রোনালদো `বদলি’ খেলোয়াড়!

0

ক্রিয়া ডেস্ক    ::  শনিবার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অ্যান্ডোরার বিপক্ষে ম্যাচ ছিল পর্তুগালের। ম্যাচটি যারা দেখেছেন, পর্তুগালের শুরুর একাদশ দেখে বিস্মিতই হওয়ার কথা তাদের।

বাছাইপর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। অথচ সেই ম্যাচে পর্তুগালের শুরুর একাদশে কিনা নেই অধিনায়ক গোল-মেশিন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো! চোট থাকলেও একটা যুক্তি থাকত।

কিন্তু রোনালদোর তো চোট নেই। তিনি দিব্যি দলের সঙ্গে আছেন। আছেন বদলি খেলোয়াড় তালিকাতেও। কিন্তু শুরুর একাদশে নন, রোনালদোর নাম কিনা বদলি তালিকায়! কেন? ম্যাচ শেষে সেই ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোসকে।

পর্তুগাল কোচ বলেছেন, রোনালদো দলের সঙ্গে যথাযথ অনুশীলন করেননি। ফলে সে পুরো ফিট ছিল না। তাই তাকে বদলি হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত!

ফিটনেসে ঘাটতি থাকলে কোচ কোনো খেলোয়াড়কে বদলি তালিকায় রাখতেই পারেন। তাই বলে রোনালদোর মতো গোল-মেশিনকে? তা ছাড়া তিনি তো দলের অধিনায়কও। তার চেয়েও বড় কথা, মাত্রই তো ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে এসেছেন রোনালদো।

এসব যুক্তির বাইরে গিয়েই রোনালদোকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখেন পর্তুগাল কোচ। তবে রোনালদোকে শুরুর একাদশে না নামানোর বোকামিটাও হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন পর্তুগাল কোচ।

রোনালদোবিহিন পর্তুগাল প্রথমার্ধে কোনো গোল করতে পারেনি। গোল করা দূরের কথা, নিজেদের ঠিকভাবে মেলেই ধরতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই তাই রোনালদো সান্তোস। আর মাঠে নেমেই নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন সিআর৭। নিজে এক গোল করেছেন।

সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন অন্যটি। হয়েছেন ম্যাচসেরা। তার কাঁধে চেপেই পর্তুগাল পেয়েছে ২-০ গোলের স্বস্তির জয়। যে জয়ে ভালোভাবেই জিঁইয়ে আছে পর্তুগালের সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার আশা।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে দূরূহ কোণ থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। যেটি এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার ১৫তম গোল।

এবারের ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১৫ গোলই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তবে রোনালদোর সমান ১৫ গোল করেছেন বায়ার্ন মিউনিখে খেলা পোল্যান্ডের রবার্ট লেভান্ডভস্কিও। ৮৬ মিনিটে পর্তুগালের দ্বিতীয় গোলের উৎসও অধিনায়ক রোনালদোই। তার ক্রস থেকেই গোল করেন আন্দ্রে সিলভা।

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই পর্তুগাল কোচ সান্তোসকে উত্তর দিতে হলো রোনালদো বদলি তালিকার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে। সান্তোস বেশখানিকটা সময় নিয়ে ভেবে নিচু স্বরে বললেন, ‘ভালো, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি অনেক অনেক ভেবেছি।

সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্তটা নিতে হয়েছে। কারণ, সর্বশেষ দুদিন সে আমাদের সঙ্গে পুরো অনুশীলন করেননি। কাজেই সে শতভাগ ফিট ছিল না।’ রোনালদো অবশ্য কোচের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

কোচ সান্তোসেরও ভাগ্য ভালো দল জিতে যাওয়ায়। ফলাফল অন্য রকম হলে তুলোধুনোই হতো হতো তাকে। যাই হোক দারুণ এই জয়ে ভালোভাবেই জিঁইয়ে আছে পর্তুগালের সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার আশা। ৯ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে বি গ্রুপের শীর্ষে সুইজারল্যান্ড।

শনিবার যারা ৫-২ গোলে হারিয়েছে হাঙ্গেরিকে। সমান ম্যাচে দুই নম্বরে থাকা পর্তুগালের পয়েন্ট ২৪। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে রোনালদোর পর্তুগাল।

যার অর্থ, মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিতলেই সরাসরি রাশিয়ার টিকিট পেয়ে যাবে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। সেক্ষেত্রে সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় সুইজারল্যান্ডকে নামতে হবে প্লে-অফ যুদ্ধে। পর্তুগালের জন্য স্বস্তির, ম্যাচটা হবে তাদের ঘরের মাঠেই।

সিটিজিনিউজ / এস এ

 

 

 

 

Share.

Leave A Reply