মিতু হত্যা মামলা: মুছার ভাই সাকুর জামিন মঞ্জুর

0

নগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার  বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছার ভাই সাইদুল ইসলাম শিকদার ওরফে সাকুকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।

তার পক্ষে জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী দেবু দে; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।
দেবুল দে বলেন, সাইদুলকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দেওয়ার পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ী জমিন দেওয়া হবে না সে বিষয়ে রুল জারি করে রাষ্ট্রপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।

“মামলার এজাহারে সাইদুল ইসলাম শিকদারের নাম নেই। তাছাড়া যারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে তার নাম বলেননি।”

গত বছরের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গতবছর ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে জিইসি মোড়ে গিয়েছিলেন মিতু। মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন সেখানে ছেলের সামনে তাকে প্রথমে ছুরি মারে ও পরে গুলি করে হত্যা করে।
চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানের জন্য আলোচিত বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাবুল আক্তার। চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততাও মিতু হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে অল্প দিনেই সে ধারণা থেকে সরে আসেন তদন্তকারীরা। তবে নানা ঘটনাক্রমে বাবুলকে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

গতবছর ২৬ জুন মো. আনোয়ার ও মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরে বলা হয়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের মূল ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছার নাম বলেছেন। আর হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেন বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত নগরীর বাকলিয়া এলাকার এহেতেশামুল হক ভোলার।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ হত্যাসহ প্রায় ছয় মামলার আসামি মুছা ছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তারের সোর্স। ভোলাকেও স্থানীয় অনেকে বাবুলের সোর্স হিসেবে জানতেন।

পুলিশের ভাষ্য, মুছা এবং তার দুই সহযোগী নবী ও কালু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। এর মধ্যে নবী ও কালু ছুরিকাঘাত করেন বলে জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানিয়েছেন।

পরে বাকলিয়া এলাকা থেকে ভোলা ও তার সহযোগী মনিরকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা পিস্তলটিই মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ওই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ভোলা ও মনিরকে আসামি করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়। মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় ভোলাকেও।

ভোলা ও মনিরকে আসামি করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর গতবছর ২২ নভেম্বর আদালতে এই অস্ত্র মামলার বিচার শুরু হয়।

ভোলা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলের ‘সরবরাহকারী’ মুছার ভাই সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাকু ও মো. শাহজাহানকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর নুরুল ইসলাম রাশেদ ও নুরুন্নবী গতবছর ৫ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

পুলিশের পক্ষ থেকে মুছাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার কথা বলা হলেও তার পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিনের মাথায় মুছাকে বন্দর থানা এলাকায় এক আত্মীয়র বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে গেছে।

মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার গতবছর ৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ২২ জুন বন্দর থানার তৎকালীন ওসি মহিউদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মুছাকে গ্রেপ্তার করেন।

তবে পুলিশ বরাবরই এ দাবি নাকচ করে আসছে। মুছা ও তার সহযোগী কালুর সন্ধান পেতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

 

Share.

Leave A Reply