এইডস আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গা নারী চমেকে ভর্তি

0
28

নিউজ ডেস্ক :: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার এইডস আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গা ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন ১২ সন্তানের জননী ছন খাতুন (৫০) এবং দুই সন্তানের জননী শাহজান বেগম (৪০)। এরমধ্যে শাহাজান বেগমের অবস্থা গুরুতর ।

গতকাল সোমবার হাসপাতালে ১৬ নং মেডিসিন ওয়ার্ডে দুই রোগীর সাথে আলাপ হয়। ছন খাতুন জানান, তার বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডুর খুইনা পাড়া গ্রামে। তার স্বামী সিরাজুল হককে মিয়ানমারের সেনারা প্রায় ২৫ দিন আগে হত্যা করেছে। তার অসুখের কারণ তার জানা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ দিয়ে তাকে ইনজেকশন দিয়েছে। সেখান থেকেই তার এই রোগ হয়েছে। ছন খাতুনের পাশে থাকা তার পুত্র ইউনুচের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার শরীরে এইচআইভি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়নি। তবে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানান।

শাহাজান বেগমের স্বামী মো. বাছের জানান, তাদের বাড়িও আকিয়াব জেলার মংডুর দক্ষিণে বাঘঘোনা গ্রামে। পাঁচ–সাত মাস আগে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পাড়ার এলএমএফ চিকিৎসক টিবি রোগের চিকিৎসা দেন। ভুল চিকিৎসার কারণে তার শরীর জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। ক্যাম্পে এসে জানতে পারেন তার স্ত্রীর এইডস হয়েছে। দুই রোগী জানান, প্রথমে তারা হ্নীলা ক্যাম্পে ডা. শাহজাহানের কাছে চিকিৎসা নেন। সেখান থেকে লেদা ক্যাম্প এবং গত রবিবার চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয় তাদেরকে। বাছের জানান, তিনি এবং তার মেয়ে জান্নাতুল বাকির পরীক্ষা করিয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের শরীরে এইচআইভি’র জীবানু পাননি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম  বলেন, মিয়ানমার এমনিতেই এইডসপ্রবণ একটি দেশ। তার ওপর রোহিঙ্গারা হচ্ছে একটি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাদের নেই শিক্ষা, নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। তারা যদি ক্যাম্প থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে বাংলাদেশ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে যাবে। শরণার্থী ক্যাম্পে রেখে যত ধরনের মানবিক সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যসেবা দেয়া প্রয়োজন সব দেয়া যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই ছড়িয়ে পড়তে দেয়া যাবে না। স্বাস্থ্যঝুঁকিকে জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়ংকর বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, দুই রোগীর পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করলেও আরো অনেকের এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক  জানান, রোহিঙ্গারা সাম্প্রতিক ঘটনার অনেক আগে থেকেই চট্টগ্রামে এসে এইডসের চিকিৎসা নিচ্ছিল। তাদের অবাধ বিচরণ আমাদেরকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এখন যেহেতু মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচার–নির্যাতনের কারণে সব রোহিঙ্গা চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে এখন আমাদের ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে। তাদেরকে কোনোভাবেই অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে যেতে না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন আহমদ  বলেন, হাসপাতালে এইডস রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তাদেরকে স্বাভাবিক নিয়মেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। যতদিন প্রয়োজন চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। যেসব রোহিঙ্গা রোগীর চিকিৎসা সেবা আর প্রয়োজন হচ্ছে না তাদেরকে পুলিশের সহায়তায় ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
কলেরা মহামারির শঙ্কা : হু

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কলেরা মহামারি আকার ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও, হু)। নিরাপদ পানি ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাবে এ অবস্থা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে হু বলেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে কলেরা মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং’।

রোহিঙ্গাদের চিকিৎসায় মোবাইল মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গত এক মাসে সাড়ে চার হাজার ডায়ারিয়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পোলিওসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অন্তত ৮০ হাজার শিশুকে বিভিন্ন টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবার উপ–প্রধান এনায়েত হোসেন একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি’।

সিটিজিনিউজ/ এইচএম  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here