কীটতত্ববিদদের সীতাকুণ্ড পরিদর্শন,চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ১১০

0 26

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সীতাকুণ্ডের মদনহাট জেলেপল্লিতে নতুন করে আরও তিনজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ স্বাস্থ্য বিভাগের। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১০ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম ওই পল্লিতে মশার অভয়ারণ্যের খোঁজ পেয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ঢাকা থেকে নয় সদস্যের একটি কীটতত্ত্ববিদের দল জেলেপল্লি থেকে মশার ওপর জরিপকাজ শুরু করেছে। তারা দেখতে পান জেলে পরিবারগুলো সমুদ্রের লোনা জলের কারণে অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করতে পারে না। তারা বৃষ্টির পানি বড় বড় ড্রামে জমিয়ে রাখেন। এসব পানি ভর্তি ড্রামে কোনো ঢাকনা নেই। স্বচ্ছ পানিতে প্রচুর মশা ডিম পেড়েছে। রীতিমতো প্রজনন উৎসবে মেতেছে মশক বাহিনী।

তিনি বলেন, জেলেপল্লি সংলগ্ন সমুদ্রউপকূলে প্রচুর ধাতব বডির নৌকা রয়েছে। যেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। সেখানেও মশার অভয়ারণ্য হয়ে গেছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, জেলে পল্লিতে সীমানাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে প্রচুর বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলোর খোপের ভেতর বৃষ্টির পানি জমে মশার বংশ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এ ছাড়া বাসার আশপাশেও প্রচুর মশার উপস্থিতি দেখা গেছে।

মশার প্রজনন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে পাড়ার জলদাস সর্দার ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বৃষ্টির পানিভর্তি ড্রামগুলো খালি করে উল্টে রাখা, বাঁশের খোপগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া, বাড়ির আশপাশ ও আঙিনারি ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পানি জমে না থাকে মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জেলেপল্লির বাসিন্দাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব একটি গভীর নলকূল স্থাপন করে দিলে লোকজন বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখবে না। পানির অভাব দূর হবে পল্লির। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) ঢাকার আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের একটি টিম আক্রান্ত ৫০ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে পরীক্ষার জন্য। ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ২৫ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। আশাকরা হচ্ছে তিন-চার দিনের মধ্যে এসব নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন জানান, ১০৫টি পরিবারকে মশারি দেওয়া হয়েছে। তাদের প্যারাসিটামল, এন্টি হিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিকসহ প্রয়োজনীয় সব ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের জ্বর-ব্যথা কমেছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.