মূল আসামীদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল

0 48

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি সন্ত্রাসী হামলার মামলায় মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বাদী ও বাদীর পরিবার।

বাদীর অভিযোগ মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিনিময়ে মামলার প্রধান আসামীদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

মামলার বাদী ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসনাত কবীর শাকিল দাবি করেন, অসুস্থ্য মামাকে দেখতে মিরসরাই উপজেলার শেখটোলা ইউনিয়নে নানার বাড়ীতে যান। বিগত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মামার বাড়ীর পাশে জনৈক কাশেম সওদাগরের দোকানের সামনে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়।

হামলায় নেতৃত্ব দেন একই এলাকার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মাতব্বর আলমগীর হোসাইন। দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত ১১ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দা, কিরিচ ও লাঠি নিয়ে অতর্কিতভাবে বাদীর উপর হামলা চালায়। এতে মাথায়,মুখে,পিঠে ও চোখে গুরুতর আহত হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা,একটি দামি মোবাইল কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে বাদী মাটিতে পড়ে যান। এসময় দোকানের লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় হাসনাত কবীর শাকিল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় আলমগীর হোসাইন, মোঃ আবদুল্লাহ(২৪) ও সফর আলীকে (২০)। মামলায় অন্যান্য আসামীরা হল, মোঃ রিয়াজ (২০), রিপন (২৪), জাবেদ হোসেন (২২), সাজ্জাদ হোসেন (২২), মোঃ মামুন (২৪),জামশেদ(২০), সজিব হোসেন ও মোঃ বাবুল (২৪) ।

বিগত ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আদালতের ভারপ্রাপ্ত এডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি  (স্মারক নং- ৬৪৩/১৭) আমলে নেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে মিরসরাই থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

পরবর্তিতে ওসি মাত্র তিনজনকে সাক্ষী করে প্রায় দেড় মাস পর ২২ অক্টোবর (সোমবার) তদন্ত প্রতিবেদন (স্মারক নং ৬৬৭৯/১৭) দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার ১১ আসামীর মধ্যে মূল আসামী ৬জনকেই বাদ দেওয়া হয়। বাকী ৫ জনের বিরুদ্ধে ৩২৩ ধারায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

বাদীর অভিযোগ ১ নং আসামী আলমগীর হোসাইন এলাকায় জুলুবাজ, সন্ত্রাসী প্রকৃতি লোক হয়। টাকার বিনিময়ে জোর পূর্বক মামলা থেকে মূল আসামীদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে থাকেন তদন্তকারী অফিসার ইন-চার্জকে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম মনির সিটিজি নিউজকে জানান, ওসির নির্দেশে মামলার তদন্তে গিয়েছি।

মূল আসামীদের মধ্যে ৬ জনকেই বাদ দেওয়া হয়েছে তদন্ত রিপোর্টে। এটি কি করে সম্ভব ! এমন প্রশ্নের জবাবে এস আই মনির বলেন, ‘উর্দ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।’

বাদীর মাকে নোটিশের হুমকী প্রসঙ্গে এস আই মনির বলেন, আসলে এটি হুমকী নয়। যেহেতু আদালতের সিআর মামলা ছিল তাই দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে গিয়ে নোটিশ পাঠানোর কথা বলেছিলাম। তবে বাদীর মায়ের সঙ্গে উষ্মা প্রকাশ করার বিষয়টি স্বীকার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মনির।

বিষয়টিকে ন্যাক্কারজনক জানিয়ে স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি মোঃ মাসুদ জানান,একটি ছেলে তার নানার বাড়িতে গিয়েছে অসুস্থ্য মামাকে দেখতে। সেখানে কেন তাকে মারধর করবে? এহেন কার্যকলাপে কেউ যদি আইনের ফাঁক ফোকর গলে পার পেয়ে যায় তাহলে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাও আবার আ’লীগের নাম ভাঙিয়ে! কথিত এই গ্রাম্য মোড়ল আলমগীর হোসেন কখনোই আ’লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো না। মনে হচ্ছে মগের মুল্লুক ।এভাবে পার পেয়ে গেলে সে ভবিষ্যতে আরোও বেপরোয়া হবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.