হাটহাজারীতে সন্ত্রাসী হামলা,দুই লাখ টাকার মালামাল লুট

0
16
ভরদুপুরে সন্ত্রাসী রেনু চৌধুরীর ঘরে প্রবেশ করে এভাবেই আসবাবপত্র ও ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্র পাশের ধানী জমিতে ছুড়ে ফেলে।

 

হাটহাজারী প্রতিনিধি: দুপুর আনুমানিক দুইটা। খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ষাটোর্ধবয়সী মিলন দাশ(৬০)। হঠাৎ বখাটে কিছু যুবক হামলা চালায় তার উপর। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর আরম্ভ করে। পাশের ধান ক্ষেতে ছুড়ে ফেলা দেওয়া হয় ঘরের বিছানা ও অন্যান্য জিনিসপত্র। এসময় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের তা-বে রক্ষা পায়নি চন্দনগুপ্ত ও রেনু চৌধুরীর ভাড়া বাসার দুই পরিবারও।

তাণ্ডব শেষে সন্ত্রাসীরা ভাড়া বাসায় রক্ষিত প্রায় দুই লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। ক্ষতি করে  প্রায় দেড় লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র। যাবার সময় বলে যায় বিষয়টি থানায় জানালে রাতে এসে খুন করবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে লাশসহ গুম করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।

রোববার (০৫ নভেম্বর) হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম দেওয়ান নগর বারি পাড়ায় মৃত লোকমানের ভাড়াটিয়া ঘরে দিনে-দুপুরে ঘটে যাওয়া এই তাণ্ডবের বর্ণনা দেন রেনু চৌধুরী ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, স্থানীয় বিকাশ চন্দ্র ধর ও মহিবুল হকের নেতৃত্বে ৩/৪ জন অজ্ঞাত উসৃঙ্খল বখাটে যুবক মুখোশ পড়া অবস্থায় মৃত লোকমানের ভাড়াটিয়ার ঘরে জোর পূর্বক প্রবেশ করে তিনটি ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুরসহ বেড বিছানা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ঘরের বাহিরের ধানী জমিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। এমন সময় ভাড়াটিয়া মিলন দাশ (৬০) মুখোশধারী যুবকদের কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই তাকে হাত মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় রেনু চৌধুরী তার ভাড়া বাসায় না থাকার কারণে দরজায় তালা আটকানো ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসী যুবকরা আটকানো তালা ভেঙ্গে রেনু চৌধুরীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এরপরে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা চন্দনগুপ্তের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেও একই ধরনের তা-ব চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় প্রায় ২ (দুই) লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা বলে যায় বিষয়টি থানায় জানালে রাতে এসে খুন করবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে লাশসহ গুম করবে বলে হুমকি দেয়।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ৫ মে মৃত রমেশ চন্দ্র দাশের ছেলে সুনীল চন্দ্র দাশের (৪৮) সঙ্গে প্রদীপ চৌধুরীর স্ত্রী রেনু চৌধুরীর (৫৫) একটি চুক্তিনামা হয়। চুক্তিপত্রে সুনীল চন্দ্র দাশ বিদেশে যাওয়ার আগে তিন লাখ টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে রেনু চৌধুরীর কাছ থেকে। পরে এই টাকার বিনিময়ে জে এল নং- ৩৫ মহাল- ৯০২৬, ৫১ নং তৌজী, আর, এস জরীপের ১১০৭ নং খতিয়ানের ৫৩১৫ নং দাগ এবং বি.এস জরীপের ২১২ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫৬৩৬ নং দাগের আন্দর ২ গন্ডা বা ০৪ শতক জমি গত ০৫/০৬/২০০৮ সালে নোটারী পাবলিক রেজি: নং – ২৮/২০০৮ মূলে নিম্ন তপশীলোক্ত সম্পত্তি বা জমি চুক্তিপত্র হয় এবং উক্ত চুক্তিপত্রের উল্লেখ মতে পাঁচ লাখ টাকার উক্ত তপশীলোক্ত জমির মূল্যের মধ্যে রেনু চৌধুরী উক্ত তারিখে তিন লাখ টাকা নগদে সুনীল চন্দ্র দাশকে প্রদান করেন। এবং চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে যে, সুনীল বিদেশ যাবে, পরবর্তীতে বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর তপশীলোক্ত জমি রেজিষ্ট্রি করে দিবেন। কিন্তু সুনীল বিদেশ থেকে এস উক্ত জমি রেজিষ্ট্রি না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকে এবং রেনু চৌধুরীকে দখলে দেওয়া জমি সুনীল দখল ছেড়ে দিতে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকে। একপর্যায়ে রেনু চৌধুরী জমি দখল না ছাড়ায় সুনীল বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে রেনু চৌধুরীকে দখল দেওয়া জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য খিরাম এলাকার সুধীর চন্দ্র ধরের ছেলে বিকাশ চন্দ্র দাশকে আঁতাত করে।

এরপর থেকে বিকাশ চন্দ্র এলাকার নেশাগ্রস্ত বখাটে যুবকদের নিয়ে রেনু চৌধুরীকে ভয় ভীতিসহ জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে রেনু চৌধুরী স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর তারা পরামর্শ দেন, এ ব্যাপারে থানা প্রশাসনকে অবগত করা প্রয়োজন। কিন্তু রেনু চৌধুরী আর্থিক সংকটের কারণে যথাসময়ে থানা প্রশাসনের কাছে যেতে পারে নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাটহাজারী পৌরসভার দারুস সালাম মার্কেটে ৯ নং দোকানে বিকাশ চন্দ্র দাশের জুয়েলারী দোকানে ব্যবসার রয়েছে। এখান থেকে বিকাশ এলাকার কতিপয় নেশাগ্রস্ত যুবকদের বিভিন্ন লোভ লালসা লেলিয়ে দিয়ে রেনু চৌধুরীকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতে দেখিয়ে তার দখলকৃত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করার পায়তার করছে এবং রেনুকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। অতিসত্ত্বর ঐ জমির দখল না ছাড়লে তার স্বপরিবারে মরতে হবে বলে হুমকি দেয় বলেন রেনু চৌধুরী।

এঘটনায় গত ৫ নভেম্বর রেনু চৌধুরী যে বাসায় ভাড়া থাকেন সে বাসার আসবাবপত্র ভাংচুরসহ প্রায় দেড়লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র ক্ষতিসাধন করে বিকাশ ও মহিবুল হকের সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে রেনু চৌধুরী বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় বুধবার (৭ নভেম্বর) এসডিআর নং: ৩২২৭ একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সিটিজিনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here