বোয়ালখালীতে আইমানের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা

0

বোয়ালখালী প্রতিনিধি : বোয়ালখালীতে নিখোঁজের দু’দিন পর আইমান হক কায়েপ (৫) এর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এটি হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

আইমানের মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য রবিবার (১২ নভেম্বর) মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। নিহত আইমান বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব গোমদন্ডী দরপপাড়া বদরুছ মেহের চেয়ারম্যান বাড়ীর এজাহারুল হকের ছেলে।

বৃহস্পতিবার(৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আইমান ঘর থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি দাবি করে পরদিন শুক্রবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন আইমানের চাচাতো ভাই মো. শওকত হোসাইন। এর একদিন পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে আইমানের বাড়ির রান্নাঘরে তার লাশের সন্ধান মেলে।

আইমানকে জ্বীনে মেরে রান্না ঘরে রেখে গেছে বলে দাবি করেন পরিবার সদস্যরা। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী আবু।

তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মর্গে প্রেরণ করেছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমাংশু কুমার দাস রানা।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী জ্বীনের কান্ড কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘জ্বীন কেন একটা শিশুকে মর্মান্তিক ভাবে হত্যা করবে। হলেও তা জানতে চাই পুলিশ। ঘটনার আলামত ও সম্ভাব্য তথ্য উপাত্তকে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে আইমানের মৃত্যু হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জানিয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।

তিনি জানান, লাশের উপরের অংশ কালচে রঙ ধারণ করে, নাকে মুখে রক্তের দাগ রয়েছে, জিহ্বা বের হয়েছিল আর মলদ্বার ছিলো অস্বাভাবিক। এছাড়া শরীরের পচন ধরে দূর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

প্রতিবেশিরা জানান, আইমানের পিতা চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। আইমানের বড় চাচা পরিবার নিয়ে পৃথক বসবাস করলেও বাকিরা যৌথভাবে থাকেন। আইমানের পিতা এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন ও চাচারা সবাই প্রবাসী। আইমানের পিতা এজাহারুল হক গত ৩০ অক্টোবর দ্বিতীয় সন্তানের জনক হন। এ নিয়ে আনন্দে মেতেছিল পরিবারটি। আইমান নিখোঁজ ও অতপর মৃত্যুর ঘটনায় ম্লান হয়ে যায় সব আনন্দ আয়োজন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply