মোটা চালের দাম আরো কমতে শুরু করেছে

0

নিউজ ডেস্ক  ::    খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম আরও কমেছে। বেড়েছে চাল আমদানিও। বাজারে কম দামে আমদানি করা চালের চাপ বেশি থাকায় ওই ধরনের চালের দাম কমেছে।

বুধবার খুচরায় প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হয়। একই সঙ্গে বিআর ২৮ বা সমমানের আমদানি করা চালের দামও কমে কেজি এখন ৫২ থেকে ৫৪ টাকা।

আমদানি হওয়া এসব চাল কিনতে এখন সাশ্রয় হচ্ছে ২ থেকে ৪ টাকা। তবে দেশি মিলের চালের দাম এখনও চড়া। বিশেষ করে সরু চালের মধ্যে মিনিকেট ও নাজিরশাইল এখনও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে চালের দর কমার প্রায় দু’সপ্তাহ পরে খুচরা বাজারে চালের দাম কমলো। দেশের পাইকারি বাজারে কেবল মোটা চালের দামই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

মোটা ও মাঝারি মানের চালের আমদানি বেড়েছে, যার সুফল পেতে শুরু করেছে দরিদ্র মানুষ। সরু মানের চাল আমদানি হয়নি, তাই দামও কমছে না।

তবে চাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২ শতাংশ ও বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর পরেও ভারতে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এখন আবার ভারত থেকে কম দামে আমদানি বাড়ছে।

অন্যান্য দেশ থেকেও প্রচুর চাল আমদানি করেছেন বেসরকারি আমদানিকারকরা। এতে বাজারে এখন পর্যাপ্ত আমদানি চাল সরবরাহ হচ্ছে। ফলে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর চালের পাইকারি বাজার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আড়তগুলোতে গত দু’সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি ভারতীয় মোটা চাল ৪১ টাকা, দেশি মোটা চাল ৪২ টাকা ও বিআর ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫১ টাকায়। মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও নাজিরশাইল ৬২ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর মগবাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ৫০ কেজির মোটা চালের বস্তা ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৪৫ টাকা। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা। এই চাল গত সপ্তাহে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি। বিআর-২৮ চাল ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকা হিসেবে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়।

খুচরায় তা ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা দরে মিলছে, যা আগে ছিল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে। নাজিরশাইল চাল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৭০ টাকায়। রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় চাল মিনিকেট। এ চালের দাম কমেনি।

বিশেষ করে রশিদ, মোজাম্মেল, বিশ্বাস এরফান ও উৎসবসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এই চাল এখনও ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কেজি পড়ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা। খুচরা বিক্রিতে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নিচ্ছেন দোকানিরা।

মগবাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের খুচরা ব্যবসায়ী ইউনুসুর রহমান বলেন, পাইকারি বাজার থেকে কম দামের চাল এখন সব বাজারে পৌঁছেছে। তাই খুচরায় এখন কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে দাম আরও কমলে খুচরায় কমে আসবে। তিনি বলেন, আমদানি করা চালের সরবরাহ অনেক বেড়েছে।

এতে আমদানি চালের দাম বেশি কমেছে। তবে দেশি মিলগুলো এখন বেশি দামেই বিক্রি করছে। মিরপুর ১ নম্বর বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাজারে এখন মোটা চালের দাম বেশি কমেছে। প্রতি কেজিতে ৪ টাকা কমে মোট চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিআর-২৮ চাল কেজিতে ২ টাকা কমে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা হয়েছে। তবে অন্যান্য সরু চাল আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এ চাল মিলগুলো কম দামে ছাড়ছে না।
সিটিজিনিউজ /এসএ

Share.

Leave A Reply