আপন কন্যাকে খুন করে রাজমিস্ত্রি খোরশেদ 

0

হাকিম মোল্লা:  ২ বছর পূর্বের ক্লু-বিহীন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) গ্রেফতারের পর ১০ বছরের আপন শিশু কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

ঘাতক মোঃ আলী খোরশেদ  ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট,দৌলতপুর গ্রামের মোঃ ফারুক আহাম্মদ মিয়ার ছেলে।

এসআই মোঃ আবু ছালেক সিটিজিনিউজকে জানান, ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশানর এএএম হুমায়ুন কবির এর সঙ্গে আলোচনা করে মামলাটি গুরোত্বের সঙ্গে তদন্তকাজ চালান।
গত ১০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ ০২ বছর আগের ক্লু-বিহীন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সহ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুর্লিশ। ঘটনার বিবরণে জানা যায় ১৪/১০/২০১৫ তারিখ গার্মেন্টস কর্মী রুমা আক্তার প্রায় ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নগরীর উত্তর কাট্টলী শান্ত নীল চৌধুরী বাড়ি মাজেদার কলোনীস্থ ভাড়া ঘরে রেখে প্রতিদিনের মত সকাল ৮টায় ডিউটির জন্য গার্মেন্টস চলে যায়। ওই দিন দুপুর ১টায় তাকে ফোনে জানায় তাহা মেয়ে ঘরের টিনের চালের বাঁশের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রুমা আক্তার ঘরে এসে মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত সহ লাশের ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর শাহ্ থানার অপমৃত্যু মামলা রুজু করেন।

পরবর্তীতে গত ২৬/১১/২০১৫ তারিখ লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর পর্যালোচনায় দেখা যায় লাশের ময়না তদন্তকারী ডাক্তার মতামত দেন তার উপর ভিত্তি করে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার এসআই/জসীম উদ্দীন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন যাহার নং-১৮(১১)২০১৫ ধারা-৩০২/৩৪। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মামলাটিকে গুরুত্ব প্রদান করে মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও মামলার ঘটনার সহিত জড়িত প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতারে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপর ন্যাস্ত করেন।

বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করলেও বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবু ছালেক ভিকটিমের পিতার দ্বিতীয় বিয়ের সূত্র ধরিয়া তদন্তে অগ্রসর হন এবং ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশানর এএএম হুমায়ুন কবির এর সহিত ডকেট সহ আলোচনা করেন।

তাদের দিক নির্দেশনায় এরই ধারাবহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিমের পিতা হত্যাকারী মোঃ আলী খোরশেদ অবস্থান জেনে গতকাল শুক্রবার (১০ নভেম্বর)   অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) এএএম হুমায়ুন কবীর, পুলিশ পরিদর্শ প্রিটন সরকার সহকারে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানা এলাকা থেকে খোরশেদ’কে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ননা করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ধৃত আসামী খোরশেদ রাজ মিস্ত্রির কাজ করতো এবং উত্তর কাট্টলী এলাকায় বসবাস করতো। ভিকটিমের মাতা রুমা আক্তার গার্মেন্টসে চাকুরী করতো এবং একই এলাকায় বসবাস করতো। দুজন ভালোবেসে ২০০৫ সালে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের ঘরে ভিকটিম কন্যা সন্তান উম্মে সালমা রুমা জন্মগ্রহন করে। ২০১১ সালে ভিকটিমের পিতা মোঃ আলী খোরশেদ দ্বিতীয় বিয়ে করলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং এ নিয়ে ১ম স্ত্রী রুমা আক্তারের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি হতো।ঘটনার কিছুদিন পূর্ব থেকে খোরশেদ এর হাতে কোন কাজ কর্ম না থাকায় সে বেকার হয়ে পড়ে। হাতে কোন টাকা পয়সা না থাকায় ঘটনার পূর্বের দিন গত ১৩/১০/২০১৫ তারিখে সে তাহার প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার এর বাসায় গিয়ে টাকা পয়সা দাবী করলে রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন সকাল ৮টায়  রুমা আক্তার কোন রান্না-বান্না না করে গার্মেন্টসে ডিউটি করার জন্য চলে যায়। আসামী খোরশেদ রাতে রুমার বাসায়  থেকে সকালে খাওয়ার জন্য কিছু না পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঘরে বসে থাকে। তার কাছে কোন টাকা না থাকায় সে কিছু ক্রয় করে  খেতেও পারে না।  এ অবস্থায় মেয়ে ভিকটিম উম্মে সালমা রীমা (১০) নাস্তার জন্য টাকা চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে তাকে সজোরে আঘাত করলে উম্মে সালমা রীমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ চেষ্টার পরও ভিকটিমের জ্ঞান না ফেরায় সে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে নিজেকে রক্ষার  জন্য ঘরে রাখা  প্রথম স্ত্রীর ওড়না প্যাঁচাইয়া রুমার ভাঁড়া ঘরের টিনের চালের নিচের বাঁশের সাথে লাশ ঝুলিয়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে রুমার প্রতিবেশীরা হত্যাকারী খোরশদের এর মোবাইল ফোনে তার মেয়ে আত্মহত্যা করার খবর জানাইলেও সে আর বাসায় ফিরে না এসে  প্রথমে কুমিল্লা ও পরে সন্ধীপ চলে  যায়।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

Share.

Leave A Reply