উখিয়ায় সাগর থেকে ১৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

0
53

কক্সবাজারের উখিয়া থানার মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণ পাশে সাগর থেকে ১৪ নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় শিশুসহ আরও ১০ মিয়ানমার নাগরিককে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।  

পুলিশ বলছে, নিহতরা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক। রাখাইন থেকে পালিয়ে আসার সময় নাফ নদীতে নৌকাডুবিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনের বিভিন্ন সময় এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশের উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) চাই লাও মারমা  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানি সৈকতের পাতুয়ারটেক এলাকায় সাগরে ভাসমান মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক পাঁচজন নারী ও নয় শিশুর মরদেহ ভেসে আসতে থাকে। এলাকাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সন্ধ্যার পরও মরদেহ ভেসে এসেছে কিনা তা জানা যায়নি।

তবে ওই সময় অসুস্থ অবস্থায় নারী-শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সহায়-সম্বল হারিয়ে ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে প্রাণ রক্ষার জন্য নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। সেজন্য নৌকায় ওঠেন তারা। কিন্তু নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। এতে তার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী মারা গেছে। এক ছেলে নিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছেন তিনি।

উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি মো. কাছিম জানান, রাখাইনের মংডুর বুছিডং থানার বাসিন্দা তারা। মগরা তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ক্যাম্পে গত ২৪ আগস্ট রাতে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। পরে রাখাইনে শুরু হয় নতুন করে সেনা অভিযান।

এরপর অর্থাৎ ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা

শরণার্থীদের স্রোত চলছে। জাতিসংঘ বলছে, ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও মগদের আক্রমণে প্রাণও হারিয়েছেন।

সহায়-সম্বল ও স্বজন হারিয়ে রাখাইনে পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে পায়ে হেঁটে যারা বাংলাদেশ সীমান্তে আসতে পারছেন, তারা মংডু থেকে মাছ ধরার নৌকায় করে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ সময় নৌকা ডুবে অনেক নারী ও শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here