‘বয়স সতের বনাম যুব গেমস দুই হাজার আঠারো’

0 31

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

হাকিম মোল্লা : ১৭ বছর বয়স। এ বয়সেই অহরহ বিরাট দুঃসাহসেরা উঁকি দেয়। বিপদের মুখে যে বয়স অগ্রণী ভূমিকা রাখে,যে বয়স নতুন নতুন কিছু করে। সে বয়সকে মাদক, ব্যভিচার, অপসংস্কৃতি, জঙ্গি হওয়া থেকে রক্ষার জন্য আমাদের আর বসে থাকা চলবে না এবার আমাদেরও কিছু করার পালা।’

সাদামাটা ভঙ্গিমায় কথাগুলো যখন তিঁনি বলছিলেন সেখানে ছিলো ক্ষোভ, মনোবেদনা,আকাঙক্ষা। আর এসমস্ত কিছুর পেঁছনে জড়িয়ে ছিল দেশপ্রেম। দেশমাতৃকার টানে নিজেকে উজার করে দেওয়া।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে থাকা ক্রীড়া সংগঠকদের কড়া সমালোচনা করে জেলা প্রশাসক মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মনে রাখবেন বয়স সতের আর বাংলাদেশ যুব গেমস দুই হাজার আঠারো একই সুতোঁয় গাথা। যুব এই গেমসে আন্তরিকতার পরিচয় না দিতে পারলে পদ থেকে সরে যান। এই পদে থাকাটা নৈতিকতার শামিল নয়।

প্রথমবারের মত বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)’র তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮- এ প্রত্যেকটি ডিসিপ্লিনে চট্টগ্রাম জেলার খেলোয়াড় যাতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের কৃতিত্ব অর্জন করে সে বিষয়ে ইঙ্গিত করে এ কঠোর নির্দেশনা দেন।

গেমসটি বাংলাদেশের তৃণমূল হতে তরুণ-তরুণী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও কৃতি খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার একটি সুযোগ তৈরি করবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্ব স্ব ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কোর কমিটির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় হতে শুরু করে জেলা পর্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ যুব গেমস্-২০১৮ আয়োজনের জন্য সকল পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করন গেমসটি সাফল্যমণ্ডিত ভাবে আয়োজনের ব্যাপারে সকলের মতামত সন্নিবেশিত করে একটি নির্দেশিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ যুব গেমস’-এক নতুন উদ্যোগ। সঠিক ভাবে শুরু করে যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়, তাহলে হয়তো উপকৃত হতে পারে দেশের ক্রীড়াঙ্গণ। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন’র উদ্যোগে অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের তরুণ ও তরুণীদের নিয়ে দেশ ব্যাপী মোট ২১টি ডিসিপ্লিনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ডিসিপ্লিনগুলো হলো: ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, কারাতে, তায়কোয়ানডো, দাবা, বাস্কেটবল, হকি, শ্যুটিং, টেবিল টেনিস, স্কোয়াশ, কুস্তি, জুডো, উশু, ভারোত্তোলন, মুষ্টিযুদ্ধ ও আরচ্যারী। প্রথমে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এভাবে চুড়ান্ত প্রতিযোগিতা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আগামী ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বর এবং তার আগেই ১৪টি উপজেলার ক্রীড়া সম্পন্ন করা হবে। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বিভিন্ন ডিসিপ্লিন উপ-কমিটির চেয়ারম্যান, সম্পাদকের সাথে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক মতবিনিময় সভা ১৮ নভেম্বর (শনিবার) বিকেলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ও সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও সিজেকেএস সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সিজেকেএস সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদারের পরিচালনায় মতবিনিময় সভার আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার ও সিজেকেএস সহ–সভাপতি নুরে আলম মিনা, সিজেকেএস সহ–সভাপতি এ্যাড. শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, মো. হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিজেকেএস নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাঁতার ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য আছলাম মোরশেদ, সিজেকেএস নির্বাহী কমিটির সদস্য যথাক্রমে আবুল হাশেম, আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল, অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, তানভীর আহমেদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার জসীম উদ্দিন, রেজিয়া বেগম ছবি, জেলা ক্রীড়া অফিসার মনোরঞ্জন দে সহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ, বিভিন্ন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকগণ, সিজেকেএস’র বিভিন্ন উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সম্পাদকগণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্দেশনামূলক বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন ‘ কোন ভাবে পার করে দিলাম এই মানুষিকতা রাখা যাবে না। তৃণমূলে আমাদের যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। যুব গেমস ২০১৮ হবে সেই সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করার উর্বর জায়গা। এই ধরণের আয়োজন হয় না বলেই প্রতিভাগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না।’

প্রধান অতিথি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর এই যুব গেমস্ আয়োজন করা হবে। এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত খেলোয়াড়গণও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বেশি সংখ্যাক ডিসিপ্লিন চট্টগ্রামের মত আর কোন জেলা আয়োজন করে না। এবারও ৩১টি ডিসিপ্লিনের আয়োজন হয়। ১৭ বছরের মধ্যে যাদের বয়স তারা এই গেমসে অংশ নিতে পারবেন। ’

এসময় প্রধান অতিথি প্রত্যেকটি উপজেলাকে কমপক্ষে পাঁচটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিতে বাধ্যতামূলক ঘোষণা দেন। বলেন, ক্রিড়া সৃষ্টি করলে সুপ্ত প্রতিভা বের হয়ে আসবে। জাতীয়ভাবে তাদের পরিচয় করাতে হবে। এই দায়িত্বটিই আমাদের পালন করতে হবে।

চীনের প্রসঙ্গ টেনে এনে আলোচনা সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক ও সিজেকেএস’র সভাপতি মোঃ জিল্লুর রমহান চৌধুরী বলেন,‘ নিজের চোখে দেখেছি স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা কিভাবে পুরস্কার জিতে নিচ্ছেন। একটির পর একটি পুরস্কার প্রাপ্তি দেখে আমি সেদিন অবাক হই। আমার দেশের ছেলে- মেয়েরা কেন এমন হয় না।

আলোচনার এক পর্যায়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকদের জন্য ফ্লোর ওপেন করে দিলে তারা আলোচনায় অংশ নেন। এসময় তারা তৃণমূলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠান আয়োজন করার বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বক্তব্য রাখেন। তবে বাংলাদেশ যুব গেমস ২০১৮ কে স্বফল ও কৃতি খেলোয়াড় প্রাপ্তিতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন ‘ ক্রীড়া সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনা ও কর্মকতাদের অবস্থান করার জন্য অনেক উপজেলাতেই কোন কার্যালয় নেই। খোদ আমার উপজেলাতেও কোন কার্যালয় নেই। এই কার্যালয় উপজেলা ছাড়িয়ে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের করাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

ক্রীড়া এই সংগঠকের বক্তব্যকে গুরোত্বেও সঙ্গে বিবেচনা করে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলাতে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রত কার্যালয় স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক জিল্লুর রমহান। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ বন্যা দূর্গত এলাকা যেমন কুৃড়ি গ্রাম যদি এতো প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেও ১৯টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিতে পারে সেখানে চট্টগ্রামকে ২১টি ডিসিপ্লিনেই অংশ নিতে হবে। এসময় জেলা প্রশাসক যোগ করে বলেন ‘ চট্টগ্রামের মানুষেরা তো গরুর গোশত বেশি খায়। মেজবান মানেই বিস্তর গরুর গোশত খাওয়া। এই গোশত খেয়ে যে চর্বি শরীরে হয়েছে সেটিকে ঝড়াতেও তো এই খেলাধুলায় মনোযোগ বাড়ানো দরকার। আমরা কেন কুড়িগ্রাম থেকে পিছিয়ে থাকবো।

আলোচনায় অংশ নেন পটিয়ার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইজ্ঞিনিয়ার জসিম উদ্দীন। তিনি বলেন, উপজেলার আইন শ্খৃলা কমিটির মাসিক সভায় আমাদের ডাকা হয় না। এডিবির ৫% পর্যন্ত আমাদের যদি বরাদ্দ করে তাহলে তৃণমূলে খেলাধুলাকে আরোও বেশি উজ্জীবিত করা যাবে। এডিবির এই ৫% বরাদ্দ আলাদা খরচ করতে হবে। মাদ্রাসা পর্যন্ত আমাদের যেতে হবে। প্রতিভা অন্বেশন করতে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে টুর্নামেন্ট করতে হবে। মাঠ সংস্কার ও ইকুইপমেন্ট দরকার। এগুলো সরবরাহ করতে হবে।

ক্রীড়া এই সংগঠকের বক্তব্য ইতি টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, এগুলো সব হবে। এসময় তিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আপনার আপনাদের উপজেলার মধ্যে অবস্থিত কমপক্ষে ৫-৭জন বিত্তশালীর তালিকা আমাকে দেবেন। আপনারা কথা বলবেন। তাদের ডোনার করার ব্যপারে। প্রয়োজনে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের নাম্বার আমাকে দিবেন। প্রয়োজনে আমি কথা বলবো। আমাদের ছেলে মেয়েদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে যা যা প্রয়োজন সবই করতে হবে। মাদকের ভয়ানক ছোবল থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে দুই হাত পাতবেন। আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হবে। তাদের মাঠমুখী করতে হবে। মাদকমুখী নয়। যেভাবে মাদক আগ্রাসন বেড়েছে তাতে মনে হয়েছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা মাদক নেশায় এগিয়ে। দেশব্যাপী এই বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ আমাদের তরুণ-তরুণীদের ক্রীড়ায় এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন,‘ কমপক্ষে ৮-১০ পর্যন্ত এডিবি বরাদ্দ দেওয়া দরকার। এসময় মাননীয় জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্রীড়া এই সংগঠক বলেন, আমার উপজেলা সীতাকুণ্ডে এডিবি বরাদ্দ দেওয়া হয় কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়। এটি খুবই কষ্টের সংবাদ। উপজেলা পর্যায়ে একজন ক্রীড়া কর্মকর্তার প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা বলেন ‘ ২১টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে কমপ্রচলিত খেলাই রয়েছে ১১টি। এগুলো বিভিন্ন উপজেলার ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কিনা জানতে চান।

এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান অতিথি আ.জ.ম নাছিল উদ্দীন বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি ডিসিপ্লিনেরই প্রশিক্ষক রয়েছে। এতে কোন সমস্যা হবে না।

নব্য ঘোষিত উপজেলা কর্ণফুলীর নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ব্যানার্জী বলেন ‘ এখনোও তার উপজেলাতে কোন ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় নি। তাই এটি করার অনুমতি চান। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা প্রশাসক নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ব্যানার্জীকে উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ঘোষণা করে বলেন এখন সাধারণ সম্পাদক আপনি নির্বাচিত করবেন।

রাউজান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজ্জাক বলেন ‘ রাজস্ব থেকে টাকা খরচ করার ব্যবস্থা করে দিলে ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে আমাদের খরচের কোন সমস্যা হবে না। এসময় তিনি উপজেলাতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের উপর মহিলা ও পুরুষ প্রশিক্ষক খুবই দরকার হয়ে পড়েছে বলে জানান।

এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সিজেকেএস সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার বলেন, উপজেলাতে যদি এক কোটি টাকার একটি ডিপোজিট করা যায় তাহলে সেই ডিপোজিট থেকে লাভের একটি অংশ বছরের বিভিন্ন সময় ক্রীড়া চর্চায় খরচ করা যেতে পারে বলেও ধারণা দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এডিশনাল এসপি বলেন, ‘ বিভিন্ন বিভাগের মেয়রদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র মেয়রই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক। সে ক্ষেত্রে আমরা অনেক ভাগ্যবান। খেলধুলার জন্য এই ধরণের আসর এই সময়ের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এই আসরকে কেন্দ্র করে সবধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এখন শুধু প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। আর যেহেতু অনেক মানুষের অংশ গ্রহণ সে ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ তৎপর আছে তৎপর থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ যেহেতু আমরা বুক ফুলিয়ে বলি আমাদের চট্টগ্রামের মত আর কোন জেলা এতো গুলো ডিসিপ্লিনিতে অংশ নিতে পারে না । সে ক্ষেত্রে আমাদের যে কোন উপায়ে সকল প্রতিবন্ধকতাকে পদদলিত করে প্রথমবারেরমত এই আসর বাংলাদেশ যুব গেমস্-২০১৮ কে স্বাফল্যমণ্ডিত করতে হবে। চট্টগ্রামের প্রাপ্তি ঘটাতে হবে। তা না হলে আমাদের চরম লজ্জানক অবস্থায় পড়তে হবে। এসময় প্রধান অতিথি প্রতিশ্রতি ব্যক্ত করে বলেন, যে কোন ধরণের লজিস্টিক সাপোর্ট আমি দেবো আপনাদের। কোন ভাবেই পিঁছপা হওয়া যাবে না। এটা আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গঠিত কমিটি । কমিটির আওতায়ি যে যুব গেমস অনুষ্ঠিত হবে এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো- দেশব্যাপী উদীয়মান তরুণ-তরুণীদের খেলাধূলায় অধিক অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করা। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবানর খেলোয়াড়দেও খুঁজে বের করা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থানকে সমুন্নত করা।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাংলাদেশ যুব গেমস্-২০১৮ এর সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান ও এসবিপি,এনডিসি,পিএসসি জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক প্রধান নির্বাহী এবং সাংগঠনিক সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। এছাড়াও অন্যান্য উপকমিটির দায়িত্বে আরও ৬জন পূর্ণমন্ত্রী, চারজন সচিব এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ রয়েছেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.