সরকারি-বেসরকারি তাগিদে প্রতিবন্ধীদের মূল ধারায় আনার আহবান

0
20

 

নিউজ ডেস্ক::অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সাফল্য কী করে প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও অর্জন করা যায়, সেই পথ খোঁজার তাগিদ এসেছে একটি গোলটেবিল আলোচনা থেকে।

এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের অবস্থার উন্নয়নে সরকারি নীতি বাস্তবায়নের দুর্বলতাগুলো যেমন উঠে এসেছে, তেমনি প্রতিবন্ধীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে একজোট হওয়ার এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন আলোচকরা।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক সোমবার ঢাকার মহাখালীতে এ গোলটেবিলের আয়োজন করে, যার শিরোনাম ছিল ‘প্রতিবন্ধিতা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান’।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী হলেও তাদের একটি বড় অংশের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা যাচ্ছে না চাকরিদাতাদের অনাস্থার কারণে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা কিশোর কুমার সিংহ বলেন, “প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। সেক্ষেত্রে সামষ্টিক পর্যায়ে সরকারি নীতির সঙ্গে বেসরকারি সংগঠনগুলোর কাজের সমন্বয়, সরকারি নীতিকে কার্যকর করা এবং প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বয় দরকার।”

সেই সমন্বয় না হওয়ায় কাজের ঘাটতি থেকে যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারি অফিসে ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধীকে কাজের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও মন্ত্রণালয়গুলোর পরিস্থিতি ‘হতাশাজনক’।

প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য লোক তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তাদের নিয়ে আগ্রহের জায়গা তৈরির উপর জোর দেন কিশোর কুমার।

তিনি বলেন, বার্ষিক পরিকল্পনা, বার্ষিক বাজেট, বার্ষিক প্রকিউরমেন্টসহ সব স্তরে প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি যুক্ত করতে হবে।

প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে তা যেন টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থান সংগঠন ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।ঢাকার মহাখালীতে ব্র্যাকের আয়োজনে গোলটেবিল আলোচনা ‘প্রতিবন্ধিতা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান’

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) নির্বাহী পরিচালক শফিক-উল ইসলাম সরকারি নীতির সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনের একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় আনার লক্ষ্যে সরকারের কিছু নীতি থাকলেও সেগুলো ‘সেভাবে কার্যকর নয়’।

সে কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি ‘ঠিক করা’ এবং দুই দিকের কার্যক্রমে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন শফিক-উল ইসলাম।

ব্র্যাকের এসডিপির প্রোগ্রাম হেড আহমেদ তানভির আনাম প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এ সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগের সারসংক্ষেপ আলোচনায় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৫৩ জন প্রতিবন্ধী তাদের কাছে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৭ সালে এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন ৮৬৭ জন। তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশের চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু এই কর্মসংস্থানের বেশিরভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জানিয়ে তানভির বলেন, “আমরা ফর্মাল সেক্টরে সেভাবে যেতে পারিনি। অনেকটা ইনফর্মাল সেক্টরে সীমাবদ্ধ। ফর্মাল সেক্টরে যাওয়ার জন্য অন্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা আমাদের দরকার।”

সিআরপির শফিক-উল ইসলাম বলেন, ব্র্যাকের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হচ্ছে ঠিক। কিন্তু তা টেকসই করতে ‘ফলো-আপ’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।

এর এ জন্য প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর একটি নেটওয়ার্ক তৈরির আহ্বান জানান অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপারসন মহুয়া পাল।

তিনি বলেন, “আপনারা প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করুন আর আপনাদের উঠান বৈঠকগুলোতে প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। তাহলে আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ উপকৃত হবে।”

প্রতিবন্ধীদের চলাফেরায় কষ্ট আর খরচ বেশি হলেও সুযোগ পেলে তারা কখনও কখনও স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও বেশি দক্ষতা দেখাতে পারে বলে মন্তব্য করেন মহুয়া পাল।

তাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে ব্র্যাকের স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসডিপি) ফিল্ড অপারেশন অ্যান্ড সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট রেজাউল মজিদ বলেন, কাজের অভিজ্ঞতায় তারা দেখেছেন, কাজ থেকে প্রতিবন্ধীদের ঝরে পড়ার হার প্রায় শূন্য, কেননা তারা অনেক বেশি নিয়মানুবর্তী।

“সে কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও বেশি দক্ষ হয় তারা। অর্থ আয়ের ক্ষেত্রেও তারা অন্যদের তুলনায় বেশি করে।”

প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নীতি বাস্তবায়নে এনজিওগুলোকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান ইউসেপ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা আহমেদ।

অন্যদের মধ্যে এডিডি ইন্টার‌ন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম, এসডিপি-ব্র্যাকের প্রোগ্রাম হেড ফারজানা কাশফি, এসডিপির সোশ্যাল ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট মরিয়ম আক্তার গোলটেবিলে বক্তব্য দেন।

 

সিটিজিনিউজ/মাসুদ শেখ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here