নারকেলের বহুমুখী গুণ

0

লাইফস্টাইল ডেস্ক    ::         নারিকেল এমনই এক সুস্বাদু ও উপকারী ফল; যার কোনো অংশই ফেলা যায় না। নারিকেল বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসলও। কাঁচা অবস্থায় এর নাম ডাব, যার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। পাকার পর এটাকে বলা হয় ঝুনা নারিকেল বা নারিকেল।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পলিনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় যেখানে প্রধান খাবার হলো নারিকেল সেখানেকার মানুষের কোলেস্টেরল বা হার্টের সমস্যা অনেক কম। এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে নারিকেলে যে ফ্যাটি এসিডের চেইন গুলো আছে সেগুলো কোলেস্টেরল বাড়ায় না বরং আথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি কমিয়ে হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে।

এমনকি কিছু কিছু নারিকেলে লরিক এসিড পাওয়া গেছে যা মায়ের দুধে থাকে। এবার নারিকেলের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো জেনে নেয়া যাক: ত্বক কোমল করে নিয়মিত নারিকেল খেলে ত্বক কোমল ও সুন্দর হয়। এছাড়াও নিয়মিত নারিকেল খেলে ত্বকে সহজে বয়স জনিত বলিরেখা পড়ে না। ওজন কমায় নারকেল নারিকেল অতিরিক্ত ওজন কমাকে সহায়তা করে।

নারিকেল খুব অল্প ক্যালোরিতেই মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে অল্পক্ষণের মধ্যেই শরীরে শক্তি যোগায়। নারিকেল খেলে সহসা ক্ষুধাও লাগে না। তাই গবেষনায় দেখা গেছে যে যারা নিয়মিত নারিকেল খাওয়া শুরু করে তাদের বেশ খানিকটা ওজন হ্রাস পায়।

ভাইরাস ধ্বংস করে নারিকেল বিশেষ কিছু ভাইরাস ধ্বংস করে। যে সব ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, মামস ইত্যাদি রোগ জন্ম দেয়, নারিকেল সেসব ভাইরাস গুলোকে নষ্ট করে ফেলে। ফলে এধরণের অসুখ-বিসুখ থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।

শক্তি যোগায় নারিকেল তাৎক্ষনিকভাবে শরীরে শক্তি যোগায়। তাই কাজের মাঝে বা হালকা খিদে পেলে নারকেল সাথে সাথে কর্মউদ্দীপনা জাগাতে সহায়তা করে। হজম সহায়ক হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল ও এমিনো এসিট শোষন করে নিতে সহায়তা করে।

ইনসুলিন নিয়ন্ত্রন করে নারিকেল রক্তের ইন্সুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং ডায়াবেটিস জনিত কারণে শরীরের ক্ষতি রোধ করে। দাঁত ও হাড় ভালো রাখে নারিকেল শরীরে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে এবং দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে নিয়মিত নারিকেল খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও অন্যানো আরো কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় অনেকখানি। কিডনি ভালো রাখে নারকেল কিডনির জন্য উপকারী খাবার। কিডনীতে পাথর আছে যাদের তাঁরা নিয়মিত খাবার তালিকায় নারিকেল রাখলে ধীরে ধীরে পাথর মিলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে আলসার, গলার ইনফেকশন, ইউরিন ইনফেকশন, মাড়ির রোগ, গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করতেও নারিকেলের ভূমিকা অপরিসীম। ঔষধিগুণ বিভিন্ন রকম পেটের গোলযোগে গ্লুকোজ স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে কচি নারকেলের পানি খুবই উপযোগী। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমির ফলে দেহে যে পানির অভাব ঘটে তা পূরণে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকরী।

সিটিজি নিউজ/ এসএ

Share.

Leave A Reply