ছয় বন্ধুর গ্রেভি ডাইন রেস্টুরেন্ট

0

আহমেদ আলী খান

হাকিম মোল্লা:  শৈশব থেকেই মুক্ত চিন্তা করে বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই  দেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট  ঘুরে বেরিয়েছেন। রেস্টুরেন্টের বাহারি খাবার সব সময় তাকে অবাক করতো। ভাবতেন এই ধরনের রেস্টুরেন্ট যদি আমার থাকতো। চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মেনুবারে সর্বাগ্রে  চোখ যেত জুসের উপর । জুস  তৈরি থেকে জুস  টেবিলে পরিবেশন, রেস্টুরেন্টের খুটিনাটি সব কিছুই একসময় তার নখ দর্পণে চলে আসে। নেশায় পেয়ে বসে একজন গ্রাহক থেকে কিভাবে একজন রেস্টুরেন্টের মালিক হওয়া যায়।

‘উঠন্ত মুঠো পত্তনেই চেনা যায়’ যাকে বলে। নিজের একান্ত চেষ্টায় বদলে গেছে দিন। এখন আর অন্যের রেস্টুরেন্টের গ্রাহক নন।  নিজেই অভিজাত চায়নিজ রেস্টুরেন্টের ব্যবসা দিয়েছেন।

এই সফল  রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী তরুণ উদ্যোক্তা আহমেদ আলী খান। চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত এলাকার খুলশী টাউন সেন্টার শপিং মলের চতুর্থ তলায় অবস্থিত গ্রাভি ডাইন লিমিটেড রেস্টুরেন্ট।  ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বর্নাঢ্য আয়োজনে শুরু গ্রাভি ডাইন রেস্টুরেন্টের। এককভাবে এত পুঁজি জোগানো কষ্ট তাই আরও পাঁচজনকে পার্টনার করে নেন এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় । পার্টনারদের মধ্যে কেউ বন্ধু আবার কেউ সিনিয়র ভাই। প্রথম দিকে কষ্ট হলেও অল্প দিনেই তাঁর এই রেস্টুরেন্টের সুনাম ও পরিচিতি সব ভুলিয়ে দেয়।

জানতে চাইতেই আহমেদ আলী খান বলেন, ‘সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রম আর দুর্বার চেষ্টার বিকল্প নেই। লক্ষ্য স্থির রেখে সততা, বিশ্বস্ততা, আন্তরিক সেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। ব্যবসায় গ্রাহক ও ভোক্তাদের আস্থা এবং সেবা-আন্তরিকতা দিয়ে তাঁদের মন জয় করা খুবই জরুরি।  ক্রেতার আস্থা অর্জন সম্ভব হলে ব্যবসায় সফলতা আসবেই। ভোক্তাদের সেই আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই অল্প দিনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পেরেছি।’

আহমেদ আলী খান বলেন, অল্প দিনেই নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে রেস্টুরেন্টের।  জুস ও  বারবি কিউ খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াও  জন্মদিনসহ যেকোনো পার্টির আয়োজনে সেবা দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের।

গ্রাভি ডাইনের আনারসের জুসের খবর এখন সবার মুখে মুখে। অনেকেই বিশ্ময় প্রকাশ করেন জুসটির পরিবেশন দেখে। এ ব্যাপারে অনুভুতি জানতে চাইলে আহমদ আলী খান জানান, ছোট বেলা থেকেই ভিন্ন আঙ্গিকে কিছু করার চিন্তা করতাম। বিশেষ করে যখন রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া হতো তখন চিন্তা করতাম এটি এভাবে পরিবেশন হলে কেমন হতো। এই ফলের স্বাদ ও গন্ধ কিভাবে অটুট রাখা যায় এসব কিছু। মূলত এই রেস্টুরেন্টের স্বার্থক আমার আনারসের জুসকে নিয়েই। মাত্র ১৩০ টাকা দামের আনারস জুসটির লাইভ পরিবেশন ও স্বাদ অল্প সবাইকে আকৃষ্ট করে।

আনারস ছাড়াও তরমুজ দিয়েও তার চিন্তা রয়েছে এই ধরনের ইউনিক টাইপের কিছু করার। গ্রাভি ডাইনের আনারসের জুস ছাড়াও কাজুপাজু, ফ্রুটি ফ্রুটি সবার প্রিয়।

অল্প সময়ে গ্রাভি ডাইন জনপ্রিয়তার পিছনে আর কোন কারণ আছে কি জানতে চাইলে তরুণ এই  রেস্টুরেন্ট পরিচালক বলেন, ‘আমি যখন পড়ালেখা করছি প্রায় একটা বিষয় খেয়াল করতাম। ভালো খাবার, ভালো রেস্টুরেন্টে গিয়ে কিছু খাওয়া সব শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব হতো না। বিষয়টি খুবই পীড়া দিত। তাই ঠিক করলাম আমার রেস্টুরেন্টে এসে  শিক্ষার্থীরা যাতে সে কষ্ট না পায়। সে উদ্দেশ্যেই রেস্টুরেন্টে সবকিছুর অল্প প্রাইজ রেখেছি।  যেহেতু নগরীর এই খুলশী এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই সিংহভাগ শিক্ষার্থীই তাদের এন্টারটেইনমেন্ট সময় এখানে কাটাতে এসে কম মূল্যে যখন তাদের পছন্দের খাবার পাচ্ছে তখন গ্রাভি ডাইনের বিকল্প আর কিছুই তারা চিন্তা করেনা ।

স্বপ্ন দেখেন দেশিয় সবরকম ফলের জুস থাকবে তার গ্রাভি ডাইনে।আনারসের মত করেই পরিবেশন করবেন এসব জুস। একই সাথে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিবেন দেশি ফলকে। আহমদ আলী খান মনে করেন এখান থেকেও দেশ প্রেমে উদ্বুুদ্ধ করা যাবে সবাইকে। শেকড়কে খুজে পাবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

Share.

Leave A Reply