হারুয়ালছড়ি খালের ব্যাপক ভাঙ্গণ, ৩০ পরিবারের বসতঘর বিলীন

0 21

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ইকবাল হোসেন মঞ্জু, ফটিকছড়ি : ফটিকছড়িতে হারুয়ালছড়ি খালে ব্যাপক ভাঙ্গনে হুমকীর মুখে উপজেলার মধ্য হারুয়ালছড়ি গ্রামের বিশাল এলাকা। ইতিমধ্যে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, ইউনুছ মাষ্টার, মো: সোলাইমান, আবু জাফর, মো: লেদু, মনা, বেদারুল, এনাম, শফি, নুরুল আলম, আমিন শরীফ ও মৃত গণীর পরিবার সহ আরো প্রায় ২০ টি বসতঘর।

এদিকে খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে, আমিন শরীফ, মাহাবুল আলম সওদাগর, মৃত হাজ্বী শফিউল আলম, আবুল কাশেম, আবুল বশর, আবুল হাসেম, কাশেম ড্রাইভার, মো: ইসমাইল ও মো: বেলালের বসতভিটা। এতে কোন মাথা ব্যথা নেই জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নায় বোর্ডের। হারুয়ালছড়ি খালে ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ে নূরুল আলমের বসতঘর। ঘরটির প্রথম অংশ খালের ভাঙ্গনে চলে গেছে। ঝুলে আছে টিন, বেড়া ও কাঠ। যে কোন সময় সম্পূর্ণ ঘরটি ভেঙ্গে খালে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙ্গনের শিকার সত্তরোর্ধ রবিজা খাতুন নামের এক বৃদ্দা মহিলা চোঁখের পানি যার চল চল করছে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে থাকিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন খালের পাড়ে। জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে পৌছেছেন। সব হারিয়ে তার সহায় সম্বল বলতে আছে শুধু বসতভিটাটুকু। তাও এখন হারুয়ালছড়ি খালে বিলীনের পথে। এখন তিনি তার পরিবারকে নিয়ে অনেকটা নি:স্ব ভাবে দিনাতিপাত করছেন।

রবিজা খাতুনের মত আরো ৩০ পরিবার এখন হারুয়ালছড়ি খালের করাল গ্রাসে বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব প্রায়। খালের ভাঙ্গনে চলাচলের জায়গাটুকুও নেই তাদের। দুর্যোগ যেন তাদের নিত্য সঙ্গী।

এই চিত্রটি হচ্ছে উপজেলার মধ্য হারুয়ালছড়ি গ্রামের দরপ পাড়া এলাকার। রাক্ষসি হারুয়ালছড়ি খাল গিলে খেয়েছে এলাকার বসতভিটা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, মাজার, মসজিদ, ফসলী জমিও।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন শরীফ জানান, ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্রমেই নাজুক আকার ধারণ করছে। ফলে আমাদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। যে কোন সময় আমার বসতঘরটি খালে মধ্যে পড়ে যাথে পড়ে।

মাহাবুল আলম সওদাগর বলেন, প্রায় ৩০ টির অধিক বসতভিটা খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও জন প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউই তাদের কোন ধরনের সহযোগীতা করেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, খালটির গভিরতা অনেক। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে যে বাজেট পায়, তা দিয়ে এ ভেঙ্গেন রোধ করা সম্বব নয়। আমি বেশ কয়েক বার উপজেলা সভায় হারুয়ালছড়ি খালের ভেঙ্গেন রোধের দাবি জানিয়েছি। তবে কোন কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অরূপ কুমার চক্রবর্ত্তীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন হারুয়ালছড়ি খালের ভাঙ্গন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায় বলেন, এ বিষয়টির সম্পর্কে অবগত ছিলাম না এখন শুনেছি। শীঘ্রই ভেঙ্গেন কবলিত এলাকা পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.