সুপ্র’র আলোচনা সভা:এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন জনবান্ধব কর ব্যবস্থা  

0 14

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রান্তসীমায় অবস্থান করেও বর্তমানে উল্ল্যেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান একটি দেশ। ১৬ কোটি মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০১৬ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ৭.১ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বিরোধী সংগ্রামে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বিগত দশ বছর।

এই সময়ে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এখনো ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অগ্রগতি সত্বেও সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ক্রম-উর্দ্ধমূখী। আয় ও সম্পদ বাড়ছে মুষ্টিমেয় মানুষের। সমাজের প্রান্তিক মানুষের আয় ও জীবনমান কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছেনা। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান “বৈষম্য প্রতিকার ও সবার জন্য সমৃদ্ধি ও কল্যাণ“, যা সরকারী ঘোষনা এবং বৈশ্বিক চুক্তিসমূহে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে নির্দেশ করে।

স্থায়ীত্বশীল উনড়বয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অঙ্গিকার সুস্পষ্ট। প্রয়োজন এসডিজির জন্য অর্থায়ন। এসডিজির অর্থায়নে আভ্যন্তরীন সম্পদ আহরনের গুরুত্ব অনেক বেশী। যদিও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সংহতি ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম শর্ত হিসেবে এসডিজিতে রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত অগ্রগতিহীন ও হতাশাব্যঞ্জক। একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জন-অর্থায়ণ বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনার পূর্বশর্ত। আমাদের জাতীয় বাজেটে সামজিকখাতে অর্থায়ন বিগত বছরসূুহে খুব একটা বাড়েনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ বৈশ্বিক মানদন্ড ও বিদ্যমান অবস্থায় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জন-অর্থায়ণ বাড়ানো। সাংবিধানিক দিক নির্দেশনা সত্বেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক
নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো মৌলিক অধিকারসমূহ সকল নাগরিকের সমান অর্šÍভৃুক্তি নিশ্চিত করা যায়নি।

জাতীয় বাজেটে ন্যুনতম

বরাদ্দ: শিক্ষা খাতে ২০%, স্বাস্থ্য খাতে ১০%, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০% বরাদ্দের প্রয়োজন। কর ব্যবস্থা জন-বান্ধব ও জনমূখী করারক্ষেত্রে স্বচ্ছতাএবংজবাবদিহিতানিশ্চিৎকরে বিদ্যমানআইনকার্যকরীভাবেপ্রয়োগেরমাধ্যমে সম্পদভিত্তিক কর ও উপার্জনভিত্তিক কর বৃদ্ধি করাএবংকর্পোরেট কর অসঙ্গতি কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষ করের আওতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়ানোর সরকারের কাছে দাবী জানানো হয়।

আজ সুপ্র চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক আযোজিত চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিদ্যমান কর ও মূসক সংক্রান্ত “এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন প্রগতিশীল কর সংস্কার” বিষয়ক বিভাগীয় সংলাপে বক্তাগণ উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম পেশাজীবিসমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্তসংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবিহা মুসা এমপি।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোহাং গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর আবিদা আযাদ এবং চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব কামাল উদ্দিন।

সুপ্র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো: আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় উক্ত বিভাগীয় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্র চট্টগ্রাম জলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইপসা এনএসইউ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। উক্ত বিভাগীয় সংলাপে সুপ্র চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা কমিটির সদস্যরাসহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, যুব প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.