চুরির টাকায় ঋণ শোধ !

0
45

নিউজ ডেস্ক :: খুলশী পিবিআই কার্যালয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় এক যুবককে। নিজের প্রাইভেট কার আর জমি বিক্রি করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিল সে। পরে সব টাকা লস করে। মা কষ্ট পাবে ভেবে লোকসান আর ঋণের কথা মাকে জানায়নি। ভেবেছিল চুরির টাকায় ঋণ শোধ করবে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) রাতে মোটর সাইকেল চুরি করতে এসে ধরা পড়েন এই শিক্ষিত যুবক শাকিউল বশর শাকিল(২৯)।

এর আগে প্রতারণার মাধ্যমে তিনটি মোটরসাইকেল চুরির পর চতুর্থবারে শাকিল ধরা পড়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে। তার দেওয়া তথ্যমতে পিবিআই চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির দালাল অর্জুন কুমার নাথকেও আটক করেছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মঈন উদ্দিন বলেন, শাকিল তিনটি মোটরসাইকেল চুরির পর বিক্রির কথা স্বীকার করেছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেব। অর্জুন একজন পেশাদার দালাল। সীমান্তপথে আসা ও চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রিতে অর্জুন মধ্যস্থতা করে।

চুরির কৌশল সম্পর্কে পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, বিক্রয় ডটকমে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে চুরির ফন্দি আঁটে শাকিল। বিক্রেতার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে। এরপর প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে সেই মোটরসাইকেল দেখতে গিয়ে বিক্রেতার কাছে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং দরদাম করে।

‘তারপর আরেকদিন সে একাই মোটরসাইকেল কিনতে যায়। প্যাকেটে মোড়ানো টাকার বান্ডিল বিক্রেতার সামনে রেখে শাকিল মোটরসাইকেলটি চালানোর কথা বলে স্টার্ট দিয়েই চম্পট দেয়। সোজা চলে যায় ফটিকছড়িতে। বিক্রেতা প্যাকেট খুলে দেখে সেখানে টাকা নেই, সব নোটের আকৃতির কাগজের বান্ডিল। ’

শাকিল ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তার বাবা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা এবং মা ফটিকছড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে শাকিল সবার ছোট।

অর্জুনের বাড়িও একই গ্রামে। তার স্ত্রীও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ২০১০ সালে দুবাই থেকে ফিরে অর্জুন মোটরসাইকেল বিক্রির মধ্যস্থতার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানিয়েছেন, শাকিল নগরীর শুলকবহর, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এবং ওমরগণি এমইএস

কলেজের সামনে থেকে তিনটি মোটরসাইকেল প্রতারণার মাধ্যমে চুরির কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) রাতে নগরীর জামালখানে আরেকটি মোটরসাইকেল চুরি করতে এসে শাকিল ধরা পড়েছে। অর্জুনকে ফটিকছড়ি বাজার থেকে আটকের পর চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পিবিআই টিম। অর্জুন ১২টি মোটরসাইকেল বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।

সাংবাদিকদের সামনে শাকিল পিবিআই কর্মকর্তাদের জানান, ফটিকছড়ি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে ২০১০ সালে ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজারে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খুলে ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসার লোকসানের পর চারটি সিএনজি অটোরিকশা কিনেন। সেগুলো বিক্রি করে ২০১৪ সালে পটিয়া পৌরসভায় দ্যা এভিনিউ নামে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন। ৯ মাসের মধ্যে সেই রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর নিজের ১৩ লাখ এবং আরও ১০ লাখ টাকা ধার নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজারে ফ্রেন্ডস টেলিকম নামে একটি মোবাইল বিক্রির প্রতিষ্ঠান চালু করেন। পার্টনার জাকির ও ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা মিলে তার টাকা মেরে দেয়।

২০১৬ সালে সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবার পর শাকিল কসমেটিকসের ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু পাওনাদারের চাপ সামলাতে না পেরে গত ঈদুল ফিতরের পর প্রতারণা ও চুরিতে নামে।

পিবিআই কার্যালয়ে শাকিল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, নিজের প্রাইভেট কার আর জমি বিক্রি করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলাম। সব টাকা লস করেছি। মা কষ্ট পাবে ভেবে লোকসান আর ঋণের কথা মাকে জানাতে পারিনি। ভেবেছিলাম চুরির টাকায় ঋণ শোধ করব।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here