রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে

0

নিউজ ডেস্ক  ::  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে হওয়া একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেখানে এই সংকটের কোনোরকম দায় নিজেদের ঘাড়ে নেয়নি সেনারা।

প্রতিবেদনে কোনো রোহিঙ্গাকে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিবিসির প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনের কিছু চিত্র পেয়েছেন। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে বাহিনীটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দূর করার চেষ্টা বলে মনে করছে।

এর আগেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনকে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আসছিল।

কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশে কড়াকড়ি আছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি সফরে রাখাইনে গিয়েছিলেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি জোনাথন হেড। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে পুলিশের সঙ্গে বৌদ্ধ পুরুষদেরও অবস্থান করতে দেখতে পান।

চলতি বছরের আগস্ট থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। রাখাইনের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে চালানো অতর্কিতে হামলার জের ধরে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

তাদের অত্যাচারে আহত বা বুলেটবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে এবং নির্বিচারে হত্যা করতে শুরু করে।

তবে ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জানায়, তারা নিরীহ কোনো গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালায়নি, নারীদের প্রতি কোনো সহিংস আচরণ করেনি, তারা সাধারণ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার, মারধর বা হত্যা করেনি।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে মূল্যবান সামগ্রী বা গবাদিপশু লুটের বিষয়টিও অস্বীকার করে সেনাবাহিনী। মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া বা সাধারণ মানুষের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধও করেনি বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী।

এসব সন্ত্রাসীর ভয়েই লাখো মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বোঝাই যায় যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা নেই।

এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। এদিকে, রাখাইন রাজ্যের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর এক জেনারেলকে বদলি করা হয়েছে। তবে তাঁর বদলির কারণ হিসেবে কিছু জানানো হয়নি।
সিটিজিনিউজ /এসএ

Share.

Leave A Reply