ওয়াসার পানি বাজারজাত,দুইটি ফ্যাক্টরিকে অর্থদণ্ড

0

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  বিএসটিআই সনদ না নিয়ে ওয়াসার পানি সরাসরি নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাবার পানি হিসেবে বাজারজাতকরণের দায়ে দুই পানির ফ্যাক্টরিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠান দুটির নাম “ফ্রেন্ডস বেভারেজ” ও “আন্তরিক ড্রিংকিং ওয়াটার”।

নগরীর চাক্তাইয়ের নয়া মসজিদ এলাকায় অবস্থিত ওই পানির ফ্যাক্টরীকে কে বিএসটিআই অধ্যাদেশ-১৯৮৫ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৩৭,৪৩,৪৫, ও ৫৩ ধারা ভঙ্গনের দায়েএ জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান,  নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাবার পানি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের দায়ে এ দুইটি পানির ফ্যাক্টরীকে জরিমানা করা হয়। দুপুর ১২টায় নগরীর চাক্তাই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের ভিতরে গোপনে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাণিজ্যিক খাবার পানি ঊৎপাদন করা হচ্ছে।  চাক্তাইয়ের নয়া মসজিদ এলাকার মাইলো বিল্ডিং এ অবস্থিত “আন্তরিক ড্রিংকিং ওয়াটার” এর ফ্যাক্টরিতে অভিযানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট

খাবার পানি ঊৎপাদনের ভয়ানক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিএসটিআই সনদ ব্যতিরেকেই ফ্যাক্টরি টি ওয়াসার লাইন থেকে পানি নিয়ে তা জমা করছে ট্যাংকিতে। পরবর্তীতে তা বিএসটিআই- এর সুনির্ধারিত পদ্ধতি ও মান অনুসরণ না করে সরাসরি প্লাস্টিকের বড় বোতলে ভরা হচ্ছে  এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং প্রতিষ্ঠানে বাজারজাত করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাবার পানির ফ্যাক্টরিতে সচল স্যানিটেশন সিস্টেম, পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম, রিভার্স অসমোসিস ইউনিট, পানি প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, ডীপ টিউবওয়েল ব্যবস্থা, পৃথক ড্রেস চেঞ্জিং রুম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেডিক্যাল ও স্যানিটেশন সনদ প্রভৃতি থাকার বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। কিন্তু “আন্তরিক ড্রিংকিং” এর ফ্যাক্টরিটি ভবনের নীচতলায় অবস্থিত এবং এর পানি  প্রক্রিয়াকরণ কক্ষটির ফ্লোরটি ভবনের ড্রেনেজের সাথে সংযুক্ত এবং তা প্রায়শই ব্যবহৃত হচ্ছে কর্মচারীদের প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদনের স্থান হিসেবে। খাবার পানির ফ্যাক্টরিতে পৃথক মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাব (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত), কেমিক্যাল ল্যাব   এবং ল্যাবে নিয়মিত ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত নমুনা পানির টেস্ট রেকর্ড থাকতে হবে।  কিন্তু এই ফ্যাক্টরিতে পানির মান পরীক্ষার জন্য কোনো ধরণের ল্যাবরেটরি নেই ।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএসটিআই সনদ প্রাপ্তি , পানি উৎপাদনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাব স্থাপন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাক্টরি টি অন্যত্র স্থাপনের শর্তে ফ্যাক্টরির মালিকের নিকট থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরি টি কোনো ধরণের পানি উৎপাদন করতে পারবে না বলে ফ্যাক্টরি মালিক আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেছেন।

“ফ্রেন্ডস বেভারেজ” এর ফ্যাক্টরি টি ২০১০ সালে বিএসটিআই সনদ নিয়েছিল যার মেয়াদ ছিল ২০১২ পর্যন্ত। এরপর ফ্যাক্টরি টি বিএসটিআই সনদ নবায়ন করেনি। ফ্যাক্টরিতে ল্যাবরেটরি স্থাপনের নামে  কিছু যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো সচল নেই। ফ্যাক্টরিতে কোনো মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং কেমিস্ট আছে কিনা জানতে চাইলে মালিক রেজাউল করিম জানান, ফ্যাক্টরি চালুর পর এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।একইভাবে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএসটিআই সনদ প্রাপ্তি , পানি উৎপাদনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাব স্থাপন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের শর্তে ফ্যাক্টরির মালিকের নিকট থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরি টি কোনো ধরণের পানি উৎপাদন করতে পারবে না বলে ফ্যাক্টরি মালিক আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেছেন।

অভিযানে প্রসিকিউটিং প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই এর ফিল্ড অফিসার  জেরিন তাসনিম এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে ব্যাটালিয়ান আনসারসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ও পণ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply