গুণগত মান ধরে রাখাই ব্যবসার স্বাফল্য-সৈয়দ নূর

0

এনবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নুর

হাকিম মোল্লা : শততা সফলতা চাবিকাটি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছেন নূর ব্রার্দাস (এনবি গ্রুপ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সৈয়দ নূর ।

১৯৮৬ সালে মাত্র কয়েকশত ফুট জায়গায় শুুরু করেন ট্রেডিং ব্যবসা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশের দুধের ঘাটতি পূরনের লক্ষ্যে আমদানী করতেন গুড়োদুধ ও বিভিন্ন পণ্য । সঠিক গুণগত মানের বিদেশী কয়েকটি ব্র্যান্ডের গুড়োদুধের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। গুণগত মানের বিষয়ে আপোষহীন এই চিন্তা-চেতনা নিয়ে এগিয়ে যায় গুড়োদুধের ছোট ট্রেডিং ব্যবসা।

এখন ট্রেডিং ব্যবসার সাথে যোগ হয়েছে ইমপোর্ট,এক্রপোর্ট,ম্যানুফ্যাকচারিং (প্যাকেটজাত) এবং সাপ্লাই। চট্টগ্রামের এ. কে খান মোড় এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে নূর গ্রুপের পণ্য -ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, স্কিম মিল্ক পাউডার, স্বাদ লবণ, চা-পাতা, টেস্টিং সল্ট, পাস্তরিত দুধ অনুমোদিত দ্রব্য সমূহ যা প্রতিদিন চলে যাচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশে।

ছোট একটি ব্যবসা থেকে কোম্পানী হওয়ার পথে ছিল নানান প্রতিবন্ধকতা। প্রতিযোগিতার এই বাজারে সততা আর গুণগত মানকে টিকিয়ে রাখতে একসময় নিস্বও হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু সৈয়দ নূরতো ফিনিক্স পাখি। ছাইভষ্ম থেকে পুনর্বার উড়তে জানেন। তাইতো পরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ী বন্ধুদের সহায়তায় নতুন উদ্যোমে শুরু করেন শিল্প প্রতিষ্ঠান নুর ডেইরি এন্ড ফুডস প্রসেসিং। সেই থেকে আজকের ‘ মেসার্স নুর ডেইরি এন্ড ফুডস প্রসেসিং এর পথচলা।

এনবি গ্রুপের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সম্প্রতি নগরীর খাতুনগঞ্জ রহমান বিল্ডিং এ তাদের প্রধান কার্যালয়ে গেলে কথা হয় এনবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সৈয়দ নূর এর সাথে। কথা হয় ছোট ভাই এনবি গ্রুপের পরিচালক নাজিম উদ্দিনের সাথেও। দুগ্ধ শিল্পের সাথে তাদের সম্পৃক্ততাসহ দেশে এই শিল্পের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতের বিকাশে এই শিল্পের সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কথা হয় অর্থবাজারের এই প্রতিবেদকের সাথে। সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশটুকু তুলে ধরা হলো:

যাত্রা শুরু কবে থেকে কিভাবে?
সৈয়দ নূর: স্বল্প পুজি নিয়ে ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করি । ১৯৮৬ সালের কথা। গুড়োদুধের দেশের চাহিদা প্রচুর। সেই সময় থেকে স্বপ্ন দেখি এই পণ্য ম্যানুফ্যাকচারিং (প্যাকেটজাত) নিজেরাই করবো। সে চিন্তা থেকে ১৯৯২ সালে নিজেরাই ইমপোর্ট (আমদানি) শরু করলাম। আমরা নিজস্ব ব্র্যান্ড ডেইরি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার নামে ব্র্যান্ডে আমরা প্যাকেট জাত করে বাজারে সরবরাহ করছি।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এনবি গ্রুপের সহযোগিতায় পিঠা উৎসবে অতিথিদের সাথে এনবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ।

এই ব্যবসায় কাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন?
সৈয়দ নূর : প্রথমে পরিবারের,ব্যাবসায়িক বন্ধুদের পুর্নসহয়োগীতা এগিয়ে যাচ্ছি। তাদের উপর নির্ভর করেই আমার ব্যবসার সকল স্বফলতা।

আপনাদের কি কি পণ্য রয়েছে?
সৈয়দ নূর: ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার,স্কিম মিল্ক পাউডার,চিনি ,স্বাদ লবণ,,চা-পাতা,ডাল ,চাঊল দ্রব্যসমূহ। ভবিষ্যতে আরো অনেক পণ্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মো. নাজিম উদ্দিন, এনবি গ্রুপের অন্যতম পরিচালক ও সৈয়দ নুরের ছোট ভাই। পথ শিশুদের নিয়ে দিন ব্যাপী একটি অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণী করছেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে।

পণ্যগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে বলুন?
সৈয়দ নূর : আমাদের প্রজেক্টে ২ শিফটে ৩০০ কার্যদিবস পর্যন্ত পণ্য উৎপাদনের জন্য ধার্য্য রয়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে পণ্য উৎপাদন ক্ষমতা শতভাগ করা হয়েছে। যা ২০১৪-২০১৫ সালে ৭০ শতাংশ ছিল।

কোম্পানীর স্বাফল্য ধরে রাখতে আপনার পরামর্শ কি?
সৈয়দ নূর: কোম্পানীর পণ্য ও সেবা সম্পর্কে যে কোন ধরনের সুচিন্তিত মতামতই আমাদের আগামী দিনের পথ চলা। এর আলোকে ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (শনিবার) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে ব্যবসায় বৃদ্ধি ও সম্পর্ক উন্নয়ন এর লক্ষ্যে প্রথমবারের মত এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশে শতাধিক ডিলার অংশগ্রহণ করেন। পণ্যের গুণগত ও সঠিক মান নিশ্চিত করা যেন দায়িত্ব মনে করেন কোম্পানী তেমনি ব্যবসায় বৃদ্ধি ও সম্পর্ক উন্নয়নের ঈমানী দায়িত্ব ডিলারদেরও আমি মনে করি।

কোম্পানীতে বর্তমান জনবল কতজন?
সৈয়দ নূর : বর্তমানে আমার ১৬২ জন এমপ্লয়ী রয়েছে। তার মধ্যে সিনিয়র এক্্িরকিউটিভ ৭ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ ১৫ জন, মার্কেটিং এন্ড ওয়ার্কার রয়েছে ১৪০ জন। ভবিষ্যতে এর সংখ্যা ৫০০ করার সম্ভাবনা রয়েছে। যা পণ্য উৎপাদন ও ব্যবসায় বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে।

নতুন কোন পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন কি?
সৈয়দ নূর : পটিয়া উপজেলার পশ্চিম গৈরালায় একটি ডেইরি ফার্ম করা হয়েছে। চলতি বছর ২০১৭ সালের মধ্যে পাস্তুরিত তলর দুধ বাজারে ছাড়বো। যা সম্পূর্ণ জার্মানি টেকনোলজিতে উৎপাদন করা হবে।

এই শিল্পে বাংলাদেশের সম্পদ সক্ষমতা ও সম্ভাবনার দিক গুলো কি?
সৈয়দ নূর : আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় চাহিদা অনেকাংশে কম। সেই জায়গায় মাত্র ৩০ শতাংশ ঘাটতি পূরণ করতে পারছি। এই অবস্থায় আমি মনে করি সরকারের উচিৎ ২০-৫০ বছরের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে ভালো গরুর জাত সরবরাহ করা। যেখান থেকে আমাদের আয়ের একটি বড় অংশ পাওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দুর করা সম্ভব। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে কোটি কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় হবে। যে বাজারটি এখন ইউরোপের দখলে । এ শিল্পে সরকারের সহযোগিতা পেলে শত কোটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বর্তমানে বাজারে এনবি গ্রুপের যে সকল পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

এই শিল্পের বিকাশে নীতিগত সহায়তা ও পার্থিব পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে কি?
সৈয়দ নূর : অবশ্যই। এই খাতে সরকার ৪০০-৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। ভ্যাট যদি কমানো হয় তাহলে কম গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয় মূল্যে পন্য সরবরাহ করা যাবে।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে কথা হয় নূর ডেইরি এন্ড ফুডস্ প্রসেসিং (এনবি গ্রুপ) এর পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সাথে। তার সাথে কথপোকথনের বিশেষ অংশটুকু তুলে ধরা হল:

তরুণ ব্যবসায়ী হিসেবে এই খাতে আপনার অনুভূতি কি?
নাজিম উদ্দিন : বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দ নূরের আদর্শ চিন্তা-চেতনাকে ধারন করে বড় হয়েছি। সেই আদর্শকেই এখন কাজে লাগাই। যাতে এই প্রতিষ্ঠান কাস্টমার বান্ধব প্রতিষ্ঠান হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মানের প্রয়োজন রয়েছে কিনা এই শিল্পে। একজন তরুণ-তরুণী কি এই শিল্পে কাজ করতে আগ্রহী হয়?
নাজিম উদ্দিন: অবশ্যই। আমাদের প্রজেক্টের বেশিরভাগ লোকবলের অংশই তরুণ। দ্রুত ব্যবসার প্রসার ঘটাতে তরুণদের এ বয়সটি গুরোত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যবসায় আসার পর এই অনুভূতি বেশি কাজ করছে।

আপনার কাছে এই শিল্পের প্রতিবন্ধকতা কি?
নাজিম উদ্দিন : দুগ্ধ শিল্পটি একটি স্পর্শকাতর সেক্টর। এটি উৎপাদনের পর যত দ্রুত সম্ভব বাজারে সরবরাহ করার দরকার পরে কিন্তু পণ্য ট্রান্সপোর্ট খরচ ও অসহনীয় যানজট এর উন্নতির বড় অন্তরায় হয়ে দাড়ায়। এসময় তিনি উষ্মা প্রশ্নœাশ করে বলেন, প্রতিবছর সরকার যে খাতটি থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব নিচ্ছে সেই খাতটির প্রতি এত অবহেলা!

এই শিল্প নিয়ে আর কতদূর যেতে চান ?
নাজিম উদ্দিন : বিভিন্ন ক্যাটাগরি আইটেমে আমরা শতভাগ উৎপাদনে গেলে আমাদের লক্ষ্যে দেশের চাহিদা মিটানো , নিত্য নতুন ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনাদের দুজনকে অর্থবাজারের সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ায় ধন্যবাদ ।

সৈয়দ নূর ও নাজিম উদ্দিন : বাংলাদেশে প্রচুর সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। অশেষ সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই মাতৃভূমি। তথাপি দরিদ্র ও দূর্বল অর্থনীতির সংকটাপন্ন দেশ আমরা চাই না। এই অবস্থায় ঈ্রশ্নœœ ম্যাগাজিনের এমন সাক্ষাৎকারধর্মী প্রতিবেদন নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রেরণা যোগাবে। যারা দেশের অর্থ নৈতিক উন্নয়নের মূলচালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই অর্থবাজারের এমন উদ্যোগ প্রশ্নœংসার দাবিদার।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

 

 

 

Share.

Leave A Reply