বাতাসে পাকা আমনের ঘ্রাণ

0 29

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আমন ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন নড়াইলের কৃষকরা। হেমন্তের চনমনে বাতাসে পাকা আমন ধানের বাসনায় মৌ মৌ করছে গ্রামীণ প্রান্তর থেকে আপামর জনপদ। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। কৃষকের আঙ্গিনাজুড়ে সোনালি ধানের ছড়াছড়ি। সবকিছু মিলিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান। তবে মণপ্রতি ধানের দাম কমে গেছে দেড়শ’ থেকে দুশ’ টাকা। এ নিয়েই শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

নড়াইল সদর উপজেলার জুড়ালিয়া গ্রামের নয়ন ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে প্রতি মণ নতুন ধান সাড়ে সাতশ’ থেকে আটশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিমণ ধান ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি বছর অতি বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষকের ধান পানিতে ডুবে গিয়েছিল। এছাড়া গত অক্টোবর মাসে লোহাগড়া উপজেলার আমাদার বিল চাচুড়ীসহ নোয়াগ্রাম, নলদী, কাশিপুর, লাহুড়িয়া, শালনগর, সদর উপজেলার চণ্ডিবরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে কমপক্ষে দুইশ’ একর জমিতে বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে আড়াই দিনের টানা বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়ায় ১৬শ হেক্টর জমির আধা-পাকা রোপা আমন ধান এবং ১২০ হেক্টর জমির সবজি ও মসলা জাতীয় শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি জেলার মাছের ভাণ্ডার বলে খ্যাত লোহাগড়ার বাড়িভাঙ্গা খাল এবং সদরের হাড়িভাঙ্গা খাল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য একটি চক্র কয়েকদিন স্লুইস গেট বন্ধ করে দেয়। এতে বিলের পানি দ্রুত অপসারণ না হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের আমন, রবি এবং বোরো আবাদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নড়াইল সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের কৃষক রহমান ফকির (৫৭) বলেন, ‘এবার দেড় একর জমিতে চিকন ক্ষীরকোণ এবং মোটা মাছরাঙ্গা ধানের চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। তবে প্রকৃত দাম পাবো কিনা সেটাই আশঙ্কা। কারণ এখনই ধানের দাম পড়তে শুরু করেছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৪০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন এবং ৫ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এবার চিকন ধান ব্রি-৩৯, বিনা-৭, পাইজাম, মিনিকেট, ক্ষীরকোণ, বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের চিকন ও মাঝারি চিকন ধান এবং মোটা ধান দীঘা, ঢ্যাঁপো, গুটি স্বর্ণা (স্থানীয় নাম হরি, হাবু, পান্না) ধান চাষ করেছেন।

কৃষি অধিদফতরে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এবার ৮৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা যায়, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.