সম্মাননা স্মারক নিতে মঞ্চে তিন প্রজন্ম

0

নগরীর জিইসি মোড় কনভেনশন সেন্টারে আায়োজিত সেরা করদাতা ২০১৭ এর পুরস্কার নিতে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তফা সঙ্গে আনেন তিন প্রজন্মকে।

হাকিম মোল্লা: সোনার রঙে মোড়ানো চকচকে সম্মাননা স্মারক। তাতে স্বর্ণাক্ষরে খচিত আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তফার নাম। পরিবারের সদস্যদের ধারাবাহিক কর আদায়ের জন্য এই সস্মাননা স্মারক।

হলভর্তি দর্শক আর মিডিয়াকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়। উপস্থাপিকা নাম ঘোষণা করতেই মঞ্চে হাজির তিন প্রজন্ম। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতে তুলে দেওয়া হবে চকচকে সম্মানা স্মারকটি। যিনি গ্রহণ করবেন তিনিও চকচকে জীবনের একজন মানুষ। সঙ্গে সহধমির্ণী আলহাজ্ব জান্নাতুল এবং দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে এসেছেন তার পরিষ্কার জীবনের আলোয় আলোকিত করতে।

এই মানুষটির নাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তফা। বুধবার (০৮ নভেম্বর) নগরীর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সেরা করদাতা হিসেবে পুরস্কার নিতে কক্সবাজার জেলার উত্তর বেরুলিয়া ছড়া এলাকা থেকে এসেছেন তিনি। পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের হাত থেকে এ বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তফার সঙ্গে আসা বড় ছেলে কক্সবাজার সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ সিদ্দিকী বলেন ‘ ছোট বেলা থেকেই বাবার জীবন যাপন আমাদের আকৃষ্ট করে। বাবা পেশায় ব্যবসায়ী হলেও আর্থিক পার্থিব বৈষয়িক চিন্তার উর্ধ্বে থেকে আমাদের গড়ে তোলেন। সততা ও পরিচ্ছন্ন আর্থিক লেনদেনের শিক্ষাই তিনি আমাদের দিতেন।

পরিবারের মধ্যে কর আদায়ের বিষয়টি কিভাবে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শিখেন এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মোস্তফার ছোট ছেলে শাহরিয়ার হুদা বলেন ‘ বছরের বাংলা মাসের প্রথম পহেলা বৈশাখ এলে বাবাকে দেখেছি তড়িঘড়ি করে বাড়ির খাজনা আদায় করতে। বাড়ির অন্য সবাইকেও বলতেন খাজনা দেওয়ার জন্য। যে খাজনা এখন আমরা কর বলে আখ্যায়িত করছি।

আলহাজ্ব মোস্তফার বড় ছেলের সহধর্মীণী ফারহানা সিদ্দিকী বলেন ‘আমাদের পরিবারটি সবসময় লেনদেনের বিষয়ে পরিষ্কার থাকার চেষ্টা করে। লেনদেনে একজন পরিষ্কার মানুষের যেসকল গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সবই আমার শশুরের রয়েছে। যখন দেশে কোন ধরনের কর আদায় নিয়ে সরকারের প্রচারণা শুরু হয়নি তার আগে থেকেই তিনি কর আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। পরিবারের সবাইকে কর আদায় করার জন্য বলতেন। তার এসব আগ্রহ দেখে তখন প্রতিবেশীদের অনেকে বলতেন এতে কি লাভ। আমার শশুর বলতেন লাভ-ক্ষতি বুঝি না। উল্টো তিনি বলতেন আমরা যে কর দেই সেটিই বা জমা রেখে অথবা না দিয়ে আমরাইবা কি করতে পারবো। বরংচ আমার মত সবাই যদি কর দেওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে আসে তাহলে দেশের লাভ হবে। দেশের উন্নয়ন হবে।
দেশকে নিয়ে দেশের উন্নয়নকে নিয়ে যে মানুষটি এভাবে ভাবতে পারে তার হাতে সম্মাননা স্মারকটি তুলে দিতে পেরে মেলা আয়োজরাও খুশি বলে জানান, পুত্রবধূ।

অনুষ্ঠানে আসা ছোট ছেলের সহধর্মীণী সাজজিদা খানম ‘ একজন চকচকে জীবন যাপনের অধিকারী আমার শশুর। চকচকে স্মারকটি এমন চকচকে মানুষের হাতে তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আয়কর মেলা-২০১৭ কমিটি।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তফার পরিবার প্রথমবারের মত এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাই স্মারক গ্রহণের সময়টিতে স্মৃতিচারণ করে রাখতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছিলেন। যেখানে তিন প্রজন্মের তৃতীয় প্রজন্ম নাতি ছোট্ট শিশু রাইয়ান মোস্তফাও ছিল। এক সঙ্গে তিন প্রজন্মকে দেখতে পেয়ে খুশি হন উপস্থিত অতিথি দর্শকরাও।

সারা দেশে এ বছর প্রথম ৮৪ পরিবারকে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর বাহাদুর পরিবারের তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরে (আনুমানিক ৪০ বছর) যেসব পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত কর প্রদান করে আসছে, সেসব পরিবারকে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে মোট ৪টি পরিবার এ সম্মাননা পেয়েছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply