ফটিকছড়িতে শাশুড়িকে হত্যার হুমকী,নেপথ্যে পুত্রবধূর পরকীয়া

0 21

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : পুত্রবধূর অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলায় শাশুড়িকে হত্যার হুমকী দিয়েছে পুত্রবধূ ঝিমা আকতার ও পুত্রবধূর কথিত প্রেমিক আলতাব উদ্দিন । পুত্রবধূ  যেখানে  সেবা করবেন শাশুড়ির  সেখানে  নিজ বাড়িতেই ৫৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা শাশুড়ি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। একই সঙ্গে তার ওমান প্রবাসী পুত্র মো: নূর মোস্তফা জুয়েল দেশে ফিরলে তাকেও হত্যা করবে বলেও প্রতিনিয়ত হুমকী দিয়ে যাচেছ কথিত প্রেমিক।

২৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ফটিক ছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের মধ্যম হাইদচকিয়া গ্রামের হাজী রমজান আলী সওদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২০১২ সালের ১৯ শে জুলাই পাইন্দং ইউনিয়নের মধ্যম হাইদচকিয়া গ্রামের হাজী রমজান আলী সওদাগর বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের একমাত্র পুত্র ওমান প্রবাসী মো: নূর মোস্তফা জুয়েলের সাথে ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়ার মাওলানা আসমত উল্লাহ নতুন বাড়ির মো: নোমান প্রকাশ গুরা মিয়ার ২য় কন্যা ঝিমা আকতার(২১) এর সাথে ইসলামের বিধান মতে বিবাহ হয়। বিয়ের তিন চার মাস পর ওমান প্রবাসী মোস্তফা জুয়েল তার মা নুরবানু বেগমের হাতে স্ত্রী ঝিমা আকতারকে দেখভাল করার জন্য বলে প্রবাসে চলে যান। ঠিক দুই তিন মাসের ব্যবধানের মধ্যে স্ত্রী ঝিমা আকতার তার ভাসুর আলতাব উদ্দিন(২৬) এর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।

পরকিয়ার বিষয়টি মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেে অবশেষে ঝিমা আকতার পরকীয়া প্রেমে ধরা পড়ে শাশুড়ির চোখে।
শাশুড়ি নুরবানু পুত্র বধুকে এ সমস্ত অপকর্ম ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু পুত্র বধু শাশুড়ির কোন কথাই শুনতে রাজি নন। অবশেষে শাশুড়ি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে পুত্র বধুর এ সমস্ত অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে পুত্র বধুর কাছ থেকে সমাজের ব্যক্তিবর্গরা একটি অঙ্গীকার নামা নেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্মের সাথে আর লিপ্ত থাকবে না বলে ঝিমা আকতার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।

বধূর পরকীয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রবাসী মোস্তফা জুয়েলের মা নুরবানু সিটিজিনিউজকে জানান, মোস্তফা জুয়েলের আপন জেঠাত ভাই যাকে জুয়েল বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করে সেই বড় ভাই মো: আলতাফ উদ্দিন (২৬) এর সাথে স্ত্রী ঝিমার পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়। প্রবাসী জুয়েলের বাড়িতে ভাই বোন না থাকায় জুয়েলের স্ত্রী ঝিমা সুযোগ পেলেই শ্বাশুরিকে ফাঁকি দিয়ে আলতাফের সাথে অবৈধভাবে মেলামেশা করে।

বিষয়টি প্রবাসী জুয়েলের মা নুরবানু স্থানীয় সমাজের হাজী মো: মাহাবুবুল আলমকে জানালে তিনি উভয় পক্ষের সমাজের ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বৈঠকে বসেন এবং মোস্তফা জুয়েলের স্ত্রী ঝিমা আকতার প্রকাশ্যে বলেন আমি আর কখনো এ ধরনের ভুল করতে রাজি না। আমাকে ক্ষমা করুন।

সর্বশেষ গত ২৪ শে অক্টোবর প্রবাসী মোস্তফা জুয়েলের মা পুত্রবধু ঝিমা আকতারকে বলেন তিনি ডাক্তারের সাথে দেখা করতে যাবেন। এরপর শ্বাশুরি বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে প্রায় চল্লিশ গজ দুরে যেতে পেছনে ফিরে দেখে তার পুত্রবধু ঝিমা বাড়ির পেছনের দরজা খুলে দেখছে শ্বাশুরি চলে গেল কিনা। এমন সময় শ্বাশুরি কতটুকু পথ হেঁটে যাওয়ার পর পেছনে ফিরে তাকালে দেখে পুত্রবধু পিছনের দরজা খুলে বাহিরে দাঁড়ানো। শ্বাশুরি ব্যাপারটি টের পেয়ে প্রায় ত্রিশ মিনিট আড়ালে লুকিয়ে থেকে পুনরায় বাড়িতে ফিরে এসে সমাজের হাজী মো: মাহাবুবুল আলমসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে পুত্রবধুর উকিমারা ব্যাপারটি সন্দেহ করে বাড়ির সামনের দরজার তালা খুলে দেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গদের সামনে প্রকাশ্যে পরকীয় প্রেমিক আলতাফ উদ্দিন সবার সম্মুখদিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এমন সময় উপস্থিত জনগণের সাথে আলতাফ উদ্দিনের মাও সেখানে ছিলেন। ঘটনাটি আলতাফ উদ্দিনের মা স্বচক্ষে দেখে হতভম্ব হয়ে যান।

এদিকে নুরবানু বেগম তার পুত্রবধুর এ ধরনের পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত থাকার এমনকি পুত্রবধুকে অনেক বুঝানোর পরও যখন সঠিকভাবে চলতে অক্ষমতা প্রকাশ করায় তিনি বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ করেন ।

উল্লেখ্য প্রবাসী জুয়েলের স্ত্রী ঝিমা আকতারকে তার শয়ন কক্ষে ইতোপূর্বে চারবার অপ্রীতিকর অবস্থায় অসামাজিক কার্যকলাপে ধরা পড়লে এ ব্যাপারে থানায় এবং স্থানীয়ভাবে শালিশ বিচার হয়। শালিশ বিচারে বিবাদীদ্বয় সুধরে যাবে এবং ভবিষ্যতে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবে একে অপরের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখবে না মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করে স্ত্রী ঝিমা আকতার জুয়েলের সংসারে থাকে।

এ ছাড়া বিগত ০৭/১২/২০১৫ সালে একই বাড়ির মৃত সোলায়মানের পুত্র মো: জাহেদ হোসেন (৩২) প্রেমিক আলতাফ উদ্দিনকে অবৈধ কাজে বাধা দিলে সে তার কয়েকজন অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে জাহেদকে  মারধর করে রক্তাক্ত করে এবং স্বপরিবারকে চিরতরে শেষ করে দিবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে। এ ব্যাপারে জাহেদ ফটিকছড়ি থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। যার মামলা নং: ১৪, তাং ১৩/১২/২০১৫

প্রবাসী মোস্তফা জুয়েলের মাকে পরকীয়া প্রেমিক তার সন্ত্রাসী দল নিয়ে বাড়ি ছাড়া করাবে এবং প্রবাসী জুয়েল দেশে আসলে তাকেও খুন করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এদিকে জুয়েলের বৃদ্ধা মা পুত্রবধূও এইসব অপ্রতিকর কর্মকাণ্ডে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। ভীতিগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন।

সিটিজিনিউজ/ 

 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.