উখিয়ার পালংখালীতে কলেরার টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন

0
নিজস্ব প্রতিবেদক ::  মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (টিকা) দেয়ার কার্যক্রম শুরু ।  মঙ্গলবার  দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক উখিয়ার পালংখালীতে কলেরার টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পাঠানো ৯ লাখ কলেরার ভ্যাকসিন রবিবার কক্সবাজার এসে পৌঁছেছে। উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও ৪০টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একযোগে চলবে কলেরার ভ্যাকসিন খাওয়ানোর কার্যক্রম। রোহিঙ্গা এবং আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এই সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে টিকা কার্যক্রম শুরু করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
 উখিয়া সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ আজ সোমবার বিকালে এসব তথ্য জানান।
 তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সাতদিন প্রথম রাউন্ডের টিকা কার্যক্রম চলবে। এইসময়ের মধ্যে এক বছরের বেশি বয়সী সকলকে কলেরা ভ্যাকসিন খাওয়ানো হবে এক ফোঁটা করে। ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সাতদিন চলবে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকা কার্যক্রম। এই সাতদিন এক বছর থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে। প্রথম রাউন্ডে সাড়ে ৬ লাখ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে আড়াই লাখ ভ্যাকসিন খাওয়ানো হবে।
 টিকা কার্যক্রমের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বয়ে একটি করে টিম গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে দুজন টিকা খাওয়াবেন। একজন টিকা খাওয়ানোর পর রোগীকে শনাক্তকরণ চিহ্ন দেবেন। একজন লাইনে দাঁড় করাবেন এবং আরেকজন ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ডেকে আনবেন। ভ্যাকসিন খাওয়ানোর পর এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি খাওয়ানো হবে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী সকলেই কলেরার ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরনো রোহিঙ্গাদেরও কলেরার টিকা খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদ্যোগে হাম-রুবেলা, পোলিও এবং ভিটামিন-এ টিকা কার্যক্রমের পর আগাম সতর্কতা হিসেবে কলেরা টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ক্যাম্পে থাকা সব রোহিঙ্গা এই টিকা কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।
 রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য কক্সবাজারে অবস্থানকারী চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে সিটিজিনিউজ বলেন, সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে কলেরাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮ হাজার ৪৯২ জন ডায়রিয়া ও অতি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৬ হাজার ৬২৬ জন আমাশয়ে ভুগছেন। এখন পর্যন্ত কলেরা রোগী পাওয়া না গেলেও প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ ডায়রিয়া-আমাশয়ে ভুগছে। এতে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। সেজন্য আমরা কলেরা ভ্যাকসিন খাওয়ানো শুরু করছি। এতে রোহিঙ্গারা ১২ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
 রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনো সংক্রামক রোগ রয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য সংক্রামক ব্যাধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাকেন্দ্র (আইইডিসিআর)-এর একটি বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। এই পর্যন্ত টেকনাফে ৬ জন হাম-রুবেলা আক্রান্ত রোহিঙ্গা শিশু শনাক্ত হয়েছে। হেপাটাইটিস-বি ও সি আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ১০জন। এছাড়া অসংখ্য রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার সাথে সঙ্গে নিয়ে আসছে মারাত্মক সব সংক্রামক রোগ। ইতোমধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বিভিন্ন ক্যাম্পে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে দুই লাখ ৮০ হাজার ডোজ হাম-রুবেলা, পোলিও এবং ভিটামিন-এ প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে। ডায়রিয়া ও অতি ডায়রিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ-বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) উখিয়া ও টেকনাফে চারটি কেন্দ্র খুলেছে।
সিটিজিনিউজ/এইচএম 
Share.

Leave A Reply