অমূল্য সম্পদ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী

0

বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী

হাকিম মোল্লা: চেয়েছিলেন সাংসদ হবেন হয়েছেন সমাজ সেবক। যদিও সাংসদ আর সমাজ সেবক মূদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতই তাঁর আত্মনিবেদিত কাজের স্বীকৃতির কথা প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত পত্র মারফত হয়ে আসে।

সে হিসেবেই চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার শিবপুর গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর কাজকে অমূল্য সম্পদ বিবেচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পত্র মারফত পাঠিয়ে জানানো হয় সেই বিবেচনার কথা।

যে পত্রে কথা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত অনুপ্রেরণার সেই পত্রটি যেন ছিল পরশ পাথর। এখনোও সে কথা মনে-প্রাণে ধারণ করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই পরশ পাথরের ছোঁয়ায় সীতাকুণ্ডকে আলোকিত করতে চান বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

তৎকালিন চট্টগ্রাম-২, বর্তমানে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড,আকবরশাহ,খুলশি (আংশিক) আসন হতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে নানা বাধা বিঘœ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে দলীয় সংগঠনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম করছেন তাঁর জন্য দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন। যেহেতু কোন আসনে একাধিক যোগ্যপ্রার্থী থাকলেও একটি আসনে একজনকেই মনোনয়ন দিতে হয়। তাই পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এক পত্র মারফত তাকে আস্বস্ত করা হয় পরবর্তিতে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেওয়ার। তৎকালিন সময়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মরহুম আলহাজ্ব এ.বি.এম. আবুল কাশেম মাষ্টার।

আসন্ন জাতিয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিটিজি নিউজের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘নির্বাচনী মাঠ পরিক্রমা’য় উঠে এসেছে এসব তথ্য।

আলহাজ¦ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা (বি.এল এফ/মুজিব বাহিনী) ১৯৫৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার শিবপুর গ্রামে চৌধুরী বাড়ী বর্তমানে ৯ নং ওয়ার্ড সীতাকু- পৌরসভার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ¦ হোসেনুজ্জামান চৌধুরী, মাতা আলহাজ্জা জোহরা বেগম চৌধুরী। মাতা ছিলেন কাট্টলী নাজির বাড়ীর মরহুম জমিদার ফয়েজ আলী চৌধুরীর নাতনী। বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সীতাকু- হাই স্কুলে ৯ম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১ম ট্রেনিকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এফ.এফ ১ নং সেক্টরের অধীনস্ত ২ নং সাব-সেক্টর ফোয়াং বাড়ী শ্রীনগর, সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তিতে ২য় দফায় বি.এল.এফ (মুজিব বাহিনী) হাফলং ট্রেনিং সেন্টার আসাম ২য় ব্যাচ ট্রেনিং শেষে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ করেন। বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সীতাকু- থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরীর নির্বাহী সদস্য হিসেবে ১৯৭০ ইং থেকে ১৯৭৬ ইং পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সীতাকু- থানা তখন চট্টগ্রাম-২ আসন ছিল। সে সময় মরহুম এ.বি.এম আবুল কাশেমকে মনোনয়ন দেয়ায় দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড ও প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী পরবর্তিতে নির্বাচনে বিবেচনা করবেন বলে পত্র মারফত আশ^স্ত করেন।

তিনি ১৯৮০ সাল হতে ব্যবসা শুরু করেন। ছাত্র জীবন থেকেই সমাজসেবক হিসেবে তিনি ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি একজন ধার্মিক, দানশীল, জনহিতৈষী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে সমধিক পরিচিত। শিক্ষা ও সমাজ সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা,এতিমখানা, বিদ্যালয় স্থাপন করেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সব সময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়াও তিনি অস্বচ্ছল মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষার সুযোগ দান, অস্বচ্ছল অসুস্থ্য রোগীদের চিকিৎসা ও অসহায় মেয়েদের বিয়ের জন্য অনুদান প্রদানসহ এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো সহযোগিতা প্রদান করেন।

তিনি অনেকগুলি ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। ১. নির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১। ২.সাধারণ সম্পাদক সীতাকু- সমিতি-ঢাকা। ৩.সাবেক সহ-সভাপতি: বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাহী পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ৪.নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি। ৫. প্রতিষ্ঠাতা: হোসাইন- জোহরা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ৬.সভাপতি: শিবপুর জামে মসজিদ। ৭.সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য, সীতাকু- আলিয়া মাদ্রাসা। ৮.আজীবন সদস্য: ধানম-ি ক্লাব-ঢাকা, ঢাকা রাইফেল ক্লাব-ঢাকা, ঢাকা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ঢাকা। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম-ঢাকা এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। পবিত্র মক্কা-মদিনা শরীফে ইতোমধ্যে ৪ বার হজ্ব ও ২ বার ওমরা পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান রওশন আরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শ^শুর ছিলেন শহীদ শেখ রুস্তম আলী। থানা-কালীগঞ্জ, জেলা ঝিনাইদহ। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। সাব-ডিভিশনাল এগ্রিকালচার অফিসার থাকা অবস্থায় ১৯৭১ সালে ২০শে এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সরাসরি গুলিতে শহীদ হন। তার ছোট ভাই যশোরের একটি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তিনিও একই দিনে শহীদ হন। বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বড় ভাই মরহুম আলহাজ¦ আব্বাস উদ্দিন চৌধুরীও একজন মুক্তিযোদ্ধা (বি.এল.এফ/মুজিব বাহিনী) ছিলেন। তার বড় ভায়রা ভাইও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ আলম বাসুনিয়া।

বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। ১ম পত্র মুহম্মদ ফয়সল চৌধুরী বি.বি.এ, এম.কম (অস্ট্রেলিয়া), পিজিডি (ইংল্যান্ড), এম,ফিল ইউকে। সহকারি অধ্যাপক, স্কুল অব বিজনেস, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ। তিনি একজন কৃতি শিক্ষক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ৭ বৎসর শিক্ষকতা করেছেন। ইউকে-তে পিএইচডি অধ্যায়নরত। ২য় পুত্র রিদওয়ান চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত। একমাত্র মেয়ে তাসনিম তাবাসসুম চৌধুরী, মাস্টার্স ইন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন শেষ করে বর্তমানে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল, বাংলাদেশে চাকুরিতে যোগদান করেছেন।

বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বর্তমানে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত টেকনো সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন সীতাকু- উত্তর বাজারে অবস্থিত টেকনো ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯ম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ১ম ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে (এফ এফ) ১ নং সেক্টরের অধীনস্ত ২ নং সাব-সেক্টর ফোয়াং বাড়ি শ্রীনগর ত্রিপুরা রাজ্যে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। কমান্ডার ছিলেন ঢাকার ফজলুর রহমান রাজু,পরবর্তিতে এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের বি.এল.এফ এর ১ নং সেক্টর ইস্টার্ন কমান্ডার এর প্রধান ছিলেন মরহুম শেখ ফজলুল হক মনি ভাই। যুদ্ধকালীন ও পরবর্তীকালীন সময় শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের অত্যন্ত ¯েœহভাজন ছিলাম। তা ছাড়াও কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চট্টগ্রামের তখনকার সিনিয়র বি,এল.এফ নেতারা অনেক ¯েœহ করতেন।

আসন্ন ২০১৮/২০১৯ সংসদীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম ৪ (সীতাকু-), সংসদীয় আসন ২৮১, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ২০০১ সালে আমি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বর্তমানে সীতাকু- থানা তখন চট্টগ্রাম-২ আসন ছিল। দলের পার্লামেন্টরি বোর্ড ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরবর্তী সময়ে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করবেন বলে নিজ স্বাক্ষরসহ পত্র মারফত আস্বস্ত করেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply