রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নতুন করে চাপ নিতে রাজি নয় সরকার

0 36

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজ ডেস্ক    ::   নির্ধারিত ৩ হাজার একর জায়গা বসতি স্থাপনের মতো উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর রোহিঙ্গা চাপ নিতে রাজি নয় সরকার। যে কারণে গত কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে এখনো আটকে আছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপনের জন্য এখনো উপযোগী করা হয়নি উখিয়ার কুতুপালং এবং বালুখালি শরণার্থী শিবিরের মধ্যবর্তী নতুন আশ্রয় শিবিরটি। কিছু কিছু পাহাড়ে রোহিঙ্গারা নিজেরই বসতি স্থাপন করলেও।

গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যানিটেশন ও খাবার পানির ব্যবস্থা। এসব এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন শেড নির্মাণ করা কথা। এ অবস্থায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে সরকার নতুন শেড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে রোহিঙ্গা নিতে রাজি নয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ নিকারুজ্জামন বলেন, ‘শুধুমাত্র মানবিক কারণ আমরা তাদের নির্ধারিত জায়গায় রাখবো। আমরা চাই না কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসুক।’ এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, ‘যে পথে বিজিবি এবং কোস্ট গার্ডের অবস্থান নেই সেখানে তারা নামার চেষ্টা করছে এবং চলে আসার চেষ্টা করছে।’

নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি। বিশেষ করে সোমবার সকালে উখিয়ার আন্দিমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া হাজা হাজার রোহিঙ্গাকে এখনো নো ম্যানস ল্যান্ডে আটাকে রাখা হয়েছে।

সেই সাথে নাফ নদীতে নৌকা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। সরকারের কঠোর অবস্থানের পরেও মানবিক সহায়তার আকুতি নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের। এক রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, ‘আমাদের পাড়া সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা কিছুই করতে পারি নাই। তাই চলে এসেছি।’ আরেক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমাদের জায়গা জমি কিছুই নাই। রাত হলেই তারা সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়। মা-বোনদের বাঁচাতে তাই চলে এসেছি।’ ধারণা করা হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় বর্তমানে দশ লাখের উপর রোহিঙ্গা রয়েছে।

এরমধ্যে নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যাই ছয় লাখের বেশি। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সীমান্ত কড়াকড়ির কারণে কিছুটা ভিন্ন কৌশল নিয়েছে দালালরা।

তারা এখন মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ছোট ছোট নৌকায় করে নিয়ে আসছে টেকনাফের শাহপরির দ্বীপ। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর পায়ে হেটে তারা চলে আসছে সাবরাং এলাকায়। সেখান থেকে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে।

সিটিজিনিউজ / এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.