্মমন্ত্রণালয় চলতি ২০১৭ সালের হজে অংশগ্রহণকারী সকল হজ এজেন্সির জন্য হজযাত্রীদের প্রতিস্থাপনেরসংখ্যা শতকরা ৪ জন থেকে বৃদ্ধি করে ৭ জনে উন্নীত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখা  গত বৃহস্পতিবার এই বিষয়েও অপর একটি আদেশ জারি করে হজ এজেন্সী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে জানিয়ে দিয়েছেন। হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (হাব)র আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার এবং বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে মৃত্যুজনিত, অসুস্থতাজনিত এবংঅন্যান্য কারণে হজযাত্রীদের প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

হজযাত্রীদের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরঅনুমোদন নিয়ে হজ বিষয়ক কমিটি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজ ফ্লাইট বাতিলে ক্ষোভ : আশকোনার হজ ক্যাম্পে আব্দুল বারি নামে এক হজযাত্রীর ফ্লাইট ছিলো ২৬ জুলাই। বারবার ফ্লাইট বাতিলের কারণে এখনও তিনি হজের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেননি। আজ শনিবার দিবাগত রাত ২টায়আব্দুল বারির ফ্লাইট উড়বে বলে পুনরায় তাকে জানানো হয়েছে।

গত ১০ দিন ধরে নানা রকম আশঙ্কায় দিন কাটছে আবদুল বারির। এ প্রতিনিধির কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরাতো টাকা সময় মতো দিয়েছি। ভিসাও পেয়েছি সময় মতো। তাহলে আমরা যেতে পারছি না কেন?

শুধু তাই না একজন হজযাত্রীও যদি শেষ পর্যন্ত হজে যেতে ব্যর্থ হন তাহলে তার মাশুল গুণতে হবে বিমানকে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ হজযাত্রী কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে।

৪১৬ জন হজযাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে উদ্বোধনী হজফ্লাইট যাত্রার পূর্বে এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র ভিতরে আসন গ্রহণ করে আছেন হজযাত্রীরা। — আকমল হোসেন

হজযাত্রী কল্যাণ পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন,  একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। কিন্তু বিমানের কোনো উদ্যোগ নেই। বিমানের অবহেলারকারণেই এমনটা হচ্ছে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। বিমান চাইলেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান করতেপারতো। যদি একজন হজযাত্রীও শেষ পর্যন্ত হজে যেতে ব্যর্থ হন তাহলে তার মাশুল গুণতে হবে বিমানকে।

এদিকে, হজ ফ্লাইট বাতিল সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের বিমানের ফ্লাইট নিয়ে কোন সমস্যা নেই। বিমানের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার সময় লস হতে পারে তা মাথায়রেখে অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভিসা এখন এম্বেসি দেয় না। এজেন্সিগুলোকে ই–ভিসা প্রিন্ট করতে হয়। ই–ভিসার জন্যদুটি দেশের সার্ভার একই সময়ে চালু থাকতে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সার্ভারের সমস্যার কারণে গ্রুপের কারও ভিসা আসছে, কারওটা আসছে না। ই–ভিসার ক্ষেত্রে সব প্রিন্ট না হলে ওই গ্রুপ বাতিল হয়ে যায়।দেখা গেছে প্রতি ১০০টি ভিসার মধ্যে ১৬ জনের ভিসা আটকে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, প্যাকেজ ঘোষণার বহু পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ২০১৫–১৬ সালে যারা হজ করেছেন তাদের নিরুৎসাহিতকরতে দুই হাজার রিয়াল (৪৪ হাজার টাকা) বেশি দাবি করেছে। কিন্তু এজেন্সিগুলো একথা জানতো না। এই কারণেজটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ভিসা আসছে না। আবার এবছর থেকে সৌদি সরকার মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি করেছে।আগে যেখানে ৭৫০ রিয়াল নিতো এখন সেখানে ১৫০০ রিয়াল নেওয়া হচ্ছে। এ জটিলতায়ও অনেকের ভিসা আটকেযাচ্ছে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হাব ও আটাবকে বলেছি যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করে ই–ভিসারজটিলতা দূর করতে। আশা করছি সংশ্লিষ্টরা জটিলতা দূর করতে সচেষ্ট হবে।

শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম-জেদ্দা ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম ত্যাগ করে। এর আগে বিমানের ভিতর মন্ত্রী হজ যাত্রীদের হজ যাত্রায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আপনারা আল্লাহর মেহবান । আল্লাহর মেহমান হিসেবে যে যাত্রা শুরু করেছেন তা মঙ্গলহোক। আশা করি সবাই আবার সুস্থ শরীরে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। শনিবার  ভোর সাড়ে পাঁচটায় জেদ্দায় গিয়ে পৌছাঁয়।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

সর্বশেষ সংবাদ


নোটিশ : “এই মাত্র পাওয়া” খবর আপনার মোবাইলে পেতে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন থেকে START পাঠিয়ে দিন 4848 নম্বরে ।
ctgnew
প্রধান উপদেষ্টা : আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সম্পাদক : সোয়েব উদ্দিন কবির
ঠিকানা : ৯২ মোমিন রোড ,
শাহ আনিস মার্কেট ৫ম তলা, চট্রগ্রাম ।
মোবাইল : ০১৮১৬-৫৫৩৩৬৬
টিএন্ডটি : ০৩১-৬৩৬২০০

Design and Development by : Creative Workshop

53 queries in 0.927 seconds.