ফটিকছড়ির আল-নূর হাসপাতালে প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু

0 43

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

 মো.বাবুল, ফটিকছড়ি : সিজার করার সময় নবজাতকের মাথা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ অরবিন্দ ও গাইনী চিকিৎসক নোভার এর বিরুদ্ধে। এঘটনায় প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশু দুজনেরই মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফটিকছড়ি উপজেলার আল নূর হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেলু আক্তার (২৬) নামে এক প্রসূতি মাকে ভর্তি করানো হয় আল নূর হাসপাতালে। এসময় তাকে হাসপাতালের চিকিৎসক সিজার করার পরামর্শ দিলে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রসূতি মা ও নব জাতক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শেলু আক্তারের ভাবি বলেন, ‘সার্জন ডাঃ অরবিন্দের কথামত স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে ভর্তি করাই। এর কিছুক্ষণ পরই মা ও নবজাতক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।’ অপারেশনে নোভা নামে একজন গাইনী চিকিৎসকও অংশ নেন বলে জানান তিনি।

এসময় নিহত শেলু আক্তারের স্বামী রহমত উল্ল্যাহ কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পূর্ব ফটিকছড়ির হালুয়াহড়ি ইউনিয়নের তালতলি বাজারে রহমত উল্যাহ স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকেন। গ্রামের একজন দিনমজুর হিসেবে কৃষি কাজ করে থাকেন রহমত উল্যাহ।

মৃত শেলু আক্তারের আরও দুটি সন্তান রয়েছে। এর আগেও তার দুইবার সিজার করা হয়েছে। তৃতীয়বারে এই সিজার করতে গিয়ে মৃত্যু হয়। তবে  শেলুর নিকট আত্নীয় ভাবির অভিযোগ সিজার করার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলা করে নবজাতক শিশুর মাথা কেটে ফেলে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে মা ও শিশুর মৃত্যু হয়।

এদিকে প্রসূতি মা ও শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সামনে উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফটিকছড়ি থানার এ এস আই মোঃ সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছে।

ভুল অপারেশনের বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতালটির ম্যানেজার হাসান সিটিজিনিউজকে জানান, নবজাতক শিশুটি অপরিপক্ক ছিল। এই অবস্থায় সিজার করা যাবে না সতর্ক করা হলেও নিহত প্রসূতির স্বামী সিজার করার সম্মতি দেন। যার  প্রেক্ষিতেই সিজার করা হয়। এতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কোন ধরণের অবহেলা হয়নি ।

কর্তব্যরত চিকিৎসকের  ফোনে  যোগাযোগ করা হলে  ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.