‘পরোক্ষ কর না প্রত্যক্ষ কর হ্যা’

0 40

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

হাকিম মোল্লা:অর্থনীতির ন্যূনতম অপচয়ও রোধ করতে পারে প্রত্যক্ষ কর। ক্রম উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান বাংলাদেশের জন্য এই কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি জানিয়ে পরোক্ষ করকে না ও প্রত্যক্ষ করকে হ্যা বলে মতামত প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে ইপসা প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কর ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়ক অধিপরামর্শ সভায় বক্তাগণ উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন।

বাংলাদেশ ক্রম উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান একটি দেশ। দেশটি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বার্ষিক পরিকল্পনা অর্জনের মাধ্যমে আত্ম নির্ভরশীল হওয়ার জন্য প্রতিশ্রতিবদ্ধ। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কর ব্যবস্থার সংস্কার-এর জন্য কিছু প্রশাসনিক নীতি গ্রহন করেছে যা দরিদ্র বান্ধব না এবং এটা কোন উত্তম “করনীতি” না। কর ব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকরী হওয়া উচিৎ এবং ব্যবস্থাটি হওয়া উচিৎ এমন যেখানে অর্থনীতির ন্যূনতম অপচয়ও রোধ করতে পারে।

এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সুপ্র তার নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠনগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে একটি উত্তম কর ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়েছে যে কর নীতি অর্থনীতির ন্যূনতম অপচয় রোধ এবং যৌক্তিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারবে এবং যেটি হবে বাংলাদেশের একটি প্রগতিসূচক কর ব্যবস্থা।

সুপ্র কর প্রদানে ন্যায্যতার উপর ২০১০ সাল থেকে কাজ করে আসছে। তৃণমূল সংগঠনের নেটওয়ার্ক হিসাবে সুপ্র দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকার ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে কর ন্যায্যতা-এর ক্ষেত্রে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছে।

সুপ্র মনে করে কর ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ দরিদ্র বান্ধব যা কোনভাবেই তাদের জীবনের ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। সুপ্র কতৃক কর বিষয়ক প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হল নাগরিক দলগুলো থেকে বৃহত্তর জোট গঠন করা যাতে করে এটা জনগনের আন্দোলনের একটা অংশ হতে পারে। ফলে বাংলাদেশে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর ন্যায্যতা বিষয়ক সংলাপ আয়োজনের উপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।

এই প্রচারাভিযান কৌশল অনুযায়ী তিন প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম গ্রহন করা হবে- জ্ঞান তৈরী, তৃণমূল প্রচারাভিযানের সক্ষমতা তৈরী এবং সরকারের রাজস্ব বোর্ডের সাথে সম্পৃক্ততা। কার্যক্রমগুলো হলো- জ্ঞান তৈরির জন্য ধারাবাহিক প্রচারণা কর্মসূচি আয়োজন, তৃণমূল সমাবেশীকরণ, গবেষণা, অধিপরামর্শ, নেটওয়ার্কিং এবং জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে জোট গঠন।

এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিৎ করে বিদ্যমান আইন কার্যকরীভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পদভিত্তিক কর ও উপার্জনভিত্তিক কর বৃদ্ধি করা এবং কর্পোরেট কর অসঙ্গতি কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষ করের আওতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়ানোর সরকারের কাছে দাবী জানানো হয়।

আজ সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে ইপসা প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কর ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়ক অধিপরামর্শ সভায় বক্তাগণ উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক এম. নাসিরুল হকের সভাপতিত্বে উক্তসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আযাদ, সুপ্র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো: আরিফুর রহমান।

ইপসা’র প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ ওমর শাহেদের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্র চট্টগ্রাম জলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

উক্ত অধিপরামর্শ সভায় সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্যরাসহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.