দুই বছরে চসিকের উন্নয়ন কাজে ব্যয় এক হাজার কোটি টাকা

0

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ২৮ তম সাধারণ সভা ২০ নভেম্বর  সোমবার দুপুরে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভায় নির্বাচিত পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অফিসিয়্যাল কাউন্সিলরসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

চসিক সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সাধারন সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও মোনাজাত করা হয়।

সভায় সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম এর রোগমুক্তি, বিগত সাধারণ সভার পর নগরীতে মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্মার মাগফেরাত এবং চট্টগ্রামসহ দেশ ও জাতির উন্নতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

শুরুতে ২৭ তম সাধারণ সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন ও স্থায়ী কমিটি সমূহের কার্যবিবরনী আলোচনান্তে অনুমোদন করা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তিনি বলেন, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে পৌরকর আদায় হয় মোট দাবীর ৩৩.২৯%। মোট টাকা ১১২ কোটি ২৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৪৩৫ টাকা, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে পৌরকর আদায় হয় মোট দাবীর ২৯.৭৬%। মোট টাকা ১০৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। অথচ দুই বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মেয়র বলেন, এসব অর্থ সরকার, জাইকা, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও বিএমডিএফ থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ব্যয় ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য বিষয়। সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিএমডিএফ ফান্ডের ১৫০ কোটি টাকায় ফইল্ল্যাতলী বাজার, বকশির হাট, ফিরিঙ্গীবাজারকে স্বাস্থ্যবান্ধব কিচেন মার্কেট এবং ২৭নং ওয়ার্ডে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ করতে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুর ব্যাংক মার্কেট সহ বিদ্যমান মার্কেট সমূহের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন এবং ভাড়াবৃদ্ধি করে সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে ৫৮ কি. মি. রাস্তা এলইডি লাইটিং এর আওতায় আনা হচ্ছে।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে আজ পর্যন্ত ৩৮৩টি প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এ সকল কাজের পেছনে ৮৯ কোটি ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা ব্যয় হবে। তিনি বলেন, সাগরিকার রোড থেকে এ কে খান হয়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এতে ১৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিবিরহাট গরুর বাজারের জায়গাকে আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে কাজে লাগানো হবে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নগরীর উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে সরকার এর কাছ থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে ৭১৬ কোটি টাকা, ১২০ কোটি টাকা, বিএমডিএফ এর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা, জাইকার মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা প্রকল্প সুবিধা পাওয়া গেছে। আগামী একনেক সভায় ৬০৪ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। ফলে নগরবাসী সাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে এবং নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। তিনি নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সম্মানিত নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, যার যার সামর্থ অনুযায়ী সকলে নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলে নাগরিক সেবা আরো বৃদ্ধি করার সম্ভব হবে।

পৌরকর প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন পঞ্চবার্ষিকী পৌরকর পুনঃমূল্যায়ন কার্যক্রম বিষয়ে এ যাবত ৩০৬১টি আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০৯জন হোল্ডারকে নামমাত্র ৫১ টাকা ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। এ সকল হোল্ডারদের ধার্যকৃত ভেল্যু থেকে গড়ে ৭০.৮০% ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে সকল আপত্তিকারক সন্তুষ্টি চিত্তে ঘরে ফিরে গেছে। এ প্রক্রিয়ায় আপিল রিভিউ বোর্ডের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা করেন, এ বিষয়ে সকল ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে।

সভায় মাদারবাড়ী, পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহ বেশকয়েকজন কাউন্সিলর এলাকার মাদক নিরাময়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ এর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান।

এছাড়াও তারা এলাকায় মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে বিট পুলিশিং এর বিতর্কিত লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

 

Share.

Leave A Reply