শতাধিক গাড়ি বহরে কক্সবাজারের পথে খালেদা

0
30

মিয়ানমার সেনাদের নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে চার দিনের সফরে ঢাকা ছেড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় গুলশানের বাসা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এই সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে একই গাড়িতে যাচ্ছেন দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরে আরা সাফা।

সফরসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার গাড়িবহর দুপুরে ফেনী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি করবে। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ সেরে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে রোববার বেলা ১১টায় সড়ক পথে কক্সবাজারে উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বিএনপিনেত্রী। সেখানে সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে সোমবার উখিয়ার বালুখালী, বোয়ালমারা ও জামতলী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

গুলশান থেকে যাত্রা শুরুর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসার পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হচ্ছেন।

“তার (খালেদা জিয়া) এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত আশার সৃষ্টি করেছে, দেশনেত্রী মানুষের জন্যে, মানবতার জন্যে ছুটে যাচ্ছেন কক্সবাজারে, রোহিঙ্গাদের পাশে।”

এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করি, পথিমধ্যে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা পাব। পুলিশ মহাপরিদর্শক আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তারা দেশনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং তার সফর যাতে সুন্দরভাবে হয়, তাতে সহযোগিতা করবেন।”

গুলশান ছাড়ার সময় খালেদা জিয়ার বহরে অর্ধশতাধিক গাড়িতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কয়েক ডজন গাড়ি।

প্রথম দিন গুলশান থেকে ফার্মগেইট, পল্টন, মতিঝিল হয়ে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে কাচপুর এবং এরপর গজারিয়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লার চান্দিনা, ফেনির মহিপাল হয়ে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড পেরিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত কয়েক হাজার নেতাকর্মী খালেদার গাড়িকে ঘিরে এগিয়ে দিয়ে যায়।

যাওয়ার পথে দলের নেতা-কর্মীরা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, সেজন্য জেলা নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নেত্রীকে সামনে থেকে দেখবেন। সেজন্য যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়- সেটাও আমরা নেতা-কর্মীদের নিদের্শ দিয়েছি। তারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাবেন, সংবর্ধনা জানাবেন।”

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ঢল নামলে তাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের দাবিও তিনি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার এই সফরে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে ত্রাণের পরিমাণ বলা যাবে না।

রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে কক্সবাজারের যাওয়ার পথে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে আটকে দেওয়া হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, ‘নিয়ম মেনে’ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের আটকানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সোমবার বিকালে চট্টগ্রামে ফিরে সার্কিট হাউজে রাত কাটাবেন খালেদা। মঙ্গলবার সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

২০১২ সালের জুন মাসের কক্সবাজারের রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার পর কক্সবাজারে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখনও তিনি ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে যানইচ

সিটিজিনিউজি/এইচএম 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here