সীতাকুণ্ডে বিপুল পরিমাণ চালসহ গুদাম সিলগালা

0 39

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাল মজুত করা দুটি গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে থাকা কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের গাড়িতে মালামাল তোলা ও নামানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে পুরোনো মডার্ন ব্রিকস কারখানায় স্থাপিত দুটি গুদামে এ অভিযান চালানো হয়।
চাল গুদামজাত করে রাখার সুনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া।
আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্ধ হওয়া ইট তৈরির কারখানায় মোট ছয়টি গুদাম করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, ভুট্টা, ভুসি (মুরগি ও মাছের খাদ্য) রাখা হয়েছে। ছয়টি গুদামের দুটিতে সিলগালা করা হয়েছে। গুদাম এলাকার ভেতরে ১৭টি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। যেগুলোর মালামাল খালাস বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান খালি বলে দাবি করেছেন সেখানে থাকা চালকেরা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁরা গুদাম এলাকা থেকে বেরোতে পারছেন না।
কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. হাসমত আলী  বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি গাড়ি নিয়ে সেখানে যান। তাঁর গাড়িতে ভুট্টা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভুট্টা খালাস করতে পারছেন না তিনি। কত দিন আটকে থাকতে হয়, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন।
অপর চালক রবিউল হোসেন জানান, তিনি শুনেছেন অবৈধভাবে চাল মজুত করায় দুটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে।
মডার্ন ব্রিকসের মালিক আবুল কালাম। তিনি কারখানার জায়গায় ছয়টি গুদাম করে কালাম ভান্ডারী নামের এক ব্যক্তির কাছে চারটি ও আবদুল মালেক মাঝির কাছে দুটি গুদাম ভাড়া দেন। কারখানা ভাড়া নিয়ে ওই দুই ব্যক্তি বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে মালামাল রাখার জন্য ভাড়া দেন। গত মঙ্গলবার রাতে দুই ব্যক্তির একটি করে দুটি গুদাম সিলগালা করে প্রশাসন।
সেখানকার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. শাহজাহান মিয়া  বলেন, মালেক মাঝির একটি গুদামে চাল ও অন্যটিতে ডাল রয়েছে। কালাম ভান্ডারীর সব কটি গুদামেই ভুসি। গত এক মাসের বিভিন্ন সময়ে চালের গুদামে চাল প্রবেশ করলেও কোনো চাল বাইরে যায়নি। প্রশাসন সিলগালা করে তাঁর দায়িত্বে বুঝিয়ে দিয়ে যান।
মালেক মাঝির গুদামে চাল মজুত করেছিলেন বিএসম সিন্ডিকেটের চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন  বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি (২৮ শতাংশ) ডিউটি ফি দিয়ে চাল আমদানি করেছে। তার মধ্যে প্রশাসনের চাপাচাপির কারণে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চাল নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা ডিও কাটি মালেক মাঝির নামে। ছয় হাজার টন চাল মালেক মাঝির গুদামে রাখা হয়েছে। তিনি তিন জায়গায় চাল রেখেছেন। তার মধ্যে সীতাকুণ্ডে ৬ হাজার ৮০০ টন চাল রেখেছেন। বাকিগুলো নগরের অন্য জায়গায়। এখন চাল সরবরাহ করা হচ্ছে নগরের একেকটি গুদাম থেকে। একটি খালি হলে অন্যটি থেকে ছাড়া হয়। যার কারণে সীতাকুণ্ড থেকে চাল ছাড়া শুরু হয়নি। এখন সিলগালা করেছে প্রশাসন।’
সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনির আহমদ  বলেন, সেখানে এত বড় গুদাম আছে, তা এত দিন তাঁদের জানা ছিল না। গুদামটির কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। অবৈধভাবে সেখানে খাদ্যদ্রব্য মজুত করা হচ্ছে।
দুটি গুদাম সিলগালা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, রাতে অভিযান চালানোর সময় দায়িত্বশীল কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুটি গুদাম তালাবদ্ধ ছিল। সেখানে চাল রয়েছে নিশ্চিত হয়ে গুদাম দুটিকে সিলগালা করা হয়। খবর দেওয়া হয় মজুত করা মালিকদের। তাঁরা প্রমাণপত্র নিয়ে আসার পর যাচাই করা হবে।
সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান  বলেন, গুদামটি সিলগালা করার পর সেখানে নির্ভরযোগ্য লোকের কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও সংবাদ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.