মিয়ানমারের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার

0
26

নিউজ ডেস্ক   ::     মিয়ানমারের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ব মিডিয়াতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়েছে তা বজায় রাখতে গ্রেফতার দুই সাংবাদিকের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা উচিত।

অতীতে ওই দুই সাংবাদিকের প্রশংসনীয় দৃষ্টান্তমূলক কাজেরও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। তাদের ‘ক্ষমা’ করে বাংলাদেশ ত্যাগের ব্যবস্থা করার পক্ষে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও মত দিয়েছেন বলে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অনুবিভাগের চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উখিয়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করার সময় ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মিনজাইয়ার উ ও হকুন লাট নামে মিয়ানমারের এই দুই নাগরিক জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক ‘জিও’ সাময়িকীতে কাজ করেন। গত শনিবার কক্সবাজারের আদালত থেকে দুই সাংবাদিক জামিনে মুক্তি পান।

মিয়ানমারের নাগরিক দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট ও দন্ডবিধির ১৭৭ ও ৪১৯ ধারায় মামলা হয়েছে। তবে এ মামলায় জামিন পাওয়ার পর তারা কোথায় রয়েছেন জানা নেই। মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কোনো সরকারি আদেশ এখনও কক্সবাজারে এসে পৌঁছায়নি। এ ধরনের চিঠি পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, গ্রেফতার দুই সাংবাদিক এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষে কাজ করেছেন। রয়টার্সের পক্ষ থেকেও তাদের মুক্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ দুই ফটো সাংবাদিক বিভিম্ন সময় মিয়ানমারের জাতিগত সংঘাতকবলিত রাজ্যে সেখানকার সেনাবাহিনীর বর্বরতার প্রমাণ তুলে ধরেছেন।এ ছাড়া জার্মান পার্লামেন্টের নিলস এনেন নামে একজন মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক চিঠিতে দুই সাংবাদিকের মুক্তির অনুরোধ জানান।

তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে জার্মান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বার্লিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে।
সিটিজি নিউজ/ এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here