গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে।

0 21

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজ ডেস্ক  ::  ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডারের মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা। বিক্রেতাদের দাবি-অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষা করায় এগুলো নিরাপদ।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর মনে করে, তৈরি বা তদারকিতে দুর্বলতা নয় বরং ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের মন্তব্য-সরকার নিয়ন্ত্রিত একক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষার আওতায় আনলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি আস্থা বাড়বে গ্রাহকদের।

বাসাবাড়িতে প্রায়ই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শিকার।

ঝুঁকির কথা জেনেও কোথাও গ্যাস সংকট, কোথাও সরবরাহ না থাকা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা। রাজধানীর কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময়ই গ্যাস থাকে না।

তাই তাদের অনেকেই গ্যাসের লাইন বাদ দিয়ে সিলিন্ডার ব্যবহারের কথা ভাবছেন। তবে এতে দুর্ঘটনার শঙ্কাও আছে তাদের মধ্যে। শুধু ক্রেতাই নয়, খুচরা বিক্রেতা এমনকি ডিলারদেরও সিলিন্ডারের মান যাচাই ও নিরাপত্তার বিষয়ে নির্ভর করতে হয় বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের ওপরই। ফায়ার সার্ভিস বলছে- একবার পরীক্ষার পর ১০ বছর মেয়াদ থাকলেও অসাবধানতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারের কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে যে কোন সময়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, ‘যে কোম্পানি সরবরাহ করে তারাই এর কোয়ালিটি পরীক্ষা করে। পরবর্তী সময়ে এই সিলিন্ডারগুলোকে কিন্তু অডিটের আওতায় নেয়া হয় না। এগুলোকে প্রতি বছরই কিন্তু অডিট করতে হবে। এজন্য একটা শক্তিশালী রেগুলেটরি কমিটি রাখা উচিৎ।’

বিস্ফোরক পরিদপ্তর জানায়, শুধু সবশেষ পরীক্ষার তারিখ ও মেয়াদ দেখে কেনাটাই সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। চুলা থেকে দূরে খোলামেলা সমতল জায়গায় রাখা, লিকেজ দেখা গলে সাবানের ফেনা দিয়ে পরীক্ষা করা, অযথা চুলা জ্বালিয়ে না রাখা, রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং ভাল্ব ও সেফটি ক্যাপ ব্যবহারসহ অন্যান্য নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ তাদের। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘এই সিলিন্ডারগুলো কিন্তু আন্তর্জাতিক মানে তৈরি করা হয়।

রান্নাঘরগুলো বাতাস চলাচলের জায়গা ছিলো না। গ্যাস বের হয়েছে তারপর সেখানে জমেছে এবং এ থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে। এটার জন্য যেটা দরকার তা হলো সচেতন করা।’

এলপি গ্যাস দুর্গন্ধময় বলে সহজেই তা শনাক্ত করা সম্ভব, তাই লিকেজ পাওয়া গেলে আশপাশের বৈদ্যুতিক উপকরণ বন্ধ এবং আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ ফায়ার সার্ভিসের।
সিটিজিনিউজ / এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.