নারীকে দাসী হিসেবে কিনে নেওয়ার নাম ‘নাতা প্রথা’ !

0 17

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ::   বাবা মারা যাওয়ার পরই পাঁচ বছর বয়সী শিশু পিঙ্কিকে ফেলে চলে যায় তার মা। এরপর থেকেই সে তার দাদী কানকু রোয়াতের সঙ্গে থাকছে। ভারতের রাজস্থানের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা পিঙ্কির মায়ের কথা মনে নেই।

কারণ বিধবা হওয়ার পর পিঙ্কির মা শত বছরের প্রাচীন প্রথা ‘নাতা প্রথা’ গ্রহণ করেন তখন পিঙ্কির বয়স ছিল এক বছর। একজন নারীকে দাসী হিসেবে কিনে নেওয়ার নাম নাতা প্রথা।

একজন পুরুষ রীতিমত দেন দরবার করে অর্থের বিনিময়ে একজন নারীকে কিনে নেয়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করে। যদিও তারা কখনও বিবাহ করে না। দক্ষিণ এশিয়ায় বালি গোত্র ছাড়া ভারতে রাজস্থান, গুজরাট আর মধ্যপ্রদেশের কিছু গোত্রের মধ্যে প্রচলিত আছে এই প্রথা।

পিঙ্কির পরিবার ভারতের এই বিল উপজাতির সদস্য। নাতা প্রথায় একজন নারীকে ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার ভারতীয় মুদ্রায় বিক্রি করা হয়ে থাকে।

ঐতিহ্যবাহী ওই লেনদেন অনুষ্ঠানে সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী সদস্য আর দালালরা উপস্থিত থাকেন। তারাই নির্ধারণ করে কত মূল্যে হবে একজন নারী। পিঙ্কির দাদী কানকু বলেন,আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমার বৌ এই প্রথায় অংশ নেয়।

তখন সে মেয়েটিকে ছেড়ে যায়। ইচ্ছে হলে সে ফিরে এসে মেয়ের দায়িত্ব নিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোনো জোরাজুরি নেই। কয়েক শ’ বছর ধরে আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রীতি চলে আসছে।

পিঙ্কির মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানেন না তার দাদী। নাতা প্রথা গ্রহণ করার পর মায়ের সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি পিঙ্কির।

এই প্রথার কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে পরিত্যক্ত শিশুরা। অনেক সময় স্বজনদের দ্বারাই নির্যাতিত হয় তাদের। অনেকেই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

ঘরবাড়ি আর ক্ষেতখামারে কাজ করে তাদের দিন কাটে। এ প্রসঙ্গে রাজস্থানের সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থার শিশু অধিকার বিষয়ক প্রকল্পের প্রধান রামা কাল্লাসুয়া বলেন,আমাদের সম্প্রদায়ে পুনর্বিবাহের রেওয়াজ নেই।

তাই বিয়ের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠেছে এই নাতা প্রথা যা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত। বিয়েতে অনেক খরচ। আর আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন গরীব।

তাই খরচ বাঁচাতে আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই প্রথাটি চালু করেছিল।’ এই প্রথার মাধ্যমে কেবল বিবাহিতরাই সঙ্গী খুঁজে নিতে পারবেন।

তবে বর্তমানে এই প্রথার অপব্যবহার হচ্ছে। কেননা নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক অবিবাহিতরাও নাতা প্রথায় অংশ নিচ্ছে।

তবে বর্তমানে বিল সম্প্রদায়ের শিক্ষিত লোকজন এই প্রথা উচ্ছেদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের লড়তে হচ্ছে সমাজের প্রভাবশালী আর গোত্র প্রধানদের সঙ্গে যারা এ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকে।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বালি সম্প্রদায়ের পঞ্চায়েত সদস্য বংশীলাল খারাদি বলেন, আমি তো এতে খারাপ কিছু দেখছি না।

বরং নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করছে নাতা প্রথা। কেননা এর মাধ্যমে একজন অসুখী নারী স্বামী ছেড়ে অন্য পুরুষকে বেছে নেওয়ার অধিকার পায়। তবে এই প্রথার কারণে শিশুরা যে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিটিজিনিউজ / এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.