আইরিশ সংগীতজ্ঞ নিজের পদক ছাড়লেন সু চির নীরবতার কারনে

0 20

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক       ::   মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নির্যাতনের সময় নীরব ভূমিকা পালন করায় দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে আয়ারল্যান্ডের প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব বব গেলডফ নিজের পদক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।গেলডফ তাঁর সম্মানসূচক যে ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একই পদক সু চিকে দিয়েও সম্মানিত করেছিল ডাবলিন শহর।

গত মাসে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল ১৯৯৭ সালে দেওয়া সু চির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাহার করে নেয়।এক বিবৃতিতে বব গেলডফ বলেন, ‘আমাদের শহরের সঙ্গে সু চির সম্পৃক্ততা রয়েছে, এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জার। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধনের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।’‘আমরা সু চিকে সম্মানিত করেছিলাম, আর এখন তিনি আমাদের লজ্জিত করেছেন’, বলেন এ সংগীতজ্ঞ।বব গেলডফ লাইভ এইড নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থারও প্রতিষ্ঠাতা।

বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যার প্রতিবাদের স্থানীয় সময় সোমবার ডাবলিনে সিটি হল কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেবেন।গুণী এই সংগীতজ্ঞের পাশাপাশি আরেকটি আইরিশ ব্যান্ডদল ইউ টু এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রীর সমালোচনা করেছে। তাঁরা রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা বন্ধ করতে সু চিকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বিপদ সংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে গত দুই মাসে ছয় লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যারা কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ ক্যাম্পে হামলার জের ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে।

সেখান থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, গ্রামের পুরুষদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে সেনাবাহিনী আর নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সেনাবাহিনী সেখানে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছে বৌদ্ধ মগরাও।বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির এ ঘটনা রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘দেশহীন জনগোষ্ঠীতে’ পরিণত করেছে। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি’ উদাহরণ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে।

সিটিজিনিউজ/আই.এস

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.