ভারতের অর্থমন্ত্রী তিনদিনের সফরে ঢাকা আসছেন

0
19

নিউজ ডেস্ক  ::   ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন মঙ্গলবার। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ২টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাকে স্বাগত জানাবেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট পঙ্কজ প্যাটেলের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল জেটলির সফরসঙ্গী হচ্ছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সফরে সরকারি পর্যায়ে দুটি চুক্তি সই হবে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা হবে। সফরের শেষ দিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৈঠকের ফল জানানো হবে।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় জেটলির এটি প্রথম সফর। জানা যায়, ঢাকায় এসে বিকেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ইকোনমিক রিলেশন্স: কারেন্ট স্ট্যাটাস অ্যান্ড ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নেবেন জেটলি।

এতে দু’দেশের নির্ধারিত প্যানেল আলোচকরা বক্তব্য রাখবেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকবেন। থাকবেন ব্যবসায়ী নেতারাও। ৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

এর মধ্যে একটি হচ্ছে: লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারতের প্রতিশ্রুত ৪৫০ কোটি ডলার বা সমপরিমাণ ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তি। অন্যটি ভারতীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা-সংক্রান্ত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের এপ্রিলে ভারত সফর করেন। তখন দু’দেশের মধ্যে এ বিষয়ে এমওইউ হয়েছিল। এখন আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে।

এ ছাড়া একই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই ও ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে ‘ভারত সরকারের ম্যাক্রোইকোনমিক ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন অরুণ জেটলি।

সূত্র জানায়, লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় তৃতীয় ধাপে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে ভারত। চুক্তি সই হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রকল্পভিত্তিক ফের চুক্তি হবে। তার পরই অর্থছাড় হবে।

এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে বিভিন্ন প্রকল্পে দুই দফায় ভারতের সঙ্গে মোট ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ সরকার। সূত্র বলেছে, প্রথম দফা ঋণ চুক্তির পর এ পর্যন্ত ৫৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে ভারত।

দ্বিতীয় দফায় সই হওয়া ঋণের মধ্যে এখন পর্যন্ত এক টাকাও ছাড় হয়নি। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিনিয়োগ সুরক্ষায় ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড প্রমোশন অব ইন্ডিয়ান ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি সই হয়েছিল ২০০৯ সালে।

এর মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে।’দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান চুক্তিটি ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে আরেকটি চুক্তি সই হবে।’ এফবিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানোর যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি কিছু পণ্য রফতানিতে দীর্ঘ সময় ধরে শুল্ক-অশুল্ক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

দু’দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে এটি অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। বৈঠকে এসব বাধা অপসারণের দাবি জানাবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

গত বছর হঠাৎ করে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর ‘অ্যান্টি ডাম্পিং’ আরোপ করেছে ভারত সরকার। বৈঠকে রফতানি নিরুৎসাহিত করে এমন অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশি পণ্যের মানের সনদ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

সিটিজিনিউজ / এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here