‘বাজারে চালের মূল্য সহনীয় দেখতে চায় কমিটি ’

0
12

নিউজ ডেস্ক  ::        বাজারে চালের মূল্য সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে দেখতে চায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চালের আমদানি শুল্ক সময়মতো একবারে না কমিয়ে দফায় দফায় কমানো হয়েছে।

একই সময়ে ভারতও চালের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। ফলে আমদানি শুল্ক কমানোর পরেও বাজারে চালের মূল্য কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমেনি । বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিটির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও শিরীন নঈম প্রমুখ। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের বৈঠকে চালের দাম নিয়ে সংসদীয় কমিটির দু’জন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এমন সময় চালের দামের বৃদ্ধি সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়।

এ সময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে কৈফিয়ৎ দিতে শুরু করলে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উদ্যোগ কী নেওয়া হয়েছে সেটা এখন আর বিবেচনার বিষয় নয়, বাজারে চালের দাম সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় দেখতে চায় কমিটি।

বৈঠকের কার্যপত্রের তথ্যে চালের দাম বাড়ার আরও কয়েকটি কারণ দেখিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণত আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার পর তা আবার কমতে থাকে।

গত মার্চে মোটা চালের গড় বাজারদর ছিল ৩৪ দশমিক ০৯ টাকা। এপ্রিলে ছিল ৩৪ দশমিক ৭৯ টাকা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলায় অকাল বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মোটা চালের দাম বাড়তে থাকে।

মে মাসে দাম হয় ৩৮ দশমিক ০৯ টাকা। ওই সময় আমদানির ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ শুল্ক থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল আমদানি হয়নি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র এক দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন চাল বেসরকারিভাবে আমদানি হয়।

ফলে এ সময় চালের জোগান প্রয়োজন অনুযায়ী হয়নি। পরে সারাদেশে বোরো ধান রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ফলন কমে যায়। এর ওপর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা, শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাজারে চালের দামে বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এর আগে গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও কমিটির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াদুদ চালের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

একই বৈঠকে কমিটির সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ে চরম ব্যর্থতা এবং গাফিলতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, সমস্যা মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি আছে। কিন্তু যখন কোনো দুর্যোগ আসে তখন সবকিছুই ভেঙে পড়ে।

সিটিজিনিউজ / এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here