৫৬ বছরের জামদানি ঐতিহ্য হারুনের কাঁধে !

0
86

শাওন আজহার :: ‘দামে সস্তা মানে ভালো। হারুনের ঐতিহ্যবাহী জামদানি বিক্রি ভালো’ এই স্লোগানটি এখন মেলা থেকে মেলায়। মানুষের মুখে মুখে। জামদানি ব্যবসার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রায় ৫৬ বছরের জামদানি বিক্রির দায়ভার এখন হারুনের কাঁধে। ৩০ বৎসর পূর্বে পূর্বপুরুষরা এ ব্যবসার হাল হারুনের উপর ন্যস্ত করলে পরবর্তিতে পূর্বপুরুষদের উৎসাহে ২৬ বৎসর ধরে জামদানি বিক্রিই এখন তার নেশা ও পেশা।

নগরীর কাজির দেউরী আউটার স্টেডিয়ামে আসা এই খুচরা জামদানি বিক্রেতা জানান, জামদানির প্রতি মানুষের আগ্রহ ঢাকার পর চট্টগ্রামে বেশি। সে বিষয়টি মাথায় রেখে দোকানে বিপুল জামদানি শাড়ি কালেকশনে রেখেছি। চট্টগ্রামে আমরা প্রত্যেক বৎসর মেলায় অংশগ্রহণ করে থাকি। শুধু জামদানী মেলা নয়, বাণিজ্য মেলায় ও আমাদের অংশগ্রহণ থাকে। জামদানি শাড়ির পাশাপাশি টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি,সিল্কের শাড়ি আমাদের সংগ্রহে রয়েছে।

ঢাকার ধানমন্ডি পাইকারী বাজার থেকে আসা ‘ওয়ান কালেকশনের’ জামদানী শাড়ি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন- উর রশীদ সিটিজিনিউজকে জানান, প্রাচীনকালের অত্যন্ত স্পর্শকাতর মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙ্গালী নারীদের অতিপরিচিত এক নাম। বাংলার ঐতিহ্য বহন করে জামদানী শাড়ি। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানির কাপড়ের উপর নানান নকশার শেরওয়ানীর প্রচলন ছিল। বর্তমান সময়ে জামদানি শাড়ির কদর আগের মত না থাকলেও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলার নিদর্শন বহন করে চলেছে। দেশ ছাড়িয়ে জামদানি এখন ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানালেন হারুন।

এবারের মেলায় প্রায় দেড় হাজারের মতো জামদানি শাড়ির কালেকশন রাখার কথা জানিয়ে হারুন বলেন, মাসব্যাপী এ মেলায় লাভের পরিমাণ এখনও কত হবে তা বুঝা না গেলেও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে লাখ দেড়েকের মতো লাভ করতে পারবো,বাকিটা ভাগ্যের উপর। আমার দোকানে আড়াই হাজার টাকা হতে প্রায় সাত হাজার টাকা মধ্যে জামদানি শাড়ি পাওয়া যায় কিন্তু কিছু দোকানে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার শাড়িও রয়েছে ।

জামদানি শাড়ির উৎপত্তিস্থল দেশের সোনারগাঁও পল্লী থেকে সরাসরি জামদানি শাড়ি সংগ্রহ করে থাকেন এই জামদানি খুচরা বিক্রেতা। একই সাথে ভারতেও জামদানি শাড়ি রপ্তানি করে থাকেন।

ভারতীয় পর্যটকেরা জামদানি শাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়েই বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন জানিয়ে হারুন বলেন এর মধ্য দিয়ে আমাদের সাথে ‘জামদানি-ভারতীয় পোশাক’ এর একটি বিনিময় হয়। বাংলাদেশি জামদানি শাড়ি ভারতে রপ্তানি করলে এর বিনিময়ে ভারতীয় পোশাক বাংলাদেশে আমাদানি করা হয়।

এর ফলে সরকার ভ্যাট পাচ্ছে তাছাড়া, ভারতে জামদানি শাড়ির স্যাম্পল দেখে ভারতীয় পর্যটকরা বাংলাদেশে আসলে ভারতের তুলনায় এদেশ থেকে কমদামে জামদানি শাড়ি ক্রয় করতে পারছে।

জামদানি নামে এ মেলা নামকরণ করা হলেও মেলায় অন্যান্য পসরার স্টল বসানো প্রসঙ্গে হারুন বলেন, এটি মেলা জমে ওঠার একটি কৌশল। তবে কোন ধরনে প্রভাব পড়ছে না। কারণ প্রতি বছরই অন্য সামগ্রী বা পোশাকের দোকান মেলায় দেখা যায়। অন্য সামগ্রীর দোকানিরাও ভালো ব্যবসা করতে পারেন। জামদানি মেলাকে কেন্দ্র করে যেমন জাদু দেখা, নগর দোলায় চড়া ইত্যাদি মেলাকে জমিয়ে তুলে।

সোমবার (০২ অক্টোবর ২০১৭) নগরীর এম.এ. আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে শরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির মেলা। এবার মেলায় ১০৯টি স্টল থাকছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here