ভক্ত আগমনে সরগরম ফটিকছড়ির গাউসিয়া হক মঞ্জিল

0

নিউজ ডেস্ক :  ভক্ত আগমনে সরগরম ফটিকছড়ির গাউসিয়া হক মঞ্জিল। বিশ্বঅলি হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ২৯তম ওরস উপলক্ষে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভক্তদের ঢল নেমেছে ।

ভিড় ও যানজট সামলাতে মাইজভাণ্ডার শরিফের বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও নারী পুলিশ সদস্য, হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

গাউসিয়া হক মঞ্জিলের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আশরাফ জানান, প্রতিবছর ২৬ আশ্বিন মহাসমারোহে বিশ্বঅলির ওরসের আয়োজন করা হয়। বুধবার (১১ অক্টোবর) মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগে বাদ ফজর রওজা শরিফে গিলাফ চড়ানো, দিনব্যাপী খতমে কোরআন, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল এবং রাত ১০টায় আলোচনা ও কেন্দ্রীয় মাহফিলের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন সাজ্জাদানশীন হজরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)।

শাহানশাহ্ হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের উদ্যোগে রয়েছে ‘ইসলামের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য’ সম্বলিত দুর্লভ চিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী, উপদেশমূলক, দিক-নির্দেশনা সম্বলিত প্রচার, বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা ইত্যাদি। এবার ওরস উপলক্ষে নগরীর মুরাদপুর থেকে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে বিআরটিসির বিশেষ বাস সরাসরি মাইজভাণ্ডার শরিফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, শাহানশাহ্ হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) হচ্ছেন অছি-এ-গাউসুল আজম হজরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর (ক.) বড় ছেলে। বহু রিয়াজত ও সাধনার পথ পেরিয়ে ১৩৭৩ বাংলার ৯ মাঘ উরস্ শরিফের প্রথম দিনে গাউসুল আজম হজরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) স্বপ্নাদেশক্রমে তার বাবা হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীকে (ক.) আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাফত দানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ অলির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।

হজরত গাউসুল আজম শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ), গাউসুল বিরাসত হজরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.) এবং অছি-এ-গাউসুল আজম হজরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এ তিন আধ্যাত্ম খনির আমানত হচ্ছেন শাহানশাহ্ হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী

(ক.)। হজরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) স্বপ্নযোগে শাহানশাহ্ হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (ক.) মাথায় তাজ পরানোর মাধ্যমে, হজরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) স্বপ্নযোগে নিজ আধ্যাত্মিক পাঠশালায় ভর্তি করে এবং মুর্শিদে কামেল হজরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর (ক.) জালালি দৃষ্টির মাধ্যমে শাহানশাহ্ হজরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীকে (ক.) মাইজভাণ্ডারী আধ্যাত্মিক শরাফতের জিম্মাদারি অর্পণ করেন এবং ফয়েজ-বরকত দান করেন। ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর মাঝ রাতে তিনি ওফাত লাভ করেন।

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কুমার বড়ুয়া জানান, মঙ্গলবার থেকেই মাইজভাণ্ডার শরিফে ভক্তদের আসা শুরু হয়েছে। ঝংকার মোড়ে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে নারী পুলিশও আছেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

Share.

Leave A Reply